ঢাকা, শনিবার 30 June 2018, ১৬ আষাঢ় ১৪২৫, ১৫ শাওয়াল ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

কলারোয়ায় খাদ্য গুদামে প্রায় অর্ধ-কোটি টাকার সিন্ডিকেট বাণিজ্য

কলারোয়া (সাতক্ষীরা) সংবাদদাতা : কলারোয়ায় অচল মিলগুলোকে চাল ক্রয় চুক্তির তালিকাভুক্তির সুযোগ করে দিয়ে খাদ্য গুদামে প্রায় অর্ধ-কোটি টাকার সিন্ডিকেট বাণিজ্য শুরু হয়েছে।
জানা গেছে, চলতি বছর কলারোয়ায় ১৩ হাজার ২০ হেক্টরে প্রায় ৮০ হাজার টন বোরো ধান উৎপাদিত হয়েছে। কিন্তু কৃষকের ধান ক্রয় করা হয়নি। শুধু মিল মালিকদের কাছ থেকে ৬০৯ টন চাল কেনা শুরু হয়েছে। এই সুযোগে খাদ্য বিভাগীয় কর্মকর্তারা ভাগবাটোয়ারার চুক্তিতে কতিপয় অসাধু মিল মালিক সিন্ডিকেটের সংগে জোটবদ্ধ হয়ে কলারোয়ার অচল বিনষ্ট মিলগুলোকে সচল বলে তালিকাভুক্ত করে এবং সরকারের সংগে চাল ক্রয় চুক্তি করার সুযোগ করে দেয়।
সরেজমিনে ২ নং খাদ্য গুদামের পিছনে হোসেন রাইচ মিলে দেখা যায়, হাড়ি বয়লার ভেঙ্গে তার উপর আগাছা জন্মেছে। মিলের চাতালের একাংশে ত্রিতল ভবন ও অপর পাশে টালী শেড নির্মাণ শুরু হয়েছে। বামনখালী জামান রাইচ মিলের হাড়িতে মরিচা পড়েছে, বয়লার বিনষ্ট এবং এলাকার লোক টাকার বিনিময়ে চাতালে ধান শুকায়ে মিলে মাড়াই করে চাল নিয়ে বাড়ি ফিরছে। সংকীর্ণ ঘুপচির মধ্যে বামনখালী ফজলুল করিম রাইচ মিলে বসতঘরের সংগে পুরানো চুল্লি রয়েছে। কিন্তু হাড়ি বয়লার চাতালের কোন অস্তিত্ব নেই বলে ফজলুল করিম স্বীকার করেন।
কলারোয়া-সরসকাটি রাস্তার পাশে বামনখালী বাজারে সিরাজুল রাইচ মিলে আনুমানিক ১২ হাত বাই ১৫ হাত চাতাল থাকলেও হাড়ি বয়লারের কোন অস্তিত্ব পাওয়া যায় নি। ওফাপুর মোড়ে গাজনার লতিফ সানা রাইচ মিলে ছোট এক চিলতে ধান শুকানোর চাতাল ছাড়া হাড়ি বয়লারের অস্তিত্ব নেই। কলারোয়া-সরসকাটি রাস্তার পাশে গাজনা মাঠে সোনালী রাইচ মিলে সদ্য নির্মিত হাড়ি দেখা গেলেও বয়লার অকেজো এবং বিশাল চাতালে এলাকার লোকজনকে ধান শুকায়ে মাড়াই করে নিয়ে যেতে দেখা যায় বলে উপজেলা কৃষক লীগের সাবেক আহ্বায়ক সমরেশ ঘোষ জানান।
এদিকে উপজেলা সদরের ঝিকরার স্বর্ণলতা রাইচ মিল, তুলসীডাঙ্গার সোহাগ রাইচ মিল, ভাদিয়ালীর হক রাইচ মিলে বয়লার তো দূরের কথা চাতালেরও অস্তিত্ব নেই বলে এলাকাবাসীু জানান। সুত্র মতে, চাল উৎপাদনের জন্য হাড়ি বয়লার নির্দিষ্ট পরিসরের চাতাল ছাড়া কোন মিলের ফিটনেস ঘোষণার সুযোগ নেই। ফলে কলারোয়ায় তালিকাভুক্ত ২৫ মিলের মধ্যে ১৮ মিল সরকারের সংগে চাল ক্রয় চুক্তি করার অযোগ্য বলে সুত্র জানায়। তাছাড়া তালিকাভুক্ত সিংহভাগ মিলে চাল উৎপাদন কার্যক্রম নেই বলে এলাকার মানুষ জানায়। কিন্তু সিন্ডিকেটের পক্ষ থেকে উত্তরবঙ্গের ৩০ টাকা কেজি দরের চাল এনে খাদ্য গুদামে ৩৮ টাকা দরে সরবরাহ করা হচ্ছে। ১ টাকা খরচ বাদে কেজি প্রতি ৭ টাকা মুনাফা অর্জন করে সিন্ডিকেট প্রায় অর্ধ-কোটি টাকার বাণিজ্য শুরু করেছে।
কৃষি বিভাগের পরিসংখ্যান মতে, কলারোয়ায় চাষকৃত ১৩০২০ হেক্টর বোরো ধানের মধ্যে মাত্র ১৪ হেক্টর জমিতে মোটা ধান চাষ হয়েছে। কিন্তু খাদ্য গুদামে এ পর্যন্ত ২০০ টন মোটা চাল কেনার বিষয় খতিয়ে দেখলে প্রকৃত তথ্য বের হয়ে আসবে। খাদ্য বিভাগের ঊর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের সংগে সিন্ডিকেটের রফা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সুত্র জানায়। এ ব্যাপারে কথা বলার জন্য উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের দপ্তরে টেলিফোন করা হলে অপর প্রান্ত থেকে স্যার অফিসে নেই বলে জানানো হয়। খাদ্য গুদাম কর্মকর্তা জানান, উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মিলের ফিটনেস তালিকা প্রস্তুত করেছে এবং সেই মোতাবেক মিলগুলোর সংগে চাল ক্রয় চুক্তি করা হয়েছে। তবে কোন অনিয়ম দুর্নীতি হয়নি বলে খাদ্য গুদাম কর্মকর্তা দাবি করেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ