ঢাকা, শনিবার 30 June 2018, ১৬ আষাঢ় ১৪২৫, ১৫ শাওয়াল ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

কল্যাণমুখী বাজেট পেতে প্রয়োজন গণতান্ত্রিক সরকার

ডাঃ মোঃ মুহিব্বুল্লাহ : ২০০৬ সালের পর থেকে জাতির কপালে ঋণের ঘানি টানার যে দুর্ভাগ্য শুরু হলো তা আজও শেষ হলোনা। আওয়ামী সরকার ফখরুদ্দিনের দেয়া ২০০৮ এর ২৯ ডিসেম্বরের নির্বাচনে ক্ষমতায় এসে দীর্ঘ পাঁচটি বছরে গণসন্তোষমুখী একটা বাজেটও উপহার দিতে পারেনি। সে ব্যর্থতার কারণে তৎকালীন সরকারকে আবারও গদী দখলে রাখতে দিতে হয়েছিলো  স্বৈরতান্ত্রিক পন্থার নির্বাচন। যে ব্যবস্থা ছাড়া তাদের পুনরায় ক্ষমতায় যাওয়ার আর কোনো উপায়ান্ত ও ছিলনা। ক্ষমতা পেতে যে তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রতিষ্ঠার জন্য একদিন তারা আন্দোলন করেছিলো ক্ষমতা ধরে রাখতে সে তত্ত্বাবধায়ক সরকার বাতিলের জন্য ও তাদেরকেই সক্রিয় ভূমিকা রাখতে হয়েছিল। জবরদস্তিতে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে দেশের সকল বাহিনী ও মিডিয়াকে হাত করে যথেচ্ছাচারী নির্বাচন তাদেরকে করতে হয়েছিল। জনগণের সাথে অসম্পৃক্ততার যা ছাড়া আর কোনো প্রতিদান হতে পারেনা। আর এমন পরিবেশ তৈরি করেই তারা সংঘটিত করলো ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারীর ভোটার বিহীন নির্বাচন। গণতান্ত্রিক অধিকার নিজেদের ভোটদান থেকে সকলে বিরত থাকার কারণে যে পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছিলো। গণধিক্কারের এমন নগ্ন নজির স্থাপন স্বত্ত্বেও তারা যে নির্বাচনে রাষ্ট্রযন্ত্র ব্যবহার করে জোটের শরিক দলকে বিরোধী সাজিয়ে দেশের মূল বিরোধী জোটকে নির্বাচনের বাহিরে রেখে বিনা প্রতিদ্বন্দি¦তায় সংসদ গঠন করে। বিশ্বব্যাপী সমালোচিত ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির প্রহসনের সে নির্বাচনের আগে ও পরের নয়টি বাজেটে জাতি এমন কোনো একটি বাজেট পাইনি যে বাজেটটি ছিলো জনগণের কল্যাণের জন্য। যে বাজেটটা নিয়ে তাদের পক্ষে কিছু বলা যায় বা দুচার কলম লেখা যায়। বরং মঞ্চে ও মিডিয়ার সামনে বাজেটকারীদের হাজারও গলাবাজিকৃত বক্তৃতা-বিবৃতির সাথে জনগণ বাস্তবতার কখনই কোনো সামঞ্জস্য খুজে পাইনি। পক্ষান্তরে সে সকল বাজেটে সরকারদলীয়দের লুটপাটের মহোৎসব পালনের পরিকল্পিত সহজ পন্থা ব্যতীত কিছুই না থাকার বিষয়টিও জাতির সামনে পরিস্কার হয়ে পড়ে। এজন্য মহান জাতীয় সংসদে চলতি অর্থবছরের নির্বাচনী ফায়দা হাসিলমুখি এ বাজেট বিল উত্থাপনের আগমুহূর্ত থেকেও দেশবাসীর মনে কৌতুহলের অন্ত ছিল না।
আসছে মহান জাতীয় সংসদ নির্বাচনে হয়তবা বিজয়ী হওয়ার ফাঁদ হিসেবে হলেও এবার বাজেটটা জনকল্যাণমুখী বাজেট হয় কি না? নাকি তাও হবে প্রতিবেশীদের প্রসবকৃত বুদ্ধিপরামর্শ মোতাবেক দৃষ্টিনন্দন অথচ জাতির সাথে শঠতাপূর্ণ কোনো কৌশল মুড়ানো গণপ্রতারণাকর আত্মসাতের বাজেট? যা নাগরিকের চোখ ধাঁধাঁনো কিন্তু অন্তঃসার বিষক্রিয়াকর ব্যতীত আর কিছুই নয়।"এসব হলো গণভাবনা। আর এদেশের জনগণের ভাবনাটা ছিলো যেমন পাওনাটাও হলো তেমন। এমন কিছুই পেতেহলো ৭ জুন মহান জাতীয় সংসদে উত্থাপিত ২০১৮-২০১৯ অর্থবছরের বাজেটে। এ বাজেট বাংলাদেশের ৪৭ বছরের ইতিহাসে সবচেয়ে বৃহৎ ও দৃষ্টিনন্দন বাজেট। তবে সর্ববৃহৎ ঘাটতি বা ঋণনির্ভর বাজেটও এটাই। যা মোটেও জনকল্যাণের নয়। নির্বাচন সহায়ক, উচ্চবিত্ত ও এমপি মন্ত্রীদের উচ্চাবিলাসী বাজেটমাত্র। প্রস্তাবিত এ বাজেটকে অনেকটা স্বজাতি ও দেশাত্মঘাতি বাজেটও বলাচলে। যেন বাড়ি বন্ধক রেখে সে টাকা ব্যয়ে পুষ্পোদ্যান করার অভিলাসে গৃহীত পদক্ষেপের সামিল। তবে বছরের পরে বছর ধরে শেকড় কাটা শুকনো গাছে আবার একটু পানির ছিটে দিয়ে গাছ তরতাজা করার অভিনয়ে সেই মরা গাছের বাসিন্দা পাখিগুলোর মন জয় করতে চেষ্টা করা এ অভিনয় জাতির সামনে একেবারেই সুস্পষ্ট। তামাম দেশবাসী বুঝে গেছে এই গাছ পত্র-পল্লবে সুজলা সুফলা করা তাদের আসল উদ্দেশ্য নয়। তারা যে শেষপ্রান্তে এসে আবারও এই হালকা একটু পানি ছিটিয়ে গাছটিকে সজীব করার প্রতারণাকর অভিনয় করে আগামী ৫ বছরের জন্যেও এ মৃতপ্রায় গাছের মালী ও মালিক হতে চাচ্ছে তা সবার জ্ঞানেই আয়নার মতো ক্লিয়ার। কোনোরকম লালিয়ে ভুলিয়ে আবার তারা মালিকানা হাতিয়ে নিতে পারলেই গাছের ও গাছের বাসিন্দা পাখিদের বারোটা বাজানোর কাজে আবারো ইতিপূর্বের ন্যায় নেমে পড়তে পারে। এক কথায় এ বাজেটকেও রং করা আমড়া কাঠের পালং বলা চলে। বার্নিশ করার কারণে দেখতে যার উপরটা বেশ চাকচিক্যময়। কিন্তু ভিতরটা ঠিকই মাকাল ফলের সাদৃশ্য। যার মধ্যে জনগণের কল্যাণ আছে বলে মনে হয়না। অথচ প্রতিবার বাজেট পেশ করে অর্থমন্ত্রী, মন্ত্রী পরিষদ ও সরকারদলীয় নেতা কর্মীরা গতানুগতিক নিয়মে যেমন বড়গলা করে বেড়ান এবারও তার ব্যত্যয় ঘটছেনা। কিন্তু আপনাকে বড় বললে যে আসলে বড় হওয়া যায় না তা ২০১৮-২০১৯ অর্থবছরের উত্থাপিত বাজেট নিয়ে টিপস কাস্টমার্স, টিভি টকশো আর দেশী-বিদেশী বিজ্ঞজন ও রাজনীতিকদের আলোচনা সমালোচনা থেকে বেরিয়ে আসছেই। তাছাড়া কোনো বিজ্ঞ জাতির জ্ঞানের ফুলবাগানে ক্ষতিকর ভাল্লুকের অনিষ্টকারিতার দৃশ্য দৃশ্যায়িত কেনইবা হবে না? সচেতন জাতির কাছে প্রতারক ও অদক্ষদের ছলনা প্রতারণা ও অদক্ষতা সকলটারই স্বরূপে পরস্ফুটিত হবারই কথা। চলমান সরকারের সকল বাজেটগুলো পর্যালোচনা করে দেশবাসী এখন বুঝতে পারছে যে কোনো অনির্বাচিত ও অগণতান্ত্রিক প্রতিবেশী নির্ভর সরকার চাইলেও জনকল্যাণমুখি বাজেট করা তাদের দ্বারা কিছুতেই সম্ভব হয় না। আসলে কোনো সরকারের হালে পানি না পেলে তারা ঠায় নিরূপায় হয়ে পড়ে। যে দশায় জড়িয়ে পড়েছে বর্তমান আমাদের দেশের পেশী ও প্রতিবেশী নির্ভর সরকার। জনসম্পৃক্ততার বালাই ও যাদের মধ্যে নাই। আর এ গণস¤পৃক্ততা হীনতাই তাদেরকে সবচেয়ে বেশী হতাশাগ্রস্থতার মধ্যে ফেলে দিয়েছে। এভাবে যদি বছরের পর বছর অদক্ষ ও প্রতারক গুনের অধিকারীদের দ্বারা ঋণ নির্ভর বাজেটের ঘানি টেনে যেতে হয় তাহলে অনতিদূরেই দেশ অস্তিত্ব সংকটে পড়ে যাবে। জাতি পরিণত হয়ে পড়বে মেরুদ-হীন পরাধীন পরগাছায়। হুমকির সম্মুখীন হবে স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব। এজন্য বাংলাদেশের সকল বিজ্ঞ ও সচেতন নাগরিকদেরকে তাদের বিচক্ষণতা, দেশপ্রেম ও সঠিক উদ্যোক্তার ভুমিকায় অবতির্ণ হয়ে দেশ ও জাতীর কল্যাণে যোগ্যতম বাজেট পাওয়ার প্রত্যাশায় নিজেদেরকে দেশ ও জনকল্যাণে নিয়োজিত করা দরকার।
তাই আসুন, জনকল্যাণকর বাজেট পেতে আত্মসাতে বিভোর উচ্চাবিলাসী ঘাটতি ও ঋণনির্ভর অদক্ষ, গণবিরোধী ও অগণতান্ত্রিক অপশক্তির অযোগ্য বাজেটের বিষধর দংশনের হাত থেকে দেশ ও জাতিকে রক্ষা করার নিয়মতান্ত্রিক এবং গণতান্ত্রিক পথে অগ্রসর হতে এহেন ক্ষতিকর দুষ্টদেরকে বর্জন করে কল্যাণকর দেশ গঠনের দীপ্ত শপথ গ্রহণ করি।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ