ঢাকা, শনিবার 30 June 2018, ১৬ আষাঢ় ১৪২৫, ১৫ শাওয়াল ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

খুলনা জেলার ৯৫ হাজার অসহায় নারী-পুরুষ বেঁচে থাকার অবলম্বন পেলেন

খুলনা অফিস : খুলনা জেলার ৯৫ হাজার ৫৪৪ জন নারী-পুরুষ পেলেন বেঁচে থাকার অবলম্বন। বয়স্ক, বিধবা এবং প্রতিবন্ধী এসব সহায় সম্বলহীন নারী-পুরুষ মানবেতর জীবন থেকে মুক্তি পেলেন সরকারের সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির মাধ্যমে। খুলনা জেলা সমাজসেবা অধিদপ্তর সুত্রে জানা যায়, খুলনা জেলা ও মহানগর এলাকায় মোট ৬০ হাজার নারী ও পুরুষ নিয়মিত বয়স্ক ভাতা, ২১ হাজার ৫০৭ জন বিধবা ভাতা এবং ১৪ হাজার ৩৭ জন নিয়মিত প্রতিবন্ধী ভাতা পাচ্ছেন। সমাজসেবা বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কাজী ইব্রাহিম বলেন, খুলনা মহানগর ও জেলায় এই কর্মসূচির আওতায় বয়স্ক ভাতা ও প্রতিবন্ধী ভাতা এবং জেলার নয় উপজেলায় বিধবা ভাতা চালু আছে। খুলনা জেলা ও মহানগর এলাকায় মোট ৬০ হাজার নারী ও পুরুষ নিয়মিত বয়স্ক ভাতা, ২১ হাজার ৫০৭ জন বিধবা ভাতা এবং ১৪ হাজার ৩৭ জন নিয়মিত প্রতিবন্ধী ভাতা পাচ্ছেন। এর মধ্যে শুধুমাত্র রূপসা উপজেলায় ৪ হাজার ৫২৪ জন বয়স্ক ভাতা, ১ হাজার ৫৩৯ জন বিধবা ভাতা এবং ১ হাজার ১৪৬ জন প্রতিবন্ধী ভাতা পাচ্ছেন। কাজী ইব্রাহীম আরো জানান, বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার আগে নির্বাচনী ইশতেহারে যে বিষয়গুলোকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেয় তার মধ্যে অন্যতম ছিল দেশের হতদরিদ্রদের জন্য সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী বিস্তৃত করা। ক্ষমতায় আসার পর সরকারের প্রথম মেয়াদে কার্যকরী ও যথোপযুক্ত নীতি গ্রহণ ও পরিকল্পিত পরিকল্পনা বাস্তবায়নের ফলে দারিদ্র্যের হার বহুলাংশে কমে এসেছে। সরকারের চলতি মেয়াদ শেষে এ হার আরো কমিয়ে আনার লক্ষ্যে কাজ করছে। এই ব্যাপারে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় সারাদেশের সুবিধা বঞ্চিত, বিপন্ন ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে নানাবিধ সহায়তা প্রদানের মাধ্যমে তাদের সমাজের মুল স্রোতধারায় এনে দেশের সার্বিক উন্নয়নের ধারাকে আরো বেগবান করার লক্ষ্যে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। খুলনা জেলার রূপসা উপজেলার আইচগাতী ইউনিয়নের দেয়াড়া গ্রামের ভিজিডি গ্রহীতা লাভলী বেগমের আর্থিক অবস্থা এখন আগের চেয়ে ভাল। সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় পাওয়া সহায়তার কারণে এখন তিনি কিছুটা সুখের মুখ দেখেছেন। লাভলী বলেন, ‘আমি ভিজিডি কার্ড পেয়েছি। এতে দু’টি বাচ্চা নিয়ে আমার সংসার ভালভাবে চলছে। এখন আর আগের মত কষ্ট নেই।’এই গ্রামে আরো কথা হয় বিধবা ভাতা গ্রহীতা গোলেয়ারা বেগমের সাথে। গোলেয়ারার স্বামী নেই। ছোট ছোট তিনটি বাচ্চা নিয়ে আগে অনেক অভাব অনটনের মধ্যে কোনমতে সংসার চালাতেন। এখন তার সেই অবস্থার কিছুটা হলেও অবসান হয়েছে। গোলেয়ারা জানালেন, ‘আমি নিয়মিত বিধবা ভাতা পাচ্ছি। যা পেয়ে আমার সংসারের অনেক উপকার হচ্ছে।’একই গ্রামের আবুল গাজী। বয়সের ভারে নুয়ে পড়েছেন। বয়স্ক ভাতার কয়েকটি টাকাই তার বেঁচে থাকার সম্বল। তিনি বলেন, ‘এমনিতেই বয়স্ক মানুষের শেষ জীবন অনেক কষ্টের। তার উপরে আমার কোন ছেলে সন্তান নেই। বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা আমাদের মত বয়স্ক মানুষদের পাশে এসে দাঁড়িয়েছেন এবং প্রতি মাসে ভাতা দিচ্ছেন। আমি তাঁর জন্য দোয়া করি। তিনি যেন দীর্ঘজীবী হন।’ গ্রামের একেবারে হতদরিদ্র পরিবারগুলো এসেছে বর্তমান সরকারের সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ১০টি বিশেষ উদ্যোগের মধ্যে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি অন্যতম। সরকারের সামজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির উদ্দেশ্য হচ্ছে বয়স্ক এবং অক্ষম জনগোষ্ঠীর আর্থসামাজিক উন্নয়ন ঘটানো। এই কর্মসূচির আওতায় অস্বচ্ছল পরিবারগুলো বয়স্ক ভাতা, বিধবা ভাতা, ভিজিডি ও প্রতিবন্ধী ভাতা গ্রহণ করে তাদের জীবন মানের কিছুটা হলেও উন্নয়ন ঘটিয়েছে। এর ফলে তাদের দারিদ্র্যের বোঝাও কিছুটা লাঘব হয়েছে। আইচগাতী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান অধ্যাপক আশরাফুজ্জামান বলেন, ‘আমার ইউনিয়ন একটি বড় ইউনিয়ন, এখানে জনসংখ্যাও অনেক বেশি। তাদের মধ্যে গরীব মানুষের সংখ্যা আরো বেশি। এখানকার অনেকেই ভিজিডি, বিধবা ও বয়স্ক ভাতা একং প্রতিবন্ধী ভাতা পাচ্ছেন। এতে তাদের জীবন ধারণের সুবিধা হচ্ছে।
তিনি জানান, আইচগাতী ইউনিয়নে প্রতিমাসে মোট ১০৯৮ জন নারী ও পুরুষ বয়স্ক ভাতা, ৩৬০ জন বিধবা ভাতা এবং ২৮৮ জন প্রতিবন্ধী ভাতা পাচ্ছেন। এর মধ্যে দেয়াড়া গ্রামে ১৩০ জন প্রতিমাসে ৫০০ টাকা করে বয়স্ক, ২৮ জন মাসে ৫০০ টাকা করে বিধবা ভাতা এবং ২৭ জন প্রতিমাসে ৬০০ টাকা করে প্রতিবন্ধী ভাতা পাচ্ছেন। তিনি ভবিষ্যতে ভাতার পরিমাণ আরো বাড়ানোর দাবি জানিয়ে বলেন, অসহায় এই মানুষগুলোর জন্য ভাতা বৃদ্ধি পেলে দরিদ্র এই জনগোষ্ঠী দারুণভাবে উপকৃত হবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ