ঢাকা, রোববার 1 July 2018, ১৭ আষাঢ় ১৪২৫, ১৬ শাওয়াল ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

আর্জেন্টিনাকে বিদায় করে ফ্রান্স কোয়ার্টার ফাইনালে

পর পর দুই গোল করার পর এমবাপ্পের উল্লাস -ইন্টারনেট

রফিকুল ইসলাম মিঞা : রাশিয়া বিশ্বকাপে প্রথম দল হিসেবে কোয়ার্টার ফাইনাল নিশ্চিত করেছে ফ্রান্স। গতকাল নকআউট পর্বের প্রথম ম্যাচে আর্জেন্টিনাকে ৪-৩ গোলে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনাল নিশ্চিত করেছে ফরাসিরা। ফলে নকআউট পর্বের প্রথম শিকার হয়ে দেশের পথ ধরতে হচ্ছে গত আসরের রানার্সআপ মেসির আর্জেন্টিনাকে। অবশ্য প্রথম পর্বেই বিদায় নিয়ে দেশের টিকিট ধরতে হয়েছে চ্যাম্পিয়ন জার্মানিকে। আর নকআউট পর্বের প্রথম ম্যাচেই বিদায় নিতে হলো রানার্সআপ আর্জেন্টিনাকে। ফলে গত আসরের চ্যাম্পিয়ন জার্মানি আর রানার্সআপ আর্জেন্টিনাকে ছাড়াই এগিয়ে যাচ্ছে রাশিয়া বিশ্বকাপ। গতকাল কোয়ার্টার ফাইনালে উঠার ম্যাচে জয়ী হতে আশাবাদী ছিল দু’দলই। কারণ এর আগে আর্জেন্টিনার দু’বার আর ফ্রান্সের একবার বিশ্বকাপ জয় করার অভিজ্ঞতা ছিল। তবে সব হিসাব-নিকাশ পিছনে ফেলে শেষ পর্যন্ত টিকে রইল ফান্সই। আর মেসিদের বিদায়ে কোটি কোটি ফুটবল ভক্তদের হৃদয় ভেঙেছে ঠিকই। কারণ অনেকেই চাননি এতো আগে বিদায় হোক মেসিদের। গতকাল আর্জেন্টিনাকে ৪-৩ গোলে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে উঠার ম্যাচে ফ্রান্সের পক্ষে দুটি গোল করেন এমবাপে। আর একটি করে গোল করেন গ্রিজম্যান ও পাভার্ড। আর্জেন্টিনার পক্ষে একটি করে গোল করেন ডি ম্যারিয়া, মার্রকাদো আর আগেুয়েরো।
গুরুত্বপূর্ণ এই ম্যাচে প্রথমেই পিছিয়ে পড়ে আর্জেন্টিনা। খেলার ১৩ মিনিটে পেনাল্টি থেকে গ্রিজম্যানের গোলে এগিয়ে যায় ফ্রান্স। ম্যাচের ১১ মিনিটে বল নিয়ে বিপজ্জন ভাবে আর্জেন্টিনার ডি-বক্সে ঢুকে যান কিলিয়ান এমবাপে। কিন্তু এই ফরোয়ার্ডকে বাধা দেন মার্কোস রহো। ট্যাকেলের শিকার হয়ে এমবাপে পড়ে গেলে ফাউলের বাঁশি বাজান রেফারি। ফলে পেনাল্টি পেয়ে যায় ফ্রান্স। আর স্পট কিক থেকে গোল করতে মোটেও ভুল করেননি আতোয়াঁ গ্রিজমান। বিশ্বকাপে পেনাল্টি থেকে এটি তার দ্বিতীয় গোল। অবশ্য ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক খেলতে থাকে ফ্রান্স। ১০ মিনিটের মধ্যে তিন তিনটি আক্রমণে করে দলটি। এর মধ্যে পল পগবার একটি ফ্রি কিক আর্জেন্টিনার গোলবারে লাগলে সে যাত্রায় বেঁচে যায় মেসিরা। তবে পেনাল্টি গোলে পিছিয়ে পড়ে গোল পরিধোশের জন্য মরিয়া হয়ে খেলতে থাকে দলটি। আর বিরতির আগেই গোল পরিশোধ করে আর্জেন্টিনা। প্রথমার্ধের শেষ দিকে, ম্যাচের ৪১ মিনিটে ডি মারিয়ার অবিশ্বাস্য গোলে ১-১ এর সমতায় ফিরেছে মেসিরা। প্রথমার্ধ যখন এগিয়ে থেকে বিরতিতে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে ফ্রান্স ঠিক তখন ৪১ মিনিট ৩৫ গজ দূর থেকে বা পায়ের চোখ ধাঁধানো শটে দুর্দান্ত গোলে আর্জেন্টিনাকে সমতায় ফেরান এঞ্জেল ডি মারিয়া। এরপরেই যেন প্রাণ ফিরে পায় পুরো আর্জেন্টিনা। অবশ্য খেলার ১৯ মিনিটে একবার এমবাপেকে ফাউল করেন আর্জেন্টাইন তালিয়াফিকো। পগবার নেওয়া ফ্রি-কিক গোলবারের অনেক উপর দিয়ে চলে যায়। ফলে প্রথমার্ধে ১-১ গোলে সমতা নিয়ে বিরতিতে যায় দল দুটি। বিরতির পর মাঠে নেমে আরো আক্রমণাত্মক হয়ে খেলতে থাকে আর্জেন্টিনা। আর সফলও হয় দলটি। খেলার ৪৮ মিনিটে আরো একটি গোল করে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে যায় মেসির আর্জেন্টিনা। মেসির গোল মুখে দূরপাল্লার শর্টে পা লাগিয়ে মার্রকাদো গোল করে দলকে এগিয়ে নেয়। মেসির নেওয়া বা-পায়ের শট মার্কাদোর পায়ে লেগে লরিসকে বোকা বানিয়ে জালে জড়ায়। ফলে উল্লাসে মেতে ওঠে আর্জেন্টিনা। তবে আর্জেন্টিনার এই উল্লাাস বেশি সময় টিকেনি। কারণ খেলার ৫৭ মিনিটে ফান্সের পক্ষে বেঞ্জামিন পাভার্ড গোল করে খেলা আবার ২-২ গোলে সমতায় আনে। আর খেলার ৬৮ মিনিটে ফ্রান্স আরো একটি গোল করে দলকে এগিয়ে নেন ৩-২ ব্যবধানে। দলের পক্ষে এই গোলটি নকরেন এমবাপে। খেলার ৬৮ মিনিটে আরো একটি গোল পায় ফ্রান্স। এবার দলের হয়ে গোলটি করেন এমবাপেই। পরপর দুটি গোল করে দলকে এমবাপে জয়ের পথেই নিয়ে যান। তবে অতিরিক্ত সময়ে একটি গোল পরিধোধ করে আর্জেন্টিনা। দলের পক্ষে তৃতীয় গোলটি করে আগুয়েরো। শেষ বাঁশি বাজার আগে আর কোন গোল না হলে ৪-৩ গোলে হেরে বিদায় নিতে হয় মেসির আর্জেন্টিনাকে। এই ম্যাচে আর্জেন্টিনা দলে একটিই পরিবর্তন নিয়ে মাঠে নামে। হিগুয়েইনের পরিবর্তে শুরুর একাদশে স্থান পেয়েছেন পাভন। অন্যদিকে পূর্ণ শক্তির দল নিয়ে নেমেছে ফ্রান্স। বিশ্বকাপে এর আগে কখনোই ফ্রান্সের কাছে হারেনি আর্জেন্টিনা। এর আগে দুইবার বিশ্ব আসরে দেখা হয়েছিল দুই দলের। দুইবারই জিতেছিল আর্জেন্টিনা। তবে এবার হারতে হলো মেসিদের।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ