ঢাকা, রোববার 1 July 2018, ১৭ আষাঢ় ১৪২৫, ১৬ শাওয়াল ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

ঐক্যপ্রক্রিয়ার পরই রাজপথে সরকার হটাও আন্দোলন

স্টাফ রিপোর্টার : বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ বলেছেন, আওয়ামী লীগ ও ১৪ দল ছাড়া সকল রাজনৈতিক, বুদ্ধিজীবী, সুশীলসমাজের প্রতিনিধি ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিদের মধ্যে যারা ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনতে চায়, তাদের নিয়ে জাতীয় ঐক্য গড়ার প্রক্রিয়া চলছে। ঐক্যপ্রক্রিয়ার পর আর ঘরে বসে থাকতে হবে না। বর্তমান ফ্যাসিবাদ সরকার হটানোর আন্দোলনে আপনারা রাজপথে থাকবেন। তখন আর নিয়মতান্ত্রিক আন্দোলন হবে না। কেননা পৃথিবীর কোনো দেশের স্বৈরতান্ত্রিক, ফ্যাসিবাদী ও একদলীয় সরকারকে নিয়মতান্ত্রিক আন্দোলনের মাধ্যমে পতন ঘটানো যায় না। আরেক নেতা গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেছেন, আওয়ামী লীগ জানে তারা যে অপকর্ম করেছে ক্ষমতা হারালে শুধু এদেশে নয় পৃথিবীর কোথাও তাদের ঠাঁই হবে না। সেই ভয়েই আাওয়ামী লীগ একক ক্ষমতায় থেকে দমনের সরকার প্রতিষ্ঠা করেছে।
গতকাল শনিবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে জাতীয় নাগরিক অধিকার মঞ্চ আয়োজিত ‘বেগম খালেদা জিয়ার জামিন ও চিকিৎসা নিয়ে সরকারের নোংরা কৌশল বন্ধের দাবিতে প্রতিবাদ সভায় বিএনপির নীতিনির্ধারণী ফোরামের শীর্ষ এই দুই নেতা প্রধান অতিথি ও প্রধান বক্তার বক্তব্যে এসব কথা বলেন।
সংগঠনের সভাপতি নিপুন রায় চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য আবু নাসের মুহাম্মদ রহমাতুল্লাহ, নাজিম উদ্দীন মাস্টার, খালেদা ইয়াসমিন প্রমুখ।
ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ বলেছেন, আমরা তো সবকিছু হারিয়েছি। আমাদের নেত্রী জেলখানায়। আমরা দেশে গণতন্ত্র হারিয়েছি, অধিকার হারিয়েছি। আইনের শাসন হারিয়েছি। বিচার বিভাগের স্বাধীনতা হারিয়েছি। এমনকি গণমাধ্যমের স্বাধীনতাও হারিয়েছি। একটা জাতি কিসের ওপর নির্ভর করে বড় হয়? উন্নতি লাভ করে ওই ফ্লাইওভার দিয়ে নয়। রাস্তা-ঘাট নিয়ে নয়। সেতু দিয়ে নয়। একটা জাতির উন্নতি হয় তার মূল্যবোধ কতটুকু তার ওপর নির্ভর করে। এই মূল্যবোধ দেশে এখন নেই।
বিএনপির এই শীর্ষ নেতা বলেন, ১৯৭৫ সালের চতুর্থ সংশোধনী আর আজকের একদলীয় শাসনের মধ্যে কোনও পার্থক্য নেই।  বর্তমানে ফ্যাসিবাদী সরকার দেশ চালাচ্ছে। তারাই বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর সংবিধানকে খ--বিখ- করেছে। একদলীয় বাকশাল কায়েম করেছে। তাদের মানসিকতা এতদিনেও পরিবর্তন হয়নি। সেই সময়ে সংবিধান সংশোধন করে বাকশাল প্রতিষ্ঠা করেছিল, সেটা অনেকটা পরিষ্কার ছিল। এখন যেটা করা হয়েছে এটা অনেক প্রতারণামূলক ও প্রবঞ্চনামূলক একটি ব্যবস্থা। কাগজে কলমে বলছে সবই আছে, কিন্তু আসলে কিছুই নাই। জনগণের সঙ্গে এই প্রতারণার জন্য ইতিহাসে তারা দায়ী হয়ে থাকবে। এই কলঙ্ক থেকে আওয়ামী লীগ কোনোদিন মুক্ত হতে পারবে না।
তিনি বলেন, আমাদের এক নম্বর এজেন্ডা হলো আমাদের নেত্রীকে মুক্ত করা। কারণ তার মুক্তির মাধ্যমেই বাংলাদেশে আবার গণতন্ত্র ফিরে আসবে, এটা আমরা বিশ্বাস করি। তারা (আওয়ামী লীগ) ভয় করে বেগম জিয়া যদি বাইরে আসেন, তাহলে তাদের অবস্থা যেকোনো সময়ের তুলনায় আরও বেশি শোচনীয় হবে। বেগম জিয়া যেদিন মুক্তি পেয়ে জেলখানা থেকে বেরিয়ে আসবেন, সেদিন সরকারের বিরুদ্ধে দেশে নতুন জোয়ার সৃষ্টি হবে।
তিনি আরও বলেন, আমরা সিটি নির্বাচনে অংশ নিয়ে জনগণকে দেখাচ্ছি যে, এ সরকারের অধীনে কোনো সুষ্ঠু নির্বাচন হতে পারে না। এই নির্বাচনগুলো সরকারের জন্য একটি পরীক্ষা। দলীয় সরকারের অধীনে কখনই নিরপেক্ষ নির্বাচন হতে পারে না। বিশেষ করে এই আওয়ামী লীগ সরকারের অধীনে কোন নির্বাচন সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ হবে না। এটা খুলনা ও গাজীপুরে প্রমাণিত হয়েছে। আমরা আগামীতে বরিশাল, সিলেট ও রাজশাহীতে অংশ নিয়ে জাতিকে আরও পরিষ্কার ম্যাসেজ দিতে চাই যে এ সরকারের অধীনে কোনো নির্বাচন হবে না।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির আরেক সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, আওয়ামী লীগ জানে তারা ক্ষমতা হারালে শুধু এদেশে নয় পৃথিবীর কোথাও তাদের ঠাঁই হবে না। সেই ভয়েই আাওয়ামী লীগ দেশে একক ক্ষমতায় থেকে দমনের সরকার প্রতিষ্ঠা করেছে। তারা এভাবে সামনে এগুতে চায়। ভোটের মাঠেও রাজনীতিতে কাউকে সুযোগ দিতে চায় না। কারণ তাদের মনে চরম ভয় কাজ করছে।
গয়শ্বের বলেন, আগামী দিনগুলোতে কী হবে তা নির্ভর করছে আজকের দিনগুলোর ওপর। গণতন্ত্র ও খালেদা জিয়া থাকবে কি-না তা তরুণ ও যুবকদের ঠিক করতে হবে। রাজপথে রক্ত ঝরাতে হবে। না হলে কিছুতেই গণতন্ত্র পুনপ্রতিষ্ঠা করা যাবে না। গণতন্ত্র ও বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্ত করতে আপনাদের রাজপথে কঠিন ও শক্তিশালী আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ