ঢাকা, রোববার 1 July 2018, ১৭ আষাঢ় ১৪২৫, ১৬ শাওয়াল ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

ভারত পররাষ্ট্রনীতিকে দাসত্বে পরিণত করেছে----- সাবেক মন্ত্রী

৩০ জুন,  ইন্টারনেট: ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার পররাষ্ট্রনীতিকে দাসত্বে পরিণত করেছে বলে মন্তব্য করেছেন পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মন্ত্রী ও কোলকাতার নববালিগঞ্জ মহাবিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড আব্দুস সাত্তার। ইরান থেকে তেল আমদানি বন্ধ করতে ভারতের ওপর মার্কিন চাপ প্রসঙ্গে তিনি ওই মন্তব্য করেছেন।

আজ শনিবার ড আব্দুস সাত্তার ইরানের একটি গণমাধ্যমকে বলেন, ‘দুটো স্বার্থ তো এক হতে পারে না। ভারতের জনগণের স্বার্থ ও আমেরিকার জনগণের স্বার্থ। দুটো আলাদা স্বার্থ। আমেরিকা কী পছন্দ করবে কী করবে না ট্রাম্প প্রশাসন, সেই পছন্দ আমাদের (ভারতের) ঘাড়ে চাপিয়ে দেয়া হবে তোমার পছন্দ, অপছন্দ থাকতে পারে। এশিয়ার একটা দেশ ইরান, আজ থেকে নয়, আমাদের একটা ঐতিহ্যের অংশও তারা। মধ্যপ্রাচ্যের সঙ্গে ভারতের সাংস্কৃতিক সম্পর্ক রয়েছে। এখন তারা বলে দেবে ওখান থেকে তেল কিনবেন, এখান থেকে তেল কিনবেন না এটা তো হতে পারে না। দুটো দেশের স্বার্থ এক হতে পারে না। এখন ট্রাম্প প্রশাসনের স্বার্থের সঙ্গে আমরা যদি আমাদের স্বার্থকে একাত্ম করি তাহলে আমরা এক ভয়ঙ্কর জায়গায় পৌঁছে গেছি। এই সরকার বিদেশনীতিকে দাসত্বে পরিণত করেছে।’

তিনি বলেন, ‘ওরা ঠিক করে দিচ্ছে। এখানে এসে বলে যাচ্ছে, ভারতের মাটিতে দাঁড়িয়ে বলছে, আপনি এটা করবেন, এটা করবেন না এর থেকে অপমানজনক, অসম্মানজনক আর কী হতে পারে? এটা তো হতে পারে না। একটা সরকার এই কাজ করতে পারে না। কীকরে করে? কিন্তু করছে ওই একটাই জায়গায় দাঁড়িয়ে, ভারত-ইসরাইল-ট্রাম্প প্রশাসন, বিজেপি-ইসরাইল একটা ‘অক্ষ’ তৈরি হয়েছে। এটা এক ভয়ঙ্কর অক্ষ এটা ‘ইসলামোফোবিয়া’র নামে তারা ওই অক্ষ তৈরি করেছে। ফলে ইরান থেকে তেল নেওয়া যাবে না’

ড আব্দুস সাত্তার বলেন, ‘একমুখী বিশ্বের আমরা অংশীদার হয়ে যাচ্ছি। ট্রাম্প প্রশাসনের সব খারাপ কাজের আমরা অংশীদার। তারা যা চাইবে, আমরা তাদের ছোট শক্তি হিসেবে কাজ করে যাব। তারা যা বলবে, সেটাকে আমাদের সমর্থন করতে হবে। এটা তো হতে পারে না। কিন্তু এটা হচ্ছে। আরএসএস এই সরকারের চালিকাশক্তি, তারা এই সরকারকে একাজ করতে বলছে।’

এর আগে গত বৃহস্পতিবার ইরান থেকে তেল আমদানি বন্ধ করতে ভারতকে কূটনৈতিক চাপ সৃষ্টি করে আমেরিকা। জাতিসংঘের মার্কিন রাষ্ট্রদূত নিকি হ্যালি দু’দিনের ভারত সফরে এসে গত বৃহস্পতিবার বলেন, ‘ভারতের উচিত ইরানের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক পুনর্বিবেচনা করা। কোন দেশের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক উন্নতি বা অবনতি করবে নয়াদিল্লি, তা আরো একবার ভেবে দেখা দরকার।’

নিকি হ্যালির দাবি, ইরানের কাছে পরমাণু অস্ত্র আছে। গোটা বিশ্ব এ নিয়ে উদ্বিগ্ন এবং একমত। সেজন্য ভারতেরও উচিত ওই বিষয়টি মাথায় রেখেই ইরানের সঙ্গে তেল বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে ভাবনা-চিন্তা করা। এ নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গেও তার ইতিবাচক আলোচনা হয়েছে বলে নিকি হ্যালি জানিয়েছেন।

ট্রাম্প প্রশাসন থেকে হুমকি দিয়ে বলা হয়েছে, নভেম্বরের মধ্যে আমদানি বন্ধ না করলে ভারত আর্থিক নিষেধাজ্ঞার মুখে পডবে। ৪ নভেম্বর পর্যন্ত এ ব্যাপারে সময় বেধে দেয়া হয়েছে।

২০১৫ সালে ইরানের সঙ্গে তেল আমদানি নিয়ে আমেরিকা, ভারতসহ ছ’টি দেশ একটি চুক্তি করে। সম্প্রতি আমেরিকা ওই চুক্তি থেকে বেরিয়ে এসেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এরপর গোটা বিশ্বের কাছে ইরান থেকে তেল আমদানি বন্ধ করার আবেদন জানিয়েছেন। ভারত এ ক্ষেত্রে প্রাথমিকভাবে ২০১৫ সালের ওই চুক্তি মেনে চলার কথা বললেও কার্যত মার্কিন চাপের কাছে নতিস্বীকার করতে চলেছে।

মাত্র মাসতিনেক আগে ইরান থেকে তেল আমদানির পরিমাণ প্রতিদিন দু’লাখ ব্যারেল থেকে বাডেিয় ২০১৮-’১৯-তে তিন লাখ ৯৬ হাজার ব্যারেল করা হবে বলে কথা হয়েছিল প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানি ও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির মধ্যে।

ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজও সেসময় বলেছিলেন, ‘ভারত শুধুমাত্র জাতিসংঘের নিষেধাজ্ঞাকেই মান্য করে। কোনো রাষ্ট্রনির্ভর নিষেধাজ্ঞাকে নয়।’ 

কিন্তু পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে ইরান থেকে তেল আমদানি অনেকটাই কমে যাবে বা একেবারেই তেল আনা হবে না, এমন পরিস্থিতির জন্য দেশের তেল শোধনাগারগুলোকে প্রস্তুত থাকতে বলেছে ভারতের কেন্দ্রীয় তেল মন্ত্রণালয়। গত বৃহস্পতিবার তেল শোধনাগার কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কেন্দ্রীয় তেল মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের বৈঠকে ইরানের তেলের ঘাটতি মেটাতে বিকল্প রাস্তা খোঁজার কথা বলা হয়েছে দেশের তেল শোধনাগারগুলোকে।

ভারতীয় কর্মকর্তারা এ ক্ষেত্রে ইরানের সঙ্গে যতই ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক সম্পর্কের দোহাই দিন না কেন আমেরিকার হুমকির মুখে ভারত কতখানি শক্ত হয়ে দাঁড়াতে পারবে সেটিই দেখার অপেক্ষায় আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা। 

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ