ঢাকা, শনিবার 30 June 2018, ১৬ আষাঢ় ১৪২৫, ১৫ শাওয়াল ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

পেঁয়াজ-মরিচের ঝাঁজ বাড়ছে

স্টাফ রিপোর্টার : চালের বাজারে অস্থিরতা শুরু হয়েছে। সপ্তাহের ব্যবধানে কেজি প্রতি ২ থেকে ৩ টাকা বেড়েছে সব ধরনের চালের দাম। তবে মোটা চালের দাম বেড়েছে বেশি। বিক্রেতারা বলছেন, চাতাল থেকে দাম বাড়িয়ে দেওয়ায় বাধ্য হয়ে চালের দাম বাড়িয়েছেন তারাও। আমদানি করা চালের উপর শুল্ক আরোপ করায় এর প্রভাব দেশীয় চালে পড়েছে বলে মনে করছে ব্যবসায়ীরা। এদিকে কাঁচা বাজারে কাঁচা মরিচ ও পেঁয়াজের দাম বাড়ছে অস্বাভাবিক হারে। সেইসাথে বেশকিছু সবজির দামও বেড়েছে।
গতকাল শুক্রবার রাজধানীর বিভিন্ন বাজার থেকে জানা গেছে, মোটা চাল মান ভেদে ৪০ থেকে ৪৮ টাকা ও চিকন চাল ৫৮ থেকে ৬২ টাকা দরে বেচাকেনা হচ্ছে। চাল বিক্রেতারা বলছেন, বন্যার পর গড় ৬ থেকে ৭ মাসে চালের দাম যেটুকু কমেছিল গত এক মাসে চালের দাম আবার কিছুটা বেড়েছে। এদিকে আমদানি করা চালের উপর শুল্ক প্রত্যাহার করা হয়েছিল। কিন্তু বাজেটে আমদানিকৃত চালের উপর শুল্ক নির্ধারণ করায় এর প্রভাব চালের বাজারে পড়েছে।
গত বছর বন্যার সময়ের চালের বাজার পরিস্থিতি নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, বন্যার আগে মোটা চালের কেজি ছিল ৩৪ থেকে মান ভেদে ৩৮ টাকা ও চিকন চালের কেজি ছিল ৪০ থেকে ধরন ভেদে ৪৪ টাকা। বন্যার পর মোটা চালের দাম বৃদ্ধি পেয়ে ৫৮ থেকে ৬৪ টাকাতে উঠে। আর চিকন চাল ৬৫ থেকে মান ভেদে ৭০ টাকায় উঠে। কিন্তু ক্ষতি সামাল দিতে যে পরিমাণ চাল আমদানি হয়েছে তাতে চালের দাম কমার কথা থাকলেও আগের দামে আর ফিরে আসেনি।
গতকালের বাজারে মোটা স্বর্ণা চালের দাম কেজি প্রতি ৪০ থেকে ৪৮ টাকা। যা গত সপ্তাহে ছিল ৩৮ থেকে ৪২। পাইজাম ৫০ থেকে ৫২ টাকায় বিক্রি হলেও আগের সপ্তাহে এই চালের দাম ছিল ৪৮ থেকে ৫০ টাকা। নাজিরশাইল ৬০ থেকে ৬২ টাকা এবং মিনিকেট বিক্রি হচ্ছে ৬৬ টাকা দরে।
এদিকে রাজধানীর কাঁচা বাজারে অস্বাভাবিক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে কাঁচা মরিচের দাম বেড়েছে। ৫০-৬০ টাকা দরের কাঁচা মরিচ বিক্রি হচ্ছে ১০০-১২০ টাকা কেজি। আর পেয়াঁজের দামও কেজি প্রতি বৃদ্ধি পেয়েছে ৫-১০ টাকা। প্রতি কেজি দেশী পেয়াঁজ বিক্রি হচ্ছে ৪৮-৫০ টাকা আর আমদানি করা পেয়াঁজ বিক্রি হচ্ছে ৩৫ টাকা দরে। সবজির মধ্যে টমেটোর দাম বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ১০০ টাকা  কেজি। এ ছাড়াও আরো বেশকয়েকটি সবজির দাম বেড়েছে। প্রতি কেজি শসা বিক্রি হচ্ছে ৫০ টাকা, বেগুন ৬০ টাকা, কচুর লতি ৬০ টাকা, টমেটো ১০০ টাকা, করলা ৫০ টাকা, কাকরোল ৭০ টাকা, ঢেঁড়স ৫০ টাকা, পেঁপে ৩০ টাকা, বরবটি ৫০-৫৫ টাকা। সবজি বিক্রেতারা বলছেন, বর্তমানে সবজির মৌসুম না হওয়ায় আমদানি কম। এতে প্রতিদিনই দাম বাড়ছে। এজন্য সবজির দাম বেশি বলে জানিয়েছে বিক্রেতারা।
রাজধানীতে মাছের বাজারে দেখা গেছে, হঠাৎ বেড়েছে সব ধরনের মাছের দাম। এতে মিশ্র প্রতিক্রিয়া রয়েছে ক্রেতা ও বিক্রেতাদের মধ্যে। সপ্তাহের ব্যবধানে প্রকারভেদে প্রতি কেজি মাছ ৩০ থেকে ৩০০ টাকা পর্যন্ত বেশি দরে বিক্রি হচ্ছে। মাছের বাজারে দেখা গেছে প্রতি কেজি চিংড়ি হরিণা ৭০০ থেকে ৭৫০ টাকা, বাগদা চিংড়ি ৭০০ থেকে এক হাজার টাকা, গলদা চিংড়ি এক হাজার ১০০ টাকা থেকে ১৪০০ টাকা, ইলিশ এক কেজি ওজনের প
তি পিস ২৫০০ টাকা, ৮০০ গ্রাম ওজনের প্রতি এক জোড়া ইলিশ ২৬০০ টাকা, ৬০০ গ্রাম ওজনের এক জোড়া ইলিশ ১৬০০ টাকা, রুই বিভিন্ন (ছোট-বড়) সাইজের প্রতি কেজি ৩০০ থেকে ৬০০ টাকা, শিং মাছ প্রতি কেজি ৬০০ থেকে এক হাজার টাকা, দেশি মাগুর প্রতি কেজি এক হাজার টাকা, টেংরা প্রতি কেজি ৮০০ টাকা, পাবদা ৭০০ টাকা,  কৈ ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা, দেশি কৈ প্রতি কেজি এক হাজার টাকা, পাঙ্গাস প্রতি কেজি ১৫০ টাকা, তেলাপিয়া ১৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
মাছের দাম বৃদ্ধির কারণ হিসেবে বিক্রেতারা জানান, এখন অনেক জেলায় বন্যার কারণে পাইকারি বাজারে মাছ সংকট। বাজারে অল্প পরিমাণ মাছ আসায় দাম বেশি। পাইকারি বাজারে দাম বেশি তাই খুচরা বাজারেও বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে বলে তারা জানান।
বাজারে প্রতি ডজন ফার্মের মুরগির ডিম বিক্রি হচ্ছে ৯০ টাকায়, দেশি মুরগির ডিম ডজন ১৪০ টাকা, হাঁসের ডিম প্রতি ডজন ১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। মুরগি (ব্রয়লার) প্রতি কেজি ১৭০ টাকা লেয়ার বিক্রি হচ্ছে ২২০ টাকা কেজি দরে। এছাড়া গরুর গোশত বিক্রি হচ্ছে ৫০০ টাকা থেকে ৫২০ টাকায়।  তবে মুদি পণ্যের দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ