ঢাকা, রোববার 1 July 2018, ১৭ আষাঢ় ১৪২৫, ১৬ শাওয়াল ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

চট্টগ্রামে ম্যাক্স হাসপাতালে ভুল চিকিৎসায় সাংবাদিক কন্যার মৃত্যুর অভিযোগ

সাংবাদিক রুবেল খানের সাথে তার শিশু কন্যা রাইফা

চট্টগ্রাম ব্যুরো : চট্টগ্রামের বেসরকারি হাসপাতাল ম্যাক্স হাসপাতালে ভুল চিকিৎসায় আড়াই বছরের এক শিশুর মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। গত শুক্রবার দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে চট্টগ্রাম মহানগরীর মেহেদীবাগের ম্যাক্স হাসপাতালে রাইফা খান নামে ওই শিশুটি মারা যায়। রাইফা খান দৈনিক সমকালের স্টাফ রিপোর্টার রুবেল খানের মেয়ে।
মারা যাওয়া শিশু রাইফার পরিবারের দাবি, চিকিৎসকের অবহেলায় মৃত্যুর ঘটনা হয়েছে। শিশুটি মারা যাওয়ার পর সাংবাদিকদের দাবির মুখে কর্তব্যরত চিকিৎসক ও নার্সকে পুলিশ ধরে থানায় নিলেও পরে ছেড়ে দেয়। ঘটনার পর সিভিল সার্জনকে আহ্বায়ক করে পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়, গলার ব্যথার কারণে কিছু খাচ্ছিল না রাইফা। সে কারণে বৃহস্পতিবার বিকেলে তাকে ভর্তি করা হয় ম্যাক্স হাসপাতালে। রাইফার বাবা সাংবাদিক রুবেল খান অভিযোগ করে জানান, হাসপাতালে ভর্তির পর থেকেই নানা অব্যবস্থাপনা দেখতে পাচ্ছিলেন তারা। জরুরি বিভাগে বসিয়ে রাখা হয় দুই ঘণ্টা। এর মধ্যে রাইফাকে অ্যান্টিবায়োটিক ইনজেকশন দেন কর্তব্যরত চিকিৎসক। দেখা যাচ্ছিল যে, যখনই ইনজেকশন দেওয়া হচ্ছিল তখনই শিশুটি ছটফট করতে শুরুর করে। পরে তিনি ইনজেকশনটি বদলে দিতে হাসপাতালটির চিকিৎসকদের অনুরোধ করেন। তখন হাসপাতাল থেকে একজন নাক, কান, গলা বিশেষজ্ঞের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলা হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে ডা. সুমন তালুকদারের পরামর্শ নেন। তিনি দুটি এক্স-রে পরীক্ষা দেন। সেই দুটিতে খারাপ কিছু ধরা পড়েনি বলেও দাবি করেন রুবেল খান। এর পর ডা. সুমন তালুকদার একজন শিশু বিশেষজ্ঞের সঙ্গে পরামর্শ করতে বলেন। এরপর হাসপাতালের শিশু বিশেষজ্ঞ ডা. বিধান রায়কে অনকলে আনে রাইফার পরিবার। রুবেল খানের দাবি, কেবিনে এসে শিশুটিকে পরীক্ষা না করেই কর্তব্যরত চিকিৎসকের দেওয়া প্রেসক্রিপশন দেখেই তিনি ওষুধ লেখেন। আগের ব্যবস্থাপত্রের সঙ্গে কেবল একটি ইনজেকশন যোগ করেন। পরে শুক্রবার রাতে রাইফার অবস্থার অবনতি হতে থাকে। একপর্যায়ে প্রচণ্ড খিঁচুনি ওঠে শিশুটির। পরে রাত সাড়ে ১২টার দিকে মারা যায় রাইফা।
এ ঘটনার জন্য হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে দায়ী করেন রুবেল খান। তবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ভুল চিকিৎসায় মুত্যু হয়েছে এমনটি মানতে নারাজ।
 ম্যাক্স হাসপাতালের জেনারেল ম্যানেজার রঞ্জন প্রসাদ দাশ বলেন, শিশুটির জন্য সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল। তাকে আইসিইউতেও নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত চিকিৎসকদের শত চেষ্টাতেও বাঁচানো যায়নি রাইফাকে।
এদিকে রুবেল খানের মেয়ে মারা যাওয়ার খবর পেয়ে রাতেই ম্যাক্স হাসপাতালে ছুটে যান সাংবাদিকরা। তাদের প্রতিবাদের মুখে পুলিশ গিয়ে কর্তব্যরত চিকিৎসক ও নার্সকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়। পরে গতকাল  শনিবার ভোরে চট্টগ্রামের বিএমএ নেতারা তাদের ছাড়িয়ে নিয়ে যান।
চকবাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবুল কালাম গণমাধ্যমকে বলেন, ম্যাক্স হাসপাতালের ঘটনায় রাতেই এক চিকিৎসকসহ ৩ জনকে থানায় নিয়ে আসা হয়। পরে সাংবাদিক ও চিকিৎসক নেতাদের সাথে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে একটি তদন্ত কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত হয়। কমিটিতে জেলা সিভিল সার্জন, সাংবাদিক ও পুলিশের প্রতিনিধি থাকবেন। তদন্তে কমিটির প্রতিবেদনে চিকিৎসায় কোন অবহেলা পাওয়া গেলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের সিদ্ধান্ত হয়েছে।
এদিকে ভুল চিকিৎসায় শিশু রাইফার মৃত্যুর ঘটনায় পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে জেলা সিভিল সার্জন। কমিটিকে আগামী পাঁচ কর্মদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।
শিশু রাইফার মৃত্যুতে শোক :
চিকিৎসক ও নার্সকে জোরপুর্বক ছাড়িয়ে নিতে বিএমএ নেতার হস্তক্ষেপ অগ্রহণযোগ্য- ক্যাব চট্টগ্রামের নিন্দা ও প্রতিবাদ : ভূল চিকিৎসায় মৃত্যুর প্রকৃত কারন অনুসন্ধান করে দায়ীদের বিরুদ্ধে দৃষ্ঠান্তমুলক ব্যবস্থা গ্রহন এবং মানুষের জীবন নিয়ে খেলা করার প্রবণতা বন্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহনের দাবি জানিয়েছেন কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ(ক্যাব) চট্টগ্রাম বিভাগীয় ও নগর কমিটি। চট্টগ্রামে বেসরকারি ক্লিনিকে ভূল চিকিৎসায় রোগীর মৃত্যু পরবর্তীতে চিকিৎসককে থানায় আটক ও সেখান থেকে বিএমএ নেতার হস্তক্ষেপ এ জোরপুর্বক ছাড়িয়ে নিয়ে আসার ঘটনায় ক্ষোভ ও নিন্দা জানিয়ে এক বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ উপরোক্ত দাবি জানান।
বিবৃতিতে স্বাক্ষর করেছেন ক্যাব কেন্দ্রিয় কমিটির ভাইস প্রেসিডেন্ট এস এম নাজের হোসাইন, ক্যাব চট্টগ্রাম বিভাগীয় সাধারন সম্পাদক কাজী ইকবাল বাহার ছাবেরী, ক্যাব মহানগর সভাপতি জেসমিন সুলতানা পারু, সাধারন সম্পাদক অজয় মিত্র শংকু, দক্ষিন জেলা সভাপতি আবদুল মান্নান প্রমুখ।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ