ঢাকা, শনিবার 30 June 2018, ১৬ আষাঢ় ১৪২৫, ১৫ শাওয়াল ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

কোটার ভর্তি নিয়ে ভিকারুননিসায় তুলকালাম

স্টাফ রিপোর্টার : ভিকারুননিসা নূন স্কুল এন্ড কলেজে কোটার শিক্ষার্থী ভর্তি নিয়ে তুলকালাম কা- ঘটেছে। বোর্ড থেকে পাঠানো কোটার শিক্ষার্থী স্কুল কর্তৃপক্ষ প্রথমে ভর্তি করতে অপারগতা প্রকাশ করে। পরে ভর্তি নিলেও তাদের মূল ক্যাম্পাসের পরিবর্তে অন্য শাখায় ক্লাসের জন্য শিফট করার ঘোষণা দেয়। এ নিয়ে অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়ে। প্রতিবাদে অভিভাবক ও শিক্ষার্থীরা গত বৃহস্পতিবার বিক্ষোভ করেন।
জানা গেছে, নীতিমালা অনুযায়ী চলতি বছর কলেজের সব আসনে মেধার ভিত্তিতে ভর্তির জন্য অনুমোদন দেয়া হয়। তৃতীয় তালিকা থেকে কোটার শিক্ষার্থী আলাদাভাবে পাঠানো হয়। কিন্তু তাদের অতিরিক্ত আখ্যা দিয়ে প্রথমে কলেজ কর্তৃপক্ষ ভর্তি করাতে চায়নি। গত বৃহস্পতিবার ভর্তির শেষ দিন হওয়ায় শিক্ষার্থীদের অনেকে বোর্ডে গিয়ে অভিযোগ জানায়। পরে বোর্ডের চাপে ভর্তি করা হলেও মূল ক্যাম্পাসে রাখা হবে না বলে কলেজ থেকে জানানো হয়েছে। শিক্ষার্থীরা জানায়, এরপরই তারা ফুঁসে ওঠে। বিক্ষোভ করে। তারা জানায়, আমরা ভর্তি হয়েছি মূল ক্যাম্পাসে অথচ বসুন্ধরায় ক্লাস করতে বলা হচ্ছে। আমরা তা মানব না। মূল ক্যাম্পাসে আমাদের রাখতে হবে। প্রয়োজনে সবাই মিলে আন্দোলন করব। এ বিষয়ে কলেজ অধ্যক্ষ নাজনীন ফেরদৌস বলেন, নির্ধারিত আসনের চেয়ে অতিরিক্ত ১৩৮ শিক্ষার্থীকে বোর্ডের তালিকায় মনোনীত করা হয়েছে। মূল ক্যাম্পাসে এসব শিক্ষার্থীকে বসতে দেয়া অসম্ভব। তাই অতিরিক্তদের ভর্তিতে আপত্তি জানানো হয়। কিন্তু বোর্ড থেকে ভর্তি করতে বলায় তাদের ভর্তি করা হয়েছে। তিনি বলেন, যে শাখায়ই হোক তা তো ভিকারুননিসা। তাই সেখানে ক্লাস-পরীক্ষা নিতে আপত্তি থাকার কথা নয়। প্রতি বছর আমরা একটি বা দুটি সেকশন চালু করে থাকি। এবারও তাদের জন্য বসুন্ধরা শাখায় বাড়তি দুটি রুমের একটি সেকশন বাড়ানো হবে।
তবে অভিভাবকরা বলছেন, তারা সন্তান ভর্তি করেছেন ভিকারুননিসার মূল ক্যাম্পাসে। ক্লাসও সেখানে করানোর কথা। কিন্তু তাদের সন্তান বসুন্ধরা শাখায় পাঠানো হচ্ছে। বসুন্ধরা নতুন শাখা, সেটার অনুমোদন নেই। ভালো কোনো শিক্ষকও নেই সেখানে। তাই তারা সেখানে যেতে চাচ্ছেন না। টেলিফোনে কয়েকজন অভিভাবক আরও জানান, অধ্যক্ষ শনিবার পর্যন্ত সময় নিয়েছেন। এর মধ্যে যদি আমাদের সন্তানদের মূল ক্যাম্পাসে সুযোগ দেয়া না হয়, তবে আবারও আন্দোলন শুরু করা হবে। এ ব্যাপারে অধ্যক্ষ বলেন, বসুন্ধরা শাখার অনুমোদন রয়েছে। এটি আমাদের চারটি শাখার একটি। তাই সেখানে তাদের শিফট করা হবে। আজ শনিবার এ বিষয়ে সভা করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।
ভিকারুননিসার ভর্তির অনিয়ম নিয়ে ঢাকার সাংবাদিক খোমেনী এহসান তাঁর ফেসবুক পোস্টে লিখেন, ভিকারুন্নেসা কলেজে গ্রামের মেয়েদের ভর্তিতে ঝামেলা করতেছেন শিক্ষকরা। এ রকম একটা খবর একটি শিক্ষা বিষয়ক অনলাইনে দেখলাম। এটি অস্বাভাবিক কোনো ঘটনা না। ঢাকায় যেকয়টি বর্ণবাদী উপদ্বীপ রয়েছে তার মধ্যে ভিকারুননিসা একটি। এখানে গ্রামের মানুষদের প্রতি অবজ্ঞা দেখানো একটি স্বাভাবিক ব্যাপার। কিন্তু এই সমস্যার সমাধান করতে হলে আমাদের কিছু বিষয় বিবেচনায় নিতে হবে। ভিকারুননিসার শিক্ষকরা ঢাকার নিম্নমধ্যবিত্ত। এখানে পড়াশোনা করা সংখ্যাগরিষ্ঠ মেয়েরাও ঢাকার আর্থ সামাজিক পরিস্থিতি বিচারে নিম্নমধ্যবিত্ত পরিবারেরই সন্তান। তুলনামূলক গ্রামের যেসব মেয়েরা ঢাকায় পড়তে আসে তারা মফস্বলের আর্থ সামাজিক পরিস্থিতি বিচারে উচ্চ মধ্যবিত্ত ও উচ্চবিত্ত পরিবারের সন্তান। কাজেই ভিকারুননিসার শিক্ষকদের নাক সিঁটকানোর ব্যাপারটা বর্ণবাদী ঠাটবাট ছাড়া আর কিছুই নয়। এদেরকে সরকার চাইলে ধমক দিয়ে ঠিক করে দিতে পারে। ধরেন যেসব শিক্ষক ‘গ্রাইম্যা’ বলে মেয়েদের প্রতি বর্ণবাদ করেছে তাদের ঘেটি ধরে ভিকারুননিসা থেকে বের করে দিলেই সমস্যার সমাধান হয়ে যায়। আমাদেরকে বুঝতে হবে যে বাংলাদেশে বর্ণবাদের কোনো বর্ণবাদী ভিত্তি নেই, কারণ এদেশের বর্ণবাদীরা কেউ সাদাবর্ণের না এবং অর্থবিত্তের বিচারেও তারা আম জনতার চেয়ে এগিয়ে নেই। যাদের পয়সা ঠনঠন করে, স্রেফ বরাদ্দ দেওয়া সরকারি প্লট-ফ্ল্যাট কেড়ে নিলে ও তাদের অবৈধ আয় বাজেয়াপ্ত করলে তাদের অবস্থা বস্তিবাসীর চেয়ে বড় কিছু না। কাজেই বর্ণবাদী দাবিদারদের শখ মিটায়ে দিতে হবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ