ঢাকা, রোববার 1 July 2018, ১৭ আষাঢ় ১৪২৫, ১৬ শাওয়াল ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

বাজেট বরাদ্দ নিয়ে ছায়া সংসদ বির্তকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বিজয়ী

স্টাফ রিপোর্টার: দেশের অনগ্রসর জনগোষ্ঠি প্রতিবন্ধীদের জীবনমান উন্নয়নে প্রতিবছর বাজেটে প্রয়োজনীয় বরাদ্দ প্রদান করা হচ্ছে। প্রতিবন্ধীদের প্রতি অবহেলা, অবমূল্যায়ন, অশোভন আচরণ প্রতিরোধসহ তাদের অধিকার প্রতিষ্ঠায় সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি বেসরকারি অংশীদারিত্ব প্রয়োজন। কিন্তু প্রতিবন্ধীদের উন্নয়নে পারিবারিক-সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি ও কুসংস্কার দূর করা না গেলে কেবলমাত্র বাজেট বরাদ্দ ও সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বের মাধ্যমে প্রতিবন্ধী জনগোষ্ঠির অধিকার নিশ্চিত করা সম্ভব নয় বলে মনে করেন বির্তক অনুষ্ঠানে অংশ নেয়া বিতার্কিরা।
গতকাল শনিবার বিকালে রাজধানী ঢাকার এফডিসিতে দৃষ্টি প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে ‘প্রতিবন্ধীদের অধিকার নিশ্চিত করণে বাজেট বরাদ্দ ও সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্ব’ নিয়ে ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির আয়োজনে এক ছায়া সংসদ অনুষ্ঠিত হয়। বিতর্ক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী এম এ মান্নান এমপি। অনুষ্ঠানের সঞ্চালক ছিলেন ডিবেট ফর ডেমোক্রেসি’র চেয়ারম্যান হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ। বিতর্ক প্রতিযোগিতায় বিচারক হিসেবে ছিলেন বিজিএমইএ ইউনিভার্সিটি অব ফ্যাশন এন্ড টেকনোলজি ডিবেটিং ক্লাবের মডারেটর আতিকুর রহমান, দৈনিক প্রথম আলোর সাংবাদিক আবু মোহাম্মদ রইস, দৈনিক ইত্তেফাকের বিশেষ প্রতিনিধি মাইনুল আলম, রিসার্চ এন্ড ডকুমেন্টেশন এক্সপার্ট এটুআই প্রোগ্রাম প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের মোস্তাফিজুর রহমান খান প্রমুখ। বিতর্ক প্রতিযোগিতায় বিজয়ী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দৃষ্টি প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীরা হলেন, আইয়ুব উল্লাহ রিয়াদ, আনিসুর রহমান, জোবায়ের হোসেন।
অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী এম এ মান্নান প্রধান অতিথির বক্তব্যে বলেন, বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী সকল মানুষ সমান। দৃষ্টি প্রতিবন্ধীসহ সকল নাগরিকের সকল সুবিধা পাওয়ার অধিকার আছে। সরকারি বেসরকারি অংশগ্রহণের মাধ্যমে আমাদের রাষ্ট্রকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে।
প্রতিযোগিতার আয়োজক সংগঠন ডিবেট ফর ডেমোক্রেসি’র চেয়ারম্যান হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ তার বক্তব্যে বলেন, বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যার ১০ শতাংশ প্রতিবন্ধী। এই বিশাল জনশক্তিকে আমরা যদি কাজে না লাগাতে পারি তাহলে আমাদের জিডিপি ৩ থেকে ৭ শতাংশ ক্ষতি হতে পারে। প্রতিবন্ধী জনগোষ্ঠীকে কোথায় কোথায় কাজে লাগানো যায় সেভাবে সরকারি-বেসরকারি তেমন কোনো গবেষণা নেই। পারিবারিক, সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় নানা প্রতিবন্ধকতার কারণে প্রতিবন্ধীদের উন্নয়নের মূলধারায় সম্পৃক্ত করে তাদের অধিকার নিশ্চিত করা যাচ্ছে না। পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ কর্মসূচীর মাধ্যমে প্রতিবন্ধী জনগোষ্ঠীর কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে বেসরকারি খাতের বিনিয়োগকারীদের এগিয়ে আসতে হবে।
 বিতর্ক প্রতিযোগিতার বিচারকগণ বলেন, প্রতি বছর আমরা যেভাবে সর্বোচ্চ কর দাতাকে সম্মানিত করি ঠিক সেভাবে যেসব প্রতিষ্ঠান প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের কর্মসংস্থান করছে তাদের রাষ্ট্রীয়ভাবে স্বীকৃতি প্রদান করা যেতে পারে। তাহলে আরো অনেক প্রতিষ্ঠান প্রতিবন্ধী কর্মী নিয়োগে এগিয়ে আসবে। এছাড়া প্রতিবন্ধী মানুষের কর্মসংস্থানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে কর সুবিধা দিলে আরো বেশি কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে। এবারের বাজেটে প্রতিবন্ধীদের জন্য যা বরাদ্দ রাখা হয়েছে তা এখনো পুরাপুরি স্পষ্ট নয়। তবে যতটুকু বুঝা যাচ্ছে এই বরাদ্দ প্রতিবন্ধী মানুষের তুলনায় তুলনামূলকভাবে কম।
 তারা আরো বলেন, অত্যন্ত দুঃখের সাথে বলতে হচ্ছে ঢাকা শহরে শতকরা ৩০% প্রতিবন্ধী ভিক্ষুককে তাদের পরিবার জোর করে ভিক্ষাবৃত্তি করাচ্ছে। যার পুরো অর্থই পরিবারের অন্য সদস্যরা নিয়ে নেয়। তারা তাদের পরিবারের প্রতিবন্ধী সদস্যকে গাভীর মত অর্থ উৎপাদক যন্ত্র হিসেবে ব্যবহার করে আসছে বলে কিরণ উল্লেখ করেন।
প্রতিযোগিতায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বিরোধী দল ও চট্টগ্রাম বিশ^বিদ্যালয় সরকারি দল হিসেবে ছায়া সংসদে দৃষ্টি প্রতিবন্ধী বিতর্কে অংশগ্রহণ করে। প্রতিযোগিতা শেষে অংশগ্রহণকারী বিতার্কিকদের মাঝে ক্রেষ্ট ও সার্টিফিকেট প্রদান করা হয়।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ