ঢাকা, শনিবার 30 June 2018, ১৬ আষাঢ় ১৪২৫, ১৫ শাওয়াল ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

এমন বাজেট ছাড়া আর ভালো কিইবা আশা করা যেতে পারে?

সাইফুল ইসলাম তানভীর : অগণতান্ত্রিক কোন সরকারের কাছে ভালো বাজেট প্রত্যাশা করাটাও বড় বোকামী। শুধু আমাদের এদেশেই নয় পৃথিবীর কোন অগণতান্ত্রিক দেশের অনির্বাচিত সরকারই জনগণের প্রকৃত কল্যাণে বাজেট করে না। শুধু জাতীয় বাজেটই নয় অনির্বাচিত, অগণতান্ত্রিক, স্বৈরাচারী, ফ্যাসিস্ট সরকারগুলো অপকর্ম, লুটপাট ছাড়া ভালো কাজ খুবই কম করে। যে রকম আমাদের দেশে (১৯৮২-১৯৯০) একজন সামরিক শাসক ছিলেন। যিনি স্বৈরাচার হিসেবেই পরিচিত ছিলেন। এই সামরিক শাসক জনপ্রিয়তা অর্জনের জন্য এদেশের ইসলাম পন্থী লোকদের তুষ্ট করতে কিছু ভালো করেছেন। বিপরীতে এই সামরিক শাসকের ভন্ডামী, দুর্নীতির অপকর্মের রেকর্ডের পাল্লাটা অধিক ভারী ছিল। তারপরও কিছু কিছু কল্যাণমূলক কাজ ছিল। জার্মানীর একজন মহা ভয়ানক স্বৈরাচার শাসকেরও একই স্টাইল ছিল। এছাড়া এই ধরনের অগণতান্ত্রিক, অনির্বাচিত সরকার সামরিক হোক আর বেসামরিক হোক না কেন এদের অপকর্মের স্টাইলগুলো প্রায় একই রকমের হয়ে থাকে। এদের কিছু ভক্তও থাকে। বিভিন্ন চেহারা সুরতের বিভিন্ন পেশার সুযোগবাদী কিছু লোকজন এদের চাটুকারী করতে সামান্যতম লজ্জাবোধ করে না। যেরকম বর্তমানে আমাদের দেশে যে ক্ষমতাসীন সরকার রয়েছে। তাদেরকে “প্রচন্ড” সমর্থন করার মতো লোকের এদেশে অভাব নেই। এভাবেই তারা বড় একটা ভক্ত শ্রেনী গড়ে তুলতে সক্ষম হয়।
যুগে যুগে এভাবেই স্বৈরাচার, ফ্যাসিস্ট সরকারগুলো ক্ষমতায় টিকে থেকেছে। সবারই জানা থাকার কথা ২০০৮ এর দিকে কিভাবে নীল নকশার নাটকীয় এক নির্বাচনে বর্তমান সরকার ক্ষমতায় বসেছে। ২০১৪ এর ৫ জানুয়ারীর বিষয়তো খুবই সুস্পষ্ট বিষয়। এত কিছুর পরও এই ক্ষমতা দখলকারীরা তাদের ক্ষমতা টিকিয়ে রাখতে সক্ষম হয়েছে। কারণ দেশে প্রধানতমভাবে আমি বলবো যে মিডিয়াকে তারা কন্ট্রোল করতে পেরেছে এটাই হলো তাদের ক্ষমতায় টিকে থাকার বড় হাতিয়ার। সুতরাং তারা যতই অপকর্ম করুন না কেন তাতে তাদের যায় আসে না। তারা নিজেদের সুবিধার্থে যে ধরনের বাজেট করা প্রয়োজন সেভাবেই তারা করে যাচ্ছে। কিছু একটা হইচই কিছু মিডিয়া বা ব্যক্তিরা করছে। তাতে তাদের সমস্যা হয় না। সম্প্রতি ২০১৮-১৯ অর্থ বছরের বাজেট পেশ করেছে বর্তমান সেই উদাহরনের সরকার। এতে কিছু সংখ্যক Economist (অর্থনীতিবিদ) কষ্ট পেয়েছেন। কিন্তু তাদের কিইবা করা আছে। এই কষ্ট পাওয়া পর্যন্তই! বাজেট পেশের পর দিন এদেশের সবচেয়ে পরিচিত ইংরেজী পত্রিকাটি তার প্রথম পাতার পুরোটা জুড়েই বাজেট নিয়ে ব্যঙ্গ কার্টুন ছেপেছে। আরো কয়েকটি পত্রিকাও নানান ব্যঙ্গ কার্টুন ছেপেছে।
বাজেট পেশের পরদিন সেই ইংরেজী পত্রিকাটি বেশ সমালোচনা করেছে। এই বাজেট নিয়ে তারা বেশ রিপোর্ট টিপোর্ট করেছে। তাদের একটা রিপোর্টের শিরোনাম ছিল- “Lofty goals, fragile base” উপশিরোনাম ছিল- Muhith unwraps yet another fat budget, hopes for a magical turnasound amid poor implementation record.
এই রিপোর্টটি থেকে প্রথম কিছু কথা এখানে তুলে ধরছি- It looks like another repeat story. We had a big budget that failed to achieve its targets. Now we are pushing for a bigger one with higher targets. But with the ground reality remaining the same, are we to see a story fore told for the next year?
এবারের বাজেটে বড় একটা অংশ খরচ হবে ব্যাংকের সুদ পরিশোধে। এছাড়াও এই বাজেটে হাজারো অনিয়মে ভরা। আর এরকম অনিয়ম হওয়াটাই অতি স্বাভাবিক কারণ বাজেট পেশকারী ক্ষমতাসীন সরকার নির্বাচিত নয়। তাদের দায়বদ্ধতা বলতে কিছু নেই।
আমার এক ছোট ভাই বিদেশে ফাইন্যান্স “ল” তে লেখা পড়া করতো। সে ওই সময় দেশে এলে আমার সাথে অর্থনৈতিক বিষয়গুলো নিয়ে শিক্ষণীয় আলোচনা করতো। সে আশঙ্কা করতো যে বাংলাদেশে অতি শিঘ্রই বড় একটা Economic Collapse ঘটবে। সে অর্থনৈতিক গবেষণা করে বুঝতে পেরেছিল যে এমনটা হতে পারে। এর বড় একটা কারণ সে দেখছিল যে এদেশে অনির্বাচিত সরকার ক্ষমতায়। সুতরাং একটা হওয়া খুবই স্বাভাবিক। বাস্তবে সেই Economist Collapse ঘটেই গেল। সমস্ত দেশে নাই নাই একটা ভাব। ব্যাংকের গ্রাহক কমেছে। ব্যাংক লুট হয়েছে বিভিন্ন কৌশলে। ব্যবসা বাণিজ্যতে স্থবিরতা। অবশ্যই মিডিয়ার বড় অংশটা এসব বুঝতে দিচ্ছে না। মারো ধরো একটা একটা সংস্কৃতি সারা দেশে চালু হয়ে গেছে। এজন্য দেশে মানুষকে যথেষ্ট সচেতন হয়ে উঠতে হবে। প্রতিবাদী হতে হবে। দেশকে ভালোবাসতে শিখতে হবে। পরিবর্তন ঘটাতে হতে ক্ষমতায় কাঠামোয়। তবেই ভালো বাজেট পাওয়া যাবে। নতুবা এমন বাজে বাজেট বারবার দেখতে হবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ