ঢাকা, রোববার 1 July 2018, ১৭ আষাঢ় ১৪২৫, ১৬ শাওয়াল ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

সেনা ছাউনি থেকে বাংলাদেশের মানুষকে গণতন্ত্র এনে দিয়েছি -শেখ হাসিনা

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গতকাল শনিবার ঢাকায় গণভবনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের বিশেষ বর্ধিত সভায় বক্তৃতা করেন -সংগ্রাম

স্টাফ রিপোর্টার : আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, মনোনয়ন দেয়ার ক্ষেত্রে আমরা তৃণমূলের মতকে প্রাধান্য দিয়ে থাকি। আগামীতেও সকলের মতামত নিয়ে আমরা মনোনয়ন দেব। ইতোমধ্যে আমরা সার্ভে করে যাচ্ছি। তারপরও আমরা যাকে দেই, আমাদের ঐক্য বজায় রাখতে হবে। সেটাও আমাদের মাথায় রাখতে হবে।
গতকাল শনিবার প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনে চট্টগ্রাম, সিলেট, রাজশাহী ও বরিশাল বিভাগের ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক ও দল সমর্থিত ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানদের নিয়ে এক বিশেষ বর্ধিত সভা অনুষ্ঠিত হয়। পবিত্র ধর্মগ্রন্থ পাঠের মধ্যদিয়ে সভার সূচনা হয়। শুরুতে শোকপ্রস্তাব উপস্থাপন করেন দলের দফতর সম্পাদক আবদুস সোবহান গোলাপ। পরে পঁচাত্তরের ১৫ আগস্ট নিহতদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। সভায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।
সভাপতি হিসেবে নিজের বক্তব্যের পর তৃণমূল নেতাদের কথা শোনেন আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। বিশেষ বর্ধিত সভার সমাপনী বক্তব্যে শেখ হাসিনা বলেন, অনেক ইউনিয়নের নেতারা মিটিংয়ের পর সুন্দর করে আমাদের কাছে প্রস্তাব পাঠান। ওই প্রস্তাবগুলো আমি নিজেই পড়ি এবং তাদের মতামতকে প্রাধান্য দিয়ে থাকি। সংগঠন করতে হলে সেভাবেই করতে হবে।
শেখ হাসিনা বলেন, নৌকার যেন বিজয় হয়। রাজাকার, খুনি, এতিমের টাকা যারা আত্মসাতকারী, অর্থ পাচারকারী, সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ, মাদকের বিষয়টা প্রচার করবেন। আমরা যে উন্নয়ন করেছি তা গ্রামগঞ্জের মানুষের কাছে ছড়িয়ে দিতে হবে। তা এখন থেকে বলতে হবে। কাকে মনোনয়ন দেয়া হয়েছে সেটা বড় কথা নয়, নৌকা মার্কায় আপনাদের ভোট চাইতে হবে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২০৪১ সালের মধ্যে প্রতিটি গ্রামকে শহর হিসেবে গড়ে তুলতে চাই আমরা। এবারও বাজেটে কৃষি ও পল্লী উন্নয়নে আমরা সবচেয়ে বেশি বাজেট দিয়েছি।
বিএনপি ও জামায়াত জোটের সমালোচনা করে বলেন, আমরা সেনা ছাউনি থেকে বাংলাদেশের মানুষকে গণতন্ত্র এনে দিয়েছি। পুরো রাজনীতিকে কলুষিত করে দিয়েছে তারা। তারা বাংলাদেশের ভাগ্য পরিবর্তন করতে না পারলেও নিজেদের  ভাগ্য ঠিকই পরিবর্তন হয়েছে।
তৃণমূলের ঐক্যের ওপর গুরুত্বারোপ করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘সেনাসমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার আমাকে গ্রেফতারের পর আওয়ামী লীগসহ শিক্ষক সমাজ ও ছাত্রসমাজ প্রতিবাদ করেছিল। তবুও একটার পর একটা মামলা দিয়েছিল ওই সরকার। কিন্তু তৃণমূল নেতারা ঐক্যবদ্ধ ছিলেন বলে সেনাসমর্থিত সরকার আমাকে মুক্তি ও নির্বাচন দিতে বাধ্য হয়। নির্বাচনে বিরাট বিজয়ের মাধ্যমে আমরা ক্ষমতায় এসেছি। আওয়ামী লীগের লক্ষ্য দেশের সার্বিক উন্নয়ন। ২০১৪ সালে ক্ষমতায় এসেছি বলেই আজ বাংলাদেশ উন্নয়নের রোলমডেল।
আওয়ামী লীগের তৃণমূল নেতাদের উদ্দেশে তিনি বলেছেন, যে সমস্ত ইউনিয়নে কোন্দল আছে তা মিটিয়ে ফেলতে হবে। যুদ্ধাপরাধী, জঙ্গি, দুর্নীতিবাজ, মানি লন্ডারিংকারীরা যাতে ক্ষমতায় আসতে না পারে সে জন্য সকলকে সতর্ক থাকতে হবে।
গাজীপুরের নির্বাচন প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগ ঐক্যবদ্ধ থাকলেই যে বিজয় অর্জিত হয় তা আবার প্রমাণিত হয়েছে। দলে এবার কোনও বিভেদ ছিল না। এই বিজয়ই ভবিষ্যতে বিজয়ী হওয়ার পথ দেখাবে। এই ধারা বজায় রাখতে পারলে জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও আওয়ামী লীগ বিজয়ী হতে পারবে। গাজীপুরের জয়ে প্রমাণ হয়েছে আওয়ামী লীগ যদি ঐক্যবদ্ধ থাকে কিংবা আওয়ামী লীগ কোনও কিছু অর্জনের জন্য দৃঢ়প্রতিজ্ঞ হলে কেউ বাধা দিয়ে থামিয়ে রাখতে পারে না।
 শেখ হাসিনার ভাষ্য, ‘আগামী জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে আওয়ামী লীগকে আরও সুসংগঠিত ও শক্তিশালী করতে হবে। জনসমর্থনও বাড়ানো দরকার। আমরা দেশের মানুষের কল্যাণে কাজ করি। কোনোরকম দলীয় কোন্দল যেন না থাকে সেদিকে খেয়াল রেখে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। যেখানে যেখানে সমস্যা আছে, তা দ্রুত মিটিয়ে ফেলা প্রয়োজন।’
মাদকবিরোধী অভিযানের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘মাদক শুধু একটি জীবন নয়, পুরো পরিবারকে ধ্বংস করে দেয়। মাদকের বিরুদ্ধে আমাদের অভিযানে সবার সহযোগিতা চাই। গ্রামে-গঞ্জে সবার কাছে মাদকের কুফল তুলে ধরতে হবে।
গ্রামীণ উন্নয়নে বাজেটের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা গ্রামের রাস্তাঘাটের উন্নয়নে বাজেট দিচ্ছি, টাকা-পয়সা ছাড় দিচ্ছি। সেখানে যেন কোনও দুর্নীতি না হয় সে বিষয়ে সবাইকে খেয়াল রাখতে হবে। প্রতিটি টাকা যথাযথভাবে ব্যয়ের মাধ্যমে আপনারা নিজেদের এলাকার উন্নয়ন করবেন, আমি এটাই চাই।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ