ঢাকা, শনিবার 30 June 2018, ১৬ আষাঢ় ১৪২৫, ১৫ শাওয়াল ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে চীনের সহযোগিতার আশ্বাস

স্টাফ রিপোর্টার : বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়ে থাকা রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে ফিরিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে চীন সরকারের পূর্ণ সহযোগিতার আশ্বাস পাওয়ার কথা জানিয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলছে, গতকাল শুক্রবার বেইজিংয়ে চীনা পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই’র সঙ্গে পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলীর  বৈঠকে এই আশ্বাস দেওয়া হয়।
মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া ১১ লাখ রোহিঙ্গার দুর্দশার চিত্র পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাহমুদ আলী ওই  বেঠকে তুলে ধরেন। তিনি বলেন, এই রোহিঙ্গারা রাখাইনে তাদের অভিজ্ঞতার কারণে আতঙ্কে ভুগছে। এ কারণে প্রত্যাবাসনের আগে তারা তাদের পূর্ণ নিরাপত্তার নিশ্চয়তা চায়। তারা কোনো ক্যাম্পে যেতে রাজি নয়, তারা নিজেদের গ্রামে ফিরে যেতে চায়। তারা যাতে সেখানে নিজেদের জীবিকার ব্যবস্থা নিজেরাই করতে পারে, তা অবশ্যই নিশ্চিত করতে হবে।
রাখাইনে মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর দমন-পীড়নের মুখে গত আগস্ট থেকে এ পর্যন্ত সাত লাখের বেশি রোহিঙ্গা পালিয়ে বাংলাদেশে এসেছে। এর আগে বিভিন্ন সময়ে পালিয়ে আসা চার লাখের বেশি রোহিঙ্গা রয়েছে বাংলাদেশে।
মিয়ানমার যাতে রাখাইন রাজ্যে দ্রুত সেই অনুকূল পরিবেশ তৈরি করে, সে বিষয়ে বৈঠকে চীন সরকারের সহযোগিতা চান মাহমুদ আলী।
জবাবে চীনা পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, দ্রুত প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে চীন পূর্ণ সহযোগিতা দিয়ে যাবে। রাখাইনে তাদের পুনর্বাসনের জন্য গৃহ নির্মাণ ও জীবিকার সুযোগ তৈরির জন্যও চীন কাজ করবে।
পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের সময় চীনের স্টেট কাউন্সিলর ওয়াং ই আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমকে জানান, বৃহস্পতিবার তিনি মিয়ানমারের স্টেট কাউন্সিলর দফতরের মন্ত্রী কিয়াও টিন্ট সোয়ে’র সঙ্গে বেইজিংয়ে সাক্ষাৎ করেন। এসময় রোহিঙ্গা প্রত্যাবর্তনের প্রক্রিয়ার ব্যাপারে তাদের কথা হয়।
ওয়াং ই বলেন, আমি দৃঢ়ভাবে মনে করি, বাংলাদেশ থেকে রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে মিয়ানমার এরই মধ্যে প্রস্তুতি নিয়েছে। আমরা সত্যিই প্রত্যাবর্তন প্রক্রিয়া দেখতে চাই। বিশেষ করে প্রথম পর্যায়ের প্রত্যাবর্তনের প্রক্রিয়া যত দ্রুত সম্ভব দেখতে চাই। তিনি আরও বলেন, চীন এ ব্যাপারে সহযোগিতা করবে এবং যৌক্তিক ভূমিকা রাখবে। মিয়ানমারে ফিরে যাওয়া রোহিঙ্গাদের জন্য চীন আবাসন নির্মাণ করেছে। বাংলাদেশেও তাবু নির্মাণ ও মানবিক সহযোগিতার হাত বাড়িয়েছে চীন। বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের কঠোর পরিশ্রমের মাধ্য দিয়ে প্রত্যাবর্তন প্রক্রিয়া খুব দ্রুত শুরু হবে বলে মনে করি।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, ২০১৬ সালে চীনা প্রসিডেন্টের বাংলাদেশ সফরের সময় দুই দেশের যে যৌথ ঘোষণা এসেছিল, তা বাস্তবায়নের অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হয় দুই পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বৈঠকে। ওই সফরে দুই দেশের মধ্যে যেসব প্রকল্প বাস্তবায়নের চুক্তি হয়েছিল, তার অগ্রগতি নিয়েও তারা আলোচনা করেন।
শিগগিরই এসব প্রকল্প চূড়ান্ত করে সম্ভাব্য দ্রুততম সময়ের মধ্যে তা বাস্তবায়নের জন্য বৈঠকে চীনা পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সহযোগিতা চান মাহমুদ আলী। এর বাইরে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক বিনিময়ের মত দ্বিপক্ষীয় স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়েও তাদের মধ্যে আলোচনা হয়।
দুই পক্ষই বৈঠকে একমত হয় যে এ অঞ্চলের সামগ্রিক অগ্রগতির জন্য দুই দেশের উচ্চ পর্যায়ে নিয়মিত আলোচনার পাশাপাশি দুই দেশের জনগণের মধ্যে অব্যাহত যোগাযোগ প্রয়োজন।
এবারের চীন সফরে ওয়াং ইর সঙ্গে বৈঠক করার আগে চীনের ভাইস প্রেসিডেন্ট ওয়াং চিশানের সঙ্গেও বৈঠক করেন মাহমুদ আলী। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ আর্থ-সামাজিকসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে যে অগ্রগতি দেখিয়েছে, সে বিষয়ে চীনা ভাইস প্রেসিডেন্টকে তিনি অবহিত করেন।
ওয়াং চিশান বাংলাদেশের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে তার দেশের আগ্রহের কথা বৈঠকে জানান। বাংলাদেশের জন্য চীনের সহযোগিতা অব্যাহত রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়ে দুই দেশের সম্পর্ক আরও এগিয়ে নেওয়ার ইচ্ছার কথা বলেন তিনি।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ