ঢাকা, রোববার 1 July 2018, ১৭ আষাঢ় ১৪২৫, ১৬ শাওয়াল ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

এমপিদের কর্তৃত্বের বদলে ইউএনওর ক্ষমতায়ন চান জেলেরা

স্টাফ রিপোর্টার: জেলেদের জন্য সরকারের বরাদ্দকৃত চাল ঠিকমতো পাচ্ছেন না তারা। সরকারের বেঁধে দেয়া পরিমাণের তুলনায় কম দেয়া হচ্ছে। চাল পেতে হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে। জেলেদের ভিজিএফ কার্ড বিতরণ এমপিদের মাধ্যমে হওয়ায় স্থানীয় নেতাকর্মীরা স্বেচ্ছাচারিতা করছে। প্রকৃত জেলেদের কার্ড দিতে নানা টালবাহানার আশ্রয় নেয়া হয়। সুষ্ঠু বিতরণের স্বার্থে সংশ্লিষ্ট উপজেলা নির্বাহী অফিসারদের (ইউএনও) মাধ্যমে এ কাজ করার দাবি জানানো হয়। এছাড়া জেলেদের সাহায্যের নামে মৎস্যবিভাগ কিছু এনজিও নিয়োগ করেছে। এই এনজিও জেলে সংগঠনকে বিভক্তি ও বিভ্রান্তি ছড়ানোর অপচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
গতকাল শনিবার জাতীয় প্রেসক্লাবে বাংলাদেশ ক্ষুদ্র মৎস্যজীবী জেলে সমিতি আয়োজিত এক সাংবাদিক সম্মেলনে এ সব অভিযোগ করা হয়। একই সাথে তারা জেলেদের স্বার্থ রক্ষায় পাঁচটি দাবি তুলে ধরেন সংগঠনের সভাপতি ইসরাইল পন্ডিত। এ সময় উপস্থিত ছিলেন সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেন শিকদারসহ সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।
লিখিত বক্তব্যে জানানো হয়, বর্তমান সরকার জেলেদের দুঃখ দুর্দশা লাঘবে মা ইলিশ ও জাটকা রক্ষার মৌসুমের চার মাসের প্রতিমাসে একটি পরিবারকে ৪০ কেজি চাল এবং অক্টোবর-নভেম্বর মাসে মা ইলিশ রক্ষায় ২২ দিন ২০ কেজি করে চাল দেয়ার জন্য দুর্যোগ ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দিয়েছে। কিন্তু ২ মাসের চাউল একসাথে ৭০/৭২ কেজি দেয়া হয়েছে। আবার কোনো কোনো ইউনিয়নে চাল দেয়া হয়নি। ইলিশ জোন কক্সবাজার ও কুমিল্লা জেলার ৩টি উপজেলায় জেলেদের নামে কোনো চাল বরাদ্দ দেয়া হয়নি।
সাংবাদিক সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়, বিভিন্ন প্রজাতির মাছের পোনা, মা ইলিশ ও জাটকা রক্ষার নামে কোস্টগার্ড নৌ-পুলিশ ও কতিপয় উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তাদের হয়রানি চরম পর্যায়ে পৌঁছেছে। জেলেরা নদিতে গেলে একবার কোস্টর্গাড, একবার নৌ-পুলিশ এবং একবার মৎস্যকর্মকর্তারা জেলেদের কাছে যেতেই থাকে, জেলেরা বৈধ জাল নিয়েও নদীতে নামতে পারে না। জেলেদের সাহায্যের নামে মৎস্যবিভাগ কিছু এনজিও নিয়োগ করেছে। এই এনজিও জেলে সংগঠনকে বিভক্তি ও বিভ্রান্তি ছড়ানোর অপচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। ২০০৯ সালে জলমহল নীতিমালা প্রনয়ন করা হয়েছে, এই নীতিমালার কারণে জেলেরা জলমহল থেকে বঞ্চিত হয়েছে। এতে জলমহলের মালিকানা এমপি ও প্রতাবশালিদের হাতে চলে গেছে।
একইসাথে জেলেদের সুরক্ষায় ৫টি দাবি তুলে ধরা হয়- এক. মা-ইলিশ, জাটকা, ছোট মাছ ও বিভিন্ন আশ্রয় রক্ষাকালীন সময় প্রতি জেলে পরিবারকে ৬ মাস ৬০ কেজি করে চাল এবং দুই হাজার করে টাকা দিতে হবে। ভূমিহীন জেলেদের খাসজমি দিতে হবে। দুই. মৎস্য সম্পদ, মৎস্যজীবী রক্ষায় খোলা ও বদ্ধ জলমহলের গডফাদারদের উচ্ছেদ ও বদ্ধ জলমহলের অধিকার মৎস্যজীবী জেলে দ্বারা গঠিত জেলে সমিতির হাতে দিতে হবে। তিন. মৎস্যজীবী জেলেদের ভিজিএফ বিকল্প কর্মসংস্থানের অর্থ বিতরণের মৎস্য ও প্রাণীসম্পদ মন্ত্রণালয়ের ২০০৯-২০১০ পরিপত্র বাস্তবায়ন এবং চেয়ারম্যান, মেম্বারদের ভিজিএফ বিতরণে অনিয়ম বন্ধ করে সঠিক সময় ভিজিএফ দিতে হবে। জেলে প্রতিনিধির স্বাক্ষর ছাড়া জেলেদের তালিকা, মাস্টাররোল গ্রহণ করা যাবে না। চার. জলদস্যু দমন, মৎস্য দফতরের ব্যবস্থাপনায় মৎস্যজীবী জেলেদের জীবন বীমা, নিহত মৎস্যজীবী জেলে পরিবারকে ২ লাখ টাকা আর্থিক সাহায্য দিতে হবে। কক্সবাজার, কুমিল্লার ৩টি উপজেলায় জেলেদের নামে খাদ্য সহায়তা বরাদ্দ দিতে হবে। পাঁচ. জাল পোড়ানো, মোবাইল কোর্ট, জলোচ্ছাস, জলদস্যুসহ বিভিন্ন কারণে ক্ষতিগ্রস্থ মৎস্যজীবী জেলে পরিবারকে পুনর্বাসন করতে হবে। মৎস্যদপ্তর থেকে নিয়োগ করা এনজিওদের প্রহসনমূলক পুনর্বাসন বন্ধ করতে হবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ