ঢাকা, শনিবার 30 June 2018, ১৬ আষাঢ় ১৪২৫, ১৫ শাওয়াল ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

দক্ষ জনশক্তি না থাকায় বিদেশীরা হাতিয়ে নিচ্ছে বিপুল পরিমাণ অর্থ

ইবরাহীম খলিল : দেশে কাঙ্খিত দক্ষ জনশক্তি সৃষ্টি না হওয়ায় বিদেশীরা দেশ থেকে হাতিয়ে নিচ্ছে বিপুল পরিমাণ অর্থ। দক্ষ জনশক্তির অভাবে প্রতিবছর কয়েকশ’ কোটি ডলারের সম পরিমাণ অর্থ চলে যাচ্ছে দেশের বাইরে। গবেষণা বলছে, দক্ষ জনশক্তির অভাবের সুযোগ নিয়ে বাংলাদেশে সবচেয়ে বেশি ঢুকছে পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতের লোকজন।
দুই বছর আগের হিসেবেই তারা প্রতিবছর ৫০০ কোটি ডলারের বেশি নিয়ে যাচ্ছে। এরপরের অবস্থানে রয়েছে শ্রীলংকা। এরপরে রয়েছে চীন, কোরিয়া ও ফিলিপাইনের লোকজনও। অভিযোগ রয়েছে বিদেশীরা এদেশে উচ্চ মূল্যে চাকরি করে হাতিয়ে নেয় বিপুল পরিমাণ অর্থ। সেইসাথে করও ফাঁকি দেয় তারা। এরপরও তাদের কঠিন কোনো শাস্তি পেতে হয় না।
সংশ্লিষ্টদের মতে, বাংলাদেশের বিভিন্ন বহু জাতিক কোম্পানি, গার্মেন্ট, ওষুধ কোম্পানি কিংবা অন্যান্য প্রতিষ্ঠানে বর্তমানে কাজ করছেন অনেক বিদেশী নাগরিক। এসব কর্মীর মধ্যে শীর্ষে আছে ভারত ও শ্রীলঙ্কার নাগরিকরা। এরপরে পাকিস্তান, ফিলিপিন, কোরিয়া ও চীন থেকে আসা কর্মীরা।
কাঙ্খিত দক্ষ জনশক্তি সৃষ্টি না হওয়ায় দেশে মিড লেভেল ও টপ লেভেলের প্রফেশনালদের বড় ধরনের ঘাটতি রয়েছে। প্রচলিত শিক্ষা ব্যবস্থায় শিক্ষিত হয়ে আসা কর্মীরা চাহিদা মেটাতে পারছে না। ফলে বাধ্য হয়ে বিদেশ থেকে এসব কর্মী আমদানি করতে হচ্ছে। গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ সিপিডির গবেষণায় দেখা গেছে, দেশের ২৪ শতাংশ তৈরি পোশাক কারখানাতে বিদেশী কর্মীরা কর্মরত আছেন
বাংলাদেশের ব্যবসায়ীরা বলছেন, বিদেশী কর্মীদের মাধ্যমে দেশ থেকে প্রতিবছর কয়েকশো কোটি ডলারের সমপরিমাণ অর্থ চলে যাচ্ছে দেশের বাইরে। শুধুমাত্র ভারতেই যাচ্ছে প্রায় ৫০০ কোটি ডলার। তারা বলছেন, দক্ষ জনশক্তির অভাবেই বাংলাদেশ কোটি কোটি ডলার হারাচ্ছে।
প্রবাসী বাংলাদেশীদের অর্থে দেশ সচল করার কথা বলা হচ্ছে একদিকে কিন্তু অন্যদিকে বিদেশী কর্মীদের হাত দিয়ে দেশ থেকে চলে যাচ্ছে বহু কোটি ডলার।
সিপিডির গবেষণার তথ্য অনুসারে, বাংলাদেশ থেকে বিভিন্ন দেশে যে রেমিটেন্স যায় তার মধ্যে শুধুমাত্র ভারতেই যায় ৫০০ কোটি ডলারের মতো।
 সিপিডির গবেষক খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম হোসেন জানান, দক্ষতার ঘাটতির কারণেই বিদেশী কর্মীদের হাতে চলে যাচ্ছে দেশের অর্থ। কিন্তু বর্তমানে দেশে বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রতিবছর ডিগ্রি নিয়ে বের হচ্ছে লাখ লাখ শিক্ষার্থী। কিন্তু তারপরও বাইরের দেশের কর্মীদের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে।
ব্যবসায়ীরা বলছেন, পেশাগত দক্ষতার অভাবের পাশাপাশি ভাষাগত দক্ষতারও অভাব রয়েছে। বিশেষ করে ইংরেজী ভাষার দক্ষতা এবং পেশাগত কৌশলের ঘাটতি রয়েছে। কারিগরি শিক্ষার অভাবটাই প্রকট। এ বিষয়ে গবেষক খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন, এক-তৃতীয়াংশ বেকার দেখতে পাচ্ছি যারা গ্রাজুয়েশন শেষ করেছেন, অন্যদিকে দেশের ভেতরেই বিদেশীরা কাজ করছেন এবং দেশ থেকে অর্থ নিয়ে যাচ্ছেন। একদিকে এমপ্লয়াররা প্রফেশনাল লোক খুঁজছেন, দেশের ভেতরে পাচ্ছেন না। অন্যদিকে বিদেশী প্রফেশনালরা আমাদের এখানে কাজ করছেন, আমাদের জায়গাগুলো তাদের দিয়ে দিতে হচ্ছে, এটা খুবই দুর্ভাগ্যজনক।
এদিকে বিদেশীরা শুধু দেশের নাগরিকদের কর্মসংস্থানেই সংকট সৃষ্টি করছেন না, একই সঙ্গে তাঁরা দেশের প্রচলিত আইন উপেক্ষা করে রাজস্বও ফাঁকি দিচ্ছেন। তারা নানাভাবে অপরাধের সঙ্গে যুক্ত হলেও কঠিন কোনো শাস্তির মুখোমুখি হতে হচ্ছে না।
প্রসঙ্গত, বর্তমান আইনে বিদেশীদের অর্জিত আয়ের ৩০ শতাংশ কর দেয়ার নিয়ম রয়েছে। এ ছাড়া বাংলাদেশী কোনো প্রতিষ্ঠান অবৈধ কিংবা ওয়ার্ক পারমিট ছাড়া বিদেশীদের নিয়োগ দিলে ওই কম্পানির প্রদেয় আয়করের সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশ বা কমপক্ষে পাঁচ লাখ টাকা জরিমানার বিধান আছে। তবে এ জরিমানা কাউকে কখনো করা হয়েছে কি না তা কেউ জানাতে পারেনি। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই এ নিয়ম মানছেন না বিদেশীরা।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ