ঢাকা, শনিবার 30 June 2018, ১৬ আষাঢ় ১৪২৫, ১৫ শাওয়াল ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

ভারতে মুসলিমদের গরুপালনও দোষের

ইসমাঈল হোসেন দিনাজী : ভারতে সরকারিভাবে গরুজবাই নিষিদ্ধ। আগেও এনিয়ে ঝামেলা ছিল। বিজেপি ক্ষমতায় এলে এ আইন চূড়ান্ত করা হয়। তবে লুকিয়ে ছাপিয়ে কোথাও না কোথাও গরুজবাই হয়েই থাকে। ঝামেলা বাঁধে এ নিয়েই। গরুর গোশত যে কেবল মুসলিম আর খৃস্টানদেরই প্রিয় এমন নয়। হিন্দু ব্রাহ্মণরা আগেও গরুমাংস খেতেন। এখনও খান। দক্ষিণ ভারতীয় ও কাশ্মিরী ব্রাহ্মণদের কাছে গোমাংস এখনও দারুণ জনপ্রিয় খাবার।
আশি ও নব্বইয়ের দশকে বেশ কয়েকŸার ভারত গিয়েছি। কোলকাতাসহ ভুপাল, দিল্লি, নাগপুর, লক্ষেèৗ, এলাহাবাদ, জৌনপুর প্রভৃতি শহর ঘুরেছি। সবখানেই গরুর গোশত পাওয়া যেতো। হোটেলে বিফ রান্না হতো। কোলকাতায় দারুণ স্বাদের গরুভুনা আর ক্ষিরিগুর্দা পাওয়া যেতো। ক্ষিরিগুর্দা মানে গাইগরুর দুধের থলেটা খুব চমৎকার করে রান্না হতো কোলকাতার দক্ষিণ ভারতীয় হোটেলগুলোতে। কোলকাতায় মাসের পর মাস অবস্থানকালে আমি প্রায়ই ক্ষিরিগুর্দার লোভে সাউথ ইন্ডিয়ান রেস্টুরেন্টে সকালের নাস্তা সেরে নিতাম। বাঙালরাও গরুভুনা করতো। শুকনো করে। বেশ পোড়া পোড়া। অনেকটা কাবাবের মতো। সস্তায় পাওয়া যেতো। আমি দারুণ উপভোগ করেছি কোলকাতায় সেসময় বিফভুনা। এখন সেদিন নেই। ভয়াবহ সংকটে এখন গরু নিয়ে ভারতীয় মুসলিমরা।
আজকাল ভারতে মুসলিমরা গরুপালনও করতে পারেন না। জবাইতো দূরের কথা। কোনও মুসলিম গরু লালনপালন বা একস্থান থেকে আরেক স্থানে আনানেয়া করলেও তাদের বিরুদ্ধে মামলা ঠুকে দেয়া হয়। এমনকি অনেককে হত্যার শিকারও হতে হচ্ছে। দুর্ভাগ্যজনক এটাই। তবে আসামসহ ভারতের বেশ কয়েক জায়গায় এ অমানবিক আইনের প্রতিবাদে হিন্দুরাই গোহত্যার মাধ্যমে উৎসব করে মদসহযোগে গরুর গোশত ভক্ষণ করেছেন। তাহলে গরুজবাইয়ের অপরাধে মুসলিমদের হত্যা কেন? অথচ ভারতীয় শাস্ত্রাদিতে গরুজবাই কিংবা গোমাংস ভক্ষণ আদৌ নিষিদ্ধ নয়।
দেখুন, ভারতীয় শাস্ত্রে এ প্রসঙ্গে কী রয়েছে। স্বামী বিবেকানন্দ বলেছেন: “এই ভারতবর্ষেই এমন একদিন ছিল যখন কোনও ব্রাহ্মণ গরুর মাংস না খেলে ব্রাহ্মণই থাকতে পারতেন না। যখন কোনও সন্ন্যাসী, রাজা, কিংবা বড় মানুষ বাড়িতে আসতেন, তখন সবচেয়ে ভালো ষাঁড়টিকে হত্যা করা হতো।” (Collected works of Swami Vivekananda, Advaita Asharama,1963, Vol III, page 172)।
ঋগবেদের প্রাচীন ভাষ্যকার হিসেবে সায়নাচার্যের নাম বিখ্যাত। তাঁর আগেও বিভিন্ন ভাষ্যকার, যেমন স্কন্দস্বামী, নারায়ণ, প্রমুখ ঋগবেদের ভাষ্য রচনা করেছেন।
ভাষ্যকার আচার্য সায়ন লিখেছেন তার অনুবাদে, “You (O Indra), eat the cattle offered as oblations belonging to the worshippers who cook them for you. (Atharvaveda 9/4/1)”
“হে ইন্দ্র গ্রহণ কর সেসব গরুর মাংস যা তোমাকে তোমার ভক্তরা রন্ধন করে উৎসর্গ করেছে।”
ঋগবেদ ১০/৮৬/১৩ তে গরুর মাংস রান্না করবার কথা পাওয়া যায়।
ঋগবেদের ১০/৮৬/১৪ শ্লোকে আছে, ইন্দ্রের জন্য গোবৎস উৎসর্গ করা হয়েছে।
Rig Veda 10.86.14 [Indra speaks :] The worshippers dress for me fifteen (and) twenty bulls : I eat them and (become) fat, they fill both sides of my belly; Indra is above all (the world).
উপনিষদেও গরু খাওয়ার কথা বলা হয়েছে।
ভালো সন্তান পাবার জন্য ষাঁড়ের মাংস খাওয়া উচিত।
Brihadaranyak Upanishad 6/4/18 suggests a ‘super-scientific’ way of giving birth to a super intelligent child.
এ ব্যাপারে আরও স্পষ্ট বিধান দিয়েছে মনুসংহিতা। মনুসংহিতা ৫/৪৪ শ্লোকে বলা হয়েছে, “শ্রুতিবিহিত যে পশুহত্যা, তাহাকে অহিংসাই বলিতে হইবে, যেহেতু বেদ ইহা বলিতেছে।”
অগ্নির কাছে নিবেদনে বলদ, ষাঁড় এবং দুগ্ধহীনা গাভী বলিদানের উল্লেখ আছে। (ঋগবেদ সংহিতা, ১/১৬২/১১-১৩, ৬/১৭/১১,১০/৯১/১৪)।
মহাভারতেও গরু খাওয়ার কথা আছে, মহাভারত বন পর্ব, খণ্ড ২০৭, অনুবাদ করেছেন কিশোরীমোহন গাঙ্গুলী।
বিষ্ণুপুরাণ বলছে, ব্রাহ্মণদের গো-মাংস খাইয়ে হবিষ্য করালে পিতৃগণ ১১ মাস পর্যন্ত তৃপ্ত থাকেন। আর এ স্থায়িত্ব কালই সবচেয়ে দীর্ঘ (বিষ্ণুপুরাণ ৩/১৬)। বৃষের মাংস [বেদ:১/১৬৪/৪৩], মহিষের মাংস [বেদ: ৫/২৯/৮], অজের মাংস [বেদ:১/১৬২/৩] খাওয়া হতো। তবে বেদে এও আছে যে, পরস্বিনী গাভী মানুষের ভজনীয় অর্থাৎ পূজনীয় [বেদ:৪/১/৬]। কিন্তু স্বামী বিবেকানন্দ বলেছেন ভিন্ন কথা: “You will be astonished if I tell you that, according to the old ceremonials, he is not a good Hindu who does not eat beef. On certain occasions he must sacrifice a bull and eat it. [The complete works of Swami Vivekananda, Volume 3, Pg 536]”
“জগতগুরু আদি শংকরাচার্য, যিনি ৭৮৮ খ্রিস্টাব্দে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি অদ্বৈত বেদান্ত শাখার প্রতিষ্ঠাতা। শংকরাচার্যের গীতাভাষ্য হিন্দু ধর্মীয় পন্ডিতমহলে অত্যন্ত বিখ্যাত। তিনি ব্রাহ্মসূত্র অধ্যায় ৩, পাদ্য ১, সূত্র ২৫ এ লিখেছেন, “যজ্ঞে পশুহত্যা পাপ হিসেবে বিবেচিত হবে না, কারণ শাস্ত্রই এর অনুমোদন দিয়েছে।”
বেদে স্পষ্টভাবে গরুর মাংস খাওয়ার কথা থাকলেও হিন্দুরা সম্পূর্ণ অস্বীকার করেন।
হিন্দুরা হাজির করে ঋগ্বেদ (৭/৫৬/১৭) এই শ্লোক। ঋগবেদের ঐ শ্লোকে নাকি গোহত্যাকে মানুষ হত্যার সমকক্ষ বলা হয়েছে। নীচে তুলসীরামের উক্ত শ্লোকের অনুবাদ দেখুন তো এরকম কিছু আছে কিনা।
এরপর আবার হিন্দুরা, অথর্ববেদের (৮/৩/১৫) এই শ্লোক দেখায়, যেখানে বলা হয়েছে: গোহত্যা ও ঘোড়াহত্যা উভয়ই নিষিদ্ধ। এখানে সত্য লুকিয়ে রেখে ঘোড়াসহ যেকোনও প্রাণির মাংস খেতে নিষেধ করা হয়েছে। কিন্তু সত্য হলো ঐ শ্লোকে বলা হয়েছে:
যারা বহিঃশত্রু (দেশকে আক্রমণ করবে) এবং প্রাণির মাংস তথা ঘোড়ার মাংস ও মানুষের মাংস খায় তাদের হত্যা কর। ধারাবাহিকভাবে এই মন্ত্রগুলো যেমন ৭, ৮, ৯ পড়লেই পরিষ্কার বোঝা যাবে।
অথর্ববেদের (৮/৩/১৫) এই শ্লোকে স্পষ্টভাবে গরুর দুধগ্রহণকারীরও একই শাস্তি দেয়ার কথা আছে। তার মানে কি গরুর দুধ খাওয়াও বেদের নিষেধ ? এটি আরও স্পষ্ট আছে ১৭ নাম্বার মন্ত্রে, এখানে বলা গরুর দুধ যে খায় তার বুকে বর্শা মারার কথা।
এখন এই মন্ত্রগুলোর অর্থ সর্বজনীনভাবে নিলে হিন্দুরা কি বলবেন যে বেদ অনুসারে দুধ খাওয়াও মানা? এরপর হিন্দুরা ঋগবেদের ১/১৬৪/৮০ এবং অথর্ববেদের ৯/১০/২০ ও ৭/৭৩/১১ এইসব শ্লোক দেখিয়ে বলেন এইসব শ্লোকে গরুকে (আঘ্ন্যা) বলা হয়েছে। আঘ্ন্যা মানে যাকে হত্যা করা উচিত নয় । অথচ এসব শ্লোকে শুধুমাত্র মা গরুকে অর্থাৎ যে গরু থেকে দুধ পাওয়া যায় সেই গরুর প্রসঙ্গে (আঘ্ন্যা) শব্দ ব্যবহার করা হয়েছে অর্থাৎ যে গরু দুধ দেয় সেই গরু হত্যা করতে নিষেধ করা হয়েছে। দেখুন (ঋগবেদ ১/১৬৪/৮০) শ্লোকের তুলসীরামের অনুবাদ। তুলসীরাম লিখেছেন, Invioable (আঘ্ন্যা) as Mother Cow.
তুলসীরাম অথর্ববেদ ৯/১০/২০ শ্লোকেও একই কথা লিখেছেন, Invioable (আঘ্ন্যা) as Mother Cow. হাজির করা হয় ঋগবেদের ৮/১০১/১৫ এই শ্লোক.... (Do not kill the cow. Cow is innocent and aditi– that ought not to be cut into pieces).
মহাত্মা গান্ধী বলেছেন: “I know there are scholars who tell us that cow-sacrifice is mentioned in the Vedas. I… read a sentence in our Sanskrit text-book to the effect that Brahmins of old (period) used to eat beef. ( M.K.Gandhi, Hindu Dharma, New Delhi, 1991, p. 120).”
অর্থাৎ, “আমি জানি (কিছুসংখ্যক পন্ডিত আমাদের বলেছেন) বেদে গো-উৎসর্গ করার কথা উল্লেখ আছে। আমি আমাদের সংস্কৃত বইয়ে এরূপ বাক্য পড়েছি যে, পূর্বে ব্রাহ্মণরা গো-মাংস ভক্ষণ করতেন। (হিন্দুধর্ম, এম.কে. গান্ধী, নিউ দিল্লি, ১৯৯১, পৃ. ১২০)।
অতএব এবার নিশ্চয়ই এ সিদ্ধান্তে উপনীত হওয়া যায় গরুর গোশত খাওয়া ধর্মসম্মত।
অবশ্য বৌদ্ধযুগের আগ পর্যন্ত হিন্দুরা প্রচুর গোমাংস ভক্ষণ করতেন এ তথ্যও অনেকেই জানেন। ব্যাসঋষী স্বয়ং বলেছেন, ‘রন্তিদেবীর যজ্ঞে একদিন পাচক ব্রাক্ষ্মণগণ চিৎকার করে ভোজনকারীদের সতর্ক করে দিয়ে বললেন, ‘মহাশয়গণ! অদ্য অধিক মাংসভক্ষণ করবেন না, কারণ অদ্য অতি অল্পই গো-হত্যা করা হয়েছে; কেবলমাত্র একুশ হাজার গোহত্যা করা হয়েছে।’ (সাহিত্য সংহিতা-৩য় খণ্ড পৃষ্ঠা-৪৭৬)।
বৌদ্ধযুগের পূর্বপর্যন্ত হিন্দুরা যে প্রচুর গরুর গোশত খেতেন ডা. রাজেন্দ্র প্রসাদ প্রণীত Beef in Ancient India গ্রন্থে, স্বামী ভুমানন্দ প্রণীত ‘সোহংগীত’, ‘সোহং সংহিতা, ‘সোহং স্বামী’ গ্রন্থগুলোতে, আচার্য্য প্রফুল্লচন্দ্র রায়ের ‘জাতি গঠনে বাধা’ গ্রন্থে উল্লেখ আছে। এসব গ্রন্থ থেকে জানা যায়, বৌদ্ধযুগের আগে পর্যন্ত গো-হত্যা, গো-ভক্ষণ মোটেই নিষিদ্ধ ছিল না। মধু ও গো-মাংস না খাওয়ালে তখন অতিথি আপ্যায়নই অপূর্ণ থেকে যেতো।
ডা. রাজেন্দ্র প্রসাদ প্রণীত Beef in Ancient India গ্রন্থে, স্বামী ভুমানন্দ প্রণীত অনেক গ্রন্থে, আচার্য প্রফুল্লচন্দ্র রায়ের ‘জাতি গঠনে বাধা’ গ্রন্থে উল্লেখ আছে।
এসব গ্রন্থ থেকে জানা যায়, বৌদ্ধযুগের আগে গো-হত্যা, গো-ভক্ষণ মোটেই নিষিদ্ধ ছিল না। মধু ও গো-মাংস না খাওয়ালে তখন অতিথি আপ্যায়নই অপূর্ণ থেকে যেতো।
তাই অতিথির আরেক নাম ‘গোঘ্ন’।
বৌদ্ধসম্রাট অশোকের সময় থেকে গো-হত্যা নিষিদ্ধ করা হয়। সুতরাং বৌদ্ধধর্মের আবির্ভাব ২০০০ বছর আগে হলেও গো-হত্যা আরও অনেক পরে নিষিদ্ধ হয়। প্রশ্ন হচ্ছে, সম্রাট অশোকের নিষেধাজ্ঞা হিন্দুরা মানছে কেন?
এটাও ধর্মীয় সংঘাতের ফল। বৌদ্ধধর্ম এতোই জনপ্রিয় হয়েছিল যে, প্রচুর লোক, বিশেষ করে তথাকথিত “নীচ জাতি” আকৃষ্ট হয়েছিল, এই ধর্মের প্রতি ।
ব্রাহ্মণ্যবাদী এবং ব্রাহ্মণরা প্রমাদ গুণলেন। তারাও পুরোপুরি মাছ- মাংস খাওয়া ছেড়ে দিয়ে ভেকধারী হয়ে গেলেন।
মূলত এটা উত্তরভারতেই হয়েছিল । তাই এখনও ওটা “গো-বলয়” নামে খ্যাত।
বেশিদিনের কথা নয়, আলীবর্দির সময়ে রামপ্রসাদের গুরু কৃষ্ণানন্দ আগমবাগীশ একটা বই লেখেন। নাম ‘বৃহৎ তন্ত্রসার’।
এতেও অষ্টবিধ মহামাংসের মধ্যে গোমাংস প্রথম বলেই উল্লেখ করা হয়েছে।
ঋগবেদে ফিরে আসি। কি দেখছি? প্রথম মন্ডলের ১৬৪ সূক্তের ৪৩ নং শ্লোকে বৃষমাংস খাওয়ার কথা আছে। মহিষমাংসের উল্লেখ আছে পঞ্চমম-লের ২৯ নং সূক্তের ৮ নং শ্লোকে।
মোষ বলি আজও হয় । নেপালে যারা মোষের মাংস খায়, তাদের ছেত্রী বলা হয়।
এছাড়া বনবাসকালে রামচন্দ্রের লাঞ্চের মেনু কী ছিল, অনেকেরই জানা নেই।
তিন রকমের মদ বা আসব হয়। যথা: গৌড়ি (গুড় থেকে তৈরি), পৌষ্টি (পিঠে পচিয়ে তৈরি) এবং মাধ্বি (মধু থেকে তৈরি)। এর সঙ্গে প্রিয় ছিল- শূলপক্ব বা গোবৎসের মাংস।
উল্লেখ্য, কারুর বিশ্বাস বা অনূভুতিতে আঘাত দেবার জন্য নয়, শুধুমাত্র সত্য অবগতির জন্যই ভারতীয় শাস্ত্রাদির বাণী উদ্ধৃত করা হলো। যাদের ঘরে শাস্ত্রসমূহ আছে, তাঁরা অনুগ্রহ করে সেগুলোর পাতা উলটে দেখতে পারেন। এছাড়া আজকাল ইন্টারনেট বা গুগল সার্চ দিয়েও পরখ করে দেখতে পারেন। আসলে সত্য চিরদিন চেপে রাখা যায় না। এর আগুন বিলম্বে হলেও সর্বভুক হয়ে প্রকাশ পায়। প্রকটাকার ধারণ করে। এই হলো বাস্তবতা এবং সত্যের ধর্ম। এ আগুন ঠেকায় কার সাধ্য?
যাই হোক, ভারতের যে ক’জন গোমাংসের বড় ব্যবসায়ী আছেন, তাঁরা সবাই হিন্দু মাড়ওয়ারি। বিপুল পরিমাণ প্যাকেটজাত গোমাংস রফতানি করে হাজার হাজার কোটি রুপি উপার্জন করেন প্রতিবছর। এতে তাঁদের জাত যায় না। ধর্মেরও অবমাননা ঘটে না। দোষ শুধু মুসলিমরা গরুজবাই করলে। এখন ভারতে গরুপালন করলেও মুসলিমদের হত্যা করা হচ্ছে নির্মমভাবে। আগে এসব খবর মিডিয়ায় স্থান পেতো। এখন তাও প্রায় বন্ধ।
উল্লেখ্য, গরুর গোশতের ক্রাইসিস সবদেশেই। আমাদের দেশেও চাহিদার তুলনায় উৎপাদন অনেক কম। এমতাবস্থায় ভারতে যদি গরুর গোশত খাওয়া সত্য সত্যই বন্ধ করে তা আমাদের দেশে পাঠানো হয়, তবে কিছুটা হলেও কম দামে পাওয়া যেতো বৈকি।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ