ঢাকা, শনিবার 30 June 2018, ১৬ আষাঢ় ১৪২৫, ১৫ শাওয়াল ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

ক্ষমতাসীন আ’লীগের বিদায়ের কাউন্টডাউন শুরু হয়েছে -রিজভী

স্টাফ রিপোর্টার : ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সরকারের বিদায়ের কাউন্টডাউন শুরু হয়ে গেছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। গতকাল শুক্রবার সকাল সোয়া ১১টায় নয়াপল্টন কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সাংবাদিক সম্মলনে তিনি এ মন্তব্য করেন। সরকারের উদ্দেশ্যে রিজভী বলেন, যত কূট-কৌশলই করা হোক না কেন খালেদা জিয়াকে মুক্তি এবং সংসদ ভেঙে নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে আগামী জাতীয় নির্বাচন দিতে হবে। অন্য পথ অবলম্বন করলে জনগণ আপনাদের সঠিক পথে আসতে বাধ্য করবে। তিনি বলেন, আগামী জাতীয় নির্বাচন থেকে দূরে রাখতেই প্রহসনের আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সাজা দিয়ে খালেদা জিয়াকে কারাবন্দী করে রাখা হয়েছে। এটি বর্তমান সরকারের মাস্টারপ্লানেরই অংশ। রিজভী অবিলম্বে খালেদা জিয়ার নিঃশর্ত মুক্তি ও সুচিকিৎসার দাবি জানান।
রিজভী বলেন, দেশের নির্বাচনের প্রচলিত সংস্কৃতিকে কলুষিত করে শেখ হাসিনার গণতন্ত্রবিনাশী ভোট ডাকাতির সর্বশেষ লেটেস্ট মডেলের নির্বাচন গাজীপুরে অনুষ্ঠিত হলো। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সরাসরি সহায়তায় আওয়ামী লীগ গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে আরেকটি প্রতারণার নির্বাচন উপহার দিলো। এই নির্বাচন নিয়ে নির্বাচন কমিশন ও আওয়ামী লীগ তৃপ্তির ঢেকুর তুললেও দেশে-বিদেশে এটি কলঙ্কিত নির্বাচনের আরেকটি ইতিহাস হয়ে রয়ে গেল। ভোট কেন্দ্র দখল করে সিল মারার দৃশ্য আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম বিবিসিসহ দেশের বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শত শত কেন্দ্রের ছবি ও ভিডিও ভাইরাল হয়ে গেছে। অথচ নির্বাচন কমিশন জিসিসি নির্বাচনকে শান্তিপূর্ণ ও সুষ্ঠু হওয়ার ‘সার্টিফিকেট’ দিয়ে ভোট ডাকাতিকেই প্রশ্রয় দিলো।
গাজীপুর সিটি নির্বাচন প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগ নেতাদের বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেন, মনে হয় মিথ্যার হ্যাচারিতেই যেন আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের জন্ম। রিজভী বলেন, শেখ হাসিনার গণতন্ত্রবিনাশী ভোট ডাকাতির সর্বশেষ মডেলের নির্বাচন হয়েছে গাজীপুরে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সরাসরি সহায়তায় ভোট কেন্দ্র দখল করে সিল মারার দৃশ্য গোটা বিশ্বে ভাইরাল হয়ে গেছে। গাজীপুর ও খুলনার ভোট ডাকাতি দেখে ভবিষ্যতে ভোটাররা নির্বাচনের প্রতি আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছে।
তিনি বলেন, ভোটের দিন ভোট কেন্দ্রের চারশো গজের মধ্যে কোন জনসমাগম না থাকার কথা থাকলেও সারা গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন জুড়ে সকল কেন্দ্রে হাজার হাজার বহিরাগত আওয়ামী ক্যাডার অবস্থান নিয়ে এবং কেন্দ্রে প্রবেশ করে লাইন ধরে নৌকা প্রতীকে সিল মারে। মহিলা কেন্দ্রেও পুরুষ ঢুকে নৌকায় সিল মারার হিড়িক দেখা যায়, গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সেসব ছবি ও ভিডিও ভাইরাল হয়ে গেছে। বহু ভোট কেন্দ্র থেকে ভোটারদের পিটিয়ে বের করে দিয়ে কেন্দ্র খালি করে আওয়ামী ক্যাডারদের ঢুকিয়ে নৌকায় দেদারসে সিল মারার সুযোগ করে দিয়েছে নির্বাচনে দায়িত্বরত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। ভোটকেন্দ্র দখল, জালভোট প্রদান, কেন্দ্র থেকে বিএনপি এজেন্টদের তুলে নেয়া, মারধর করে বের করে দেয়া, এজেন্ট ঢুকতে না দেয়া, এজেন্টদের গ্রেফতার করা, নির্বাচনের আগের রাত থেকে বিএনপি নেতাদের বাড়ি বাড়ি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ঢুকে হানা দেয়া, গ্রেফতার করা, এলাকাছাড়া করা, কেন্দ্রে গেলে তাদের ওপর হামলা ও গ্রেফতার করাসহ এমন কোন পদ্ধতি নেই যা গাজীপুর ইলেকশনে প্রয়োগ করা হয়নি।
তিনি বলেন, উচ্চ আদালতের নির্দেশ উপেক্ষা করে ভোটের দিনেও বিএনপি নেতাকর্মীদের গ্রেফতার করা হয়েছে। কেন্দ্রে কেন্দ্রে বিএনপির এজেন্টদের মারধর করে বের করে দেয়া হয়েছে। যারা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ভোট কেন্দ্রে ছিলেন, তাদের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তুলে নিয়ে গেছে। এদের অনেককে কারাগারে পাওয়া গেছে। আবার বেশকিছু নেতাকর্মীর কোনো হদিসই পাওয়া যাচ্ছে না।
ওবায়দুল কাদেরের উদ্দেশে বিএনপির এই নেতা বলেন, আপনারা বাংলাদেশের নির্বাচনী ব্যবস্থাকে ধ্বংস করে জনগণের সঙ্গে যে উপহাস ও তামাশা করছেন, তার জবাব দিতেই হবে। আপনাদের বিচার আর বেশি দিন বিলম্ব হবে না। প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শে নির্বাচন ও ভোটকে জাদুঘরে পাঠানোর সকল বন্দোবস্ত করে জনগণের সঙ্গে প্রতারণার চরম মূল্য দিতে হবে সিইসিকে।
এক প্রশ্নের জবাবে রিজভী বলেন, দেশনেত্রী গুরুতর অসুস্থ। এজন্যই চিকিৎসকদের পরামর্শে গতকাল বৃহস্পতিবারও তাকে আদালতে হাজির করা হয়নি। কিন্তু, এতকিছুর পরও সরকার তার চিকিৎসার ব্যবস্থা করছে না।
রিজভী বলেন, বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া গুরুতর অসুস্থ থাকায় তাকে আদালতে হাজির করা হয়নি। বেগম জিয়ার গুরুতর অসুস্থতার কারণে কারা চিকিৎসকরা তাকে আদালতে হাজির না করার পরামর্শ দেয়, সেজন্য পুলিশ তাকে হাজির করেনি-যা গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। সুতরাং দেশনেত্রী বেগম জিয়া যে গুরুতর অসুস্থ, এটি সুস্পষ্ট। এরপরেও এখন তাকে চিকিৎসা দেয়ার ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি সরকার। বারবার দেশনেত্রীকে তার উপযুক্ত চিকিৎসা হয় এমন হাসপাতাল অর্থাৎ ইউনাইটেড হাসপাতালে চিকিৎসার জোর দাবি জানানো হলেও এখনও পর্যন্ত সরকার ও কারা কর্তৃপক্ষ কোন ব্যবস্থা নেয়নি। বেগম খালেদা জিয়ার ব্যক্তিগত চিকিৎসক’রা দেশনেত্রীর সঙ্গে দেখা করে এবং স্বাস্থ্যগত অবস্থা দেখে যেসব সুপারিশ করেছেন সেসব বিষয়ে কারা কর্তৃপক্ষ কারাবিধির ঠুনকো অজুহাত দেখিয়ে আইনমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীরা দেশনেত্রীকে সুচিকিৎসা নিতে বাধার সৃষ্টি করছে। অথচ বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তাঁর দলের নেতারা কারাগারে থাকাকালীন সময়ে বেসরকারী হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন বারবার।
আমি ওবায়দুল কাদের সাহেবের উদ্দেশে বলবো- আপনারা বাংলাদেশের নির্বাচনী ব্যবস্থাকে ধ্বংস করে জনগণের সঙ্গে যে উপহাস ও তামাশা করছেন তার জবাব জনগণের নিকট দিতেই হবে। জনগণের ভোটাধিকার হরণ করার অপরাধে আপনাদের বিচার আর বেশী দিন বিলম্ব হবে না। প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শে নির্বাচন ও ভোটকে জাদুঘরে পাঠানোর সকল বন্দোবস্ত করে জনগণের সঙ্গে প্রতারণার চরম মূল্য দিতে হবে সিইসিকে।
এসময় রিজভী ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক কাজী আবুল বাশারের বাসভবনে হামলা, বাসার ভাড়াটিয়াদের অবিলম্বে বাসা ছেড়ে দেয়ার হুমকিসহ বাসার লোকজনদের সাথে অশালীন আচরণের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ