ঢাকা, রোববার 1 July 2018, ১৭ আষাঢ় ১৪২৫, ১৬ শাওয়াল ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

এমপি মানিকের মদদেই আ’লীগ নেতা ফারুককে খুন করা হয়েছে

সিলেট ব্যুরো : সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলার উত্তর খুমরা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ফারুক আহমদকে স্থানীয় এমপি মুহিবুর রহমান মানিকের মদদে তার চাচাতো ভাই ইউপি  চেয়ারম্যান বিলাল আহমদ ও তার সহযোগীরা খুন করে বলে অভিযোগ করেছেন নিহতের স্ত্রী রেহেনা বেগম। গতকাল শনিবার সিলেট প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ অভিযোগ করেন।
খুনীদের গ্রেপ্তার করে বিচার নিশ্চিত করতে তিনি আওয়ামী লীগের সভানেত্রী, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হস্তক্ষেপও কামনা করেন। সংবাদ সম্মেলনে রেহেনা আরো অভিযোগ করেন থানা পুলিশ  মামলা গ্রহণ করেনি। স্থানীয় বিরোধের কারণে তার স্বামীকে খুন করা হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। সংবাদ সম্মেলনে তার পক্ষে লিখিত বক্তব্য পাঠ করে নিহত ফারুকের ভাতিজা মেডিকেল কলেজ ছাত্র বায়জিদ আলম।
লিখিত বক্তব্যে উল্লেখ তিনি বলেন, গত ২২ জুন দিবাগত রাতে দুর্বৃত্তরা নৃংশসভাবে কুপিয়ে ও গলা কেটে তার স্বামীকে হত্যা করে বিলের পানিতে লাশ গুম করে রাখে। ফারুক ব্যবসার পাশাপাশি তৃণমূল আওয়ামী লীগের একজন সক্রীয় কর্মী। অন্যায়, অবিচার ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে প্রতিবাদী একজন মানুষ হিসেবে তার পরিচিতি ছিল। নিখোঁজ হওয়ার পর পাতলাচুরা বিলের পাড়ে তার পরনের জামাকাপড় পাওয়া যায়। ২৩ জুন লাশের অনুসন্ধান করে পুলিশ এবং ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল লাশের সন্ধ্যান করে ব্যর্থ হয়। পরদিন ২৪ জুন পাতলাচুরা বিলের তার লাশের সন্ধান মিলে। লাশের শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন ও গলাকাটা ছিল। লাশ গুম করতে লাশের গলায় ইট বেধে পানিতে ফেলে রাখে খুনীরা।
তিনি অভিযোগ করে বলেন, ‘সুনামগঞ্জ-৫ আসনের আওয়ামী লীগ দলীয় সংসদ সদস্য মুহিবুর রহমান মানিকের আশ্রয়-প্রশ্রয়ে ও পৃষ্টপোষকতায় স্থানীয় পর্যায়ে অন্যায় ও নানা অপকর্মের রাজত্ব কায়েম করেছেন তারই চাচাতো ভাই উত্তর খুরমা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান বিলাল আহমদ। বিলালের সাথে নানা কারণে র্দীঘদিন ধরে তার স্বামীর দ্বন্দ্ব রয়েছে। বিলালের নানা অন্যায় ও অবৈধ কাজের প্রতিবাদ করায় সে আমার স্বামীর উপর ক্ষিপ্ত ছিল। আওয়ামী লীগের দায়িত্বশীল পদে থাকলেও বিলালের অন্যায় কাজে কোনোদিন প্রশ্রয় দেননি।’ স্বামীর হত্যার পেছনে এমপির মদদ রয়েছে উল্লেখ করে রেহেনা জানান, তার স্বামীর নৃশংস এই খুনের ঘটনায় এমপি মানিকের সমর্থনপুষ্ট ইউপি  চেয়ারম্যান বিলাল ও তার সহযোগীরা জড়িত। পুলিশ নিরপক্ষে তদন্ত করলে এর সত্যতা অবশ্যই বেরিয়ে আসবে।’
তিনি আরো বলেন, হত্যার ঘটনায় তিনি ২৫ জুন সন্ধ্যায় ইউপি বিলাল আহমদ ও তার ১০/১২ জন সহযোগীকে আসামী করে ছাতক থানায় এজাহার দেন। পুলিশ তা গ্রহণ করে কপিও দেয়। কিন্তু  কোনো এক অদৃশ্য শক্তির ইশারায় মামলা রেকর্ড না করে এজাহের রিসিভ কপিতে ঘষামাজা করে ফেরত দেয় পুলিশ। ফলে তিনি বাধ্য হয়ে ২৭ জুন সুনামগঞ্জ আমলগ্রহণকারী জুডিশিয়াল ম্যাজেস্ট্রেট আদালতে ১০ জনের নাম উল্লেখ করে মামলা করেন। 
রেহেনা বেগম দাবি করেন, তার এজাহারটি না নিয়ে যে অজ্ঞাতনামা আসামী করে যে মামলা করা হয় তা খুনীদের রক্ষার জন্যই করা হয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে নিহত ফারুকের শিশু সন্তান ইয়াছিন আহমদ, মেয়ে আরিফা ও জেনিফা, ভাই আতিক মিয়া, মানিক মিয়া প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ