ঢাকা, শনিবার 30 June 2018, ১৬ আষাঢ় ১৪২৫, ১৫ শাওয়াল ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

বাতির নিচে অন্ধকার

জাতীয় সংসদ সচিবালয় বাংলাদেশের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি সচিবালয়। এখান থেকেই বাংলাদেশের সকল গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। জনগণের ভাগ্য নির্ধারণী বাজেট থেকে শুরু করে সকল আইন প্রণয়ন কার্যক্রম হয়ে থাকে। জনপ্রতিনিধিরা জনগণের সকল অধিকার নিয়ে সরব থাকেন এখানে। কিন্তু যেখান থেকে সকল মানুষের অধিকার নিয়ে এত কাজ করা হয় সেই স্থানে সরকারি চাকুরে হিসেবে আমরা অনেকটাই বঞ্চিত! আমরা ‘সিকিউরিটি এ্যাসিস্ট্যান্ট’ হিসেবে চাকরি করি এখানে। আমাদের শিক্ষাগত যোগ্যতা এইচএসসি পাস, আনসার মৌলিক প্রশিক্ষণ এবং নির্ধারিত শারীরিক যোগ্যতা বাধ্যতামূলক। আমাদের শিক্ষা শিক্ষাগত যোগ্যতা এইচএসসি হওয়া চাওয়া হলেও ৮০% লোক মাস্টার্স পাস। আর আমাদের গ্রেড-১৮। অথচ একই অফিসে শুধুমাত্র এইচএসসি পাসের (অভ্যর্থনাকারী/অফিস সহকারী) গ্রেড-১৬। শুধুমাত্র এখানে নয় বাংলাদেশের আর কোথাও আমাদের সমমান যোগ্যতার গ্রেড এত নিচে নেই। শুধু তাই নয়, একই সাথে চাকরিতে যোগদান করে আমার সহকর্মী ১ম পদোন্নতি পেয়ে ‘অফিস সহকারী’ হতে ‘প্রশাসনিক কর্মকর্তা’ (১০ম গ্রেড) হচ্ছে। অথচ আমরা ১০ম গ্রেডে আসতে তিন তিনবার পদোন্নতি পেতে হবে, যা সবার জীবনে সম্ভব হয় না। ২০-২৫ বছর চাকরি করার পর এখন আমার সেই সহকর্মী প্রথম শ্রেণীর কর্মকর্তা আর আমি এখনও তৃতীয় শ্রেণীর গন্ডি পাড় হতে পারিনি। আমরা জানি, বর্তমান সরকার কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অধিকারের বিষয়ে অনেক আন্তরিক। লক্ষ লক্ষ প্রাথমিক শিক্ষক, সাব-ইন্সপেক্টর, তিন বাহিনীর সার্জেন্ট/সমমান ছাড়া আরো অনেকের গ্রেড সমস্যার সমাধান হয়েছে বর্তমান সরকারের আন্তরিকতার কারণে। যে সংসদের মাননীয় সদস্যরা এত এত সমস্যার সমাধান হয়েছে করেছেন এবং রক্ষা করেছেন লক্ষ লক্ষ কর্মচারীর অধিকার, সেই সংসদে চাকরি করে আমরা মাত্র অর্ধ শতাধিক মানুষ অধিকারহীনতায় দিনাতিপাত করছি। একেই বলে ‘বাতির নিচে অন্ধকার’।
জানি, আমাদের কথাগুলো মাননীয় স্পিকার পর্যন্ত পৌঁছায় না। তাই আশা করছি, এবার মাননীয় স্পিকার আমাদের দীর্ঘদিনের সমস্যাটি অবশ্যই দেখবেন এবং জুন মাসের কমিশন মিটিংয়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে এর একটি যুগপোযোগী সমাধান করে প্রাচীন এই প্রবাদটিকে মিথ্যা বলে প্রমাণিত করবেন।
-নিবেদক
সকল সিকিউরিটি এ্যাসিস্ট্যান্টদের পক্ষে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ