ঢাকা, রোববার 1 July 2018, ১৭ আষাঢ় ১৪২৫, ১৬ শাওয়াল ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

যানবাহন দুর্ঘটনা

যাত্রী কল্যাণ সমিতির রিপোর্টে ১১ জুন থেকে ২৩ জুন পর্যন্ত ঈদকালীন সময়ে বিভিন্ন দুর্ঘটনায় জীবনহানির মারাত্মক তথ্য পাওয়া গেছে। শুধু ২৭৭টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৩৩৯ জনের জীবনহানি ঘটেছে। আর সড়ক, নৌ ও রেলপথ মিলে ৩৩৫টি দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছে ৪০৫ জন মানুষ। গত কয়েক বছরের তুলনায় এবারের দুর্ঘটনায় জবীনহানির ঘটনা সর্বোচ্চ। অথচ বলা হয়েছিল এবার ঈদযাত্রীদের যাওয়া এবং আসা নিরাপদ হবে। কিন্তু তা হয়নি। ঈদে বাড়ি যাবার সময় যাত্রাপথে তদারকিটা মোটামুটি ভালো ছিল কিন্তু ঈদের পরে ফিরতি যাত্রাপথে কোনো তদারকি ছিল না। এর ফলে দুর্ঘটনার মাত্রা বেড়েছে।
মোট দুর্ঘটনার ৩৪ শতাংশেরও বেশি মুখোমুখি সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে, পথচারিদের গাড়ি চাপা দেয়ার ঘটনা ঘটেছে ৩২ শতাংশ। ১৩ শতাংশ দুর্ঘটনা ঘটেছে গাড়ি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পড়ার কারণে। দুর্ঘটনার এই প্রকৃতি থেকে পরিষ্কার যে গাড়ি ও ড্রাইভারের ত্রুটি এবং আইন না মানার কারণেই বেশির ভাগ দুর্ঘটনা ঘটেছে। যাত্রীকল্যাণ সমিতির রিপোর্টে দুর্ঘটনার কারণ সম্পর্কে বলা হয়েছে ‘ফিটনেসবিহীন যানবাহন, পণ্যবাহী যানবাহনে যাত্রী বহন, বিরতিহীন বিশ্রামহীনভাবে যানবাহন চালানো, অদক্ষ চালক ও হেলপার দ্বারা গাড়ি চালানো। এছাড়া মহাসড়কে অটোরিকশা বাটারিচালিত রিকশা, নছিমন, করিমন ও মোটরসাইকেল অবাধে চালানো, মনিটরিং ব্যবস্থা না থাকা, বেপরোয়া গতিতে যানবাহন চালানো, মহাসড়কগুলোতে ফুটপাত না থাকা, সড়ক মহাসড়কের বেহাল দশা ইত্যাদিকেও দুর্ঘটনার বড় কারণ বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
উপরোক্ত কারণগুলো প্রায় সবই প্রশাসনের সাথে জড়িত। এসব কারণগুলোর প্রতিরোধের উপযুক্ত আইন রয়েছে। কিছুকিছু ক্ষেত্রে নতুন আইনের প্রয়োজন। যেটুকু আইন আছে তার যদি কঠোর বাস্তবায়ন হতো তাহলে উল্লেখিত দুর্ঘটনার অধিকাংশ থেকে রক্ষা পাওয়া যেত। কিন্তু আইন আছে তার বাস্তবায়ন নেই। ফিটনেসবিহীন গাড়ি যত্রতত্র দেখা যায়। অদক্ষ ড্রাইভার দিয়ে গাড়ি চালানোর অভিযোগ বহু পুরানো। বলা যায় ড্রাইভারদেরকে প্রায় ধরাছোঁয়ার বাইরে রাখা হয়েছে। দেশে এত অ্যাক্সিডেন্ট কিন্তু ড্রাইভারের শাস্তি পাওয়ার দৃষ্টান্ত খুবই কম। এবার ঈদে যাত্রীদের আসা যাওয়ার সময় যে ব্যাপক দুর্ঘটনা ঘটেছে তার প্রেক্ষিতে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, বিরতিহীন এবং বিশ্রামহীনভাবে কোনো ড্রাইভারকে দিয়ে গাড়ি চালানো যাবে না। গাড়িতে বাড়তি ড্রাইভার রাখতে হবে। দুর্ঘটনার অন্য সব কারণের ব্যাপারে তিনি কোনো নির্দেশনা দেননি। আমরা মনে করি ফিটনেসবিহীন গাড়ি চালানো এবং অদক্ষ ড্রাইভারকে ব্যবহার করা, মহাসড়কের বেহাল দশা, মহাসড়কে তদারকির অভাব দুর্ঘটনার বড় কারণ। শুধু ঈদের সময় নয় অন্য সময়ে যে দুর্ঘটনা ঘটে তারও কারণ এগুলো। এবার ঈদে যা ঘটলো এবং আমাদের সড়কগুলোতে যে সব দুর্ঘটনা ঘটে তা বন্ধ করতে হলে দুর্ঘটনার সব কারণই দূর করতে হবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ