ঢাকা, রোববার 1 July 2018, ১৭ আষাঢ় ১৪২৫, ১৬ শাওয়াল ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

খুলনা বিভাগীয় গণগ্রন্থাগারে আধুনিকতার ছোঁয়া লাগেনি

এম আর রানা: সরকার ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে কাজ করলেও খুলনা বিভাগীয় গণগ্রন্থাগারটিতে এখনো আধুনিকতার ছোঁয়া লাগেনি। ফলে বইয়ের এই বিশাল ভান্ডার থেকে কাক্সিক্ষত জ্ঞান অর্জন করতে পারছে না জ্ঞানপিপাসু পাঠকরা। পাঠককরা এই জ্ঞান ভান্ডারটিকে আধুনিকায়ন করে গড়ে তোলার দাবি জানিয়েছেন।
খুলনা বিভাগীয় সরকারি গণগ্রন্থাগারে লক্ষাধিক বই রয়েছে। এ সব বইয়ের মধ্যে রয়েছে দেশি-বিদেশি বড় বড় কবি সাহিত্যিকদের বিভিন্ন উপন্যাস, গল্প, কবিতা, ধর্মতত্ত্ব, দর্শন, প্রবন্ধ, শিল্প-সাহিত্য বিজ্ঞানসহ বইয়ের এক বিপুল সমাহার। লাইব্রেরিতে গেলেই বইয়ের এই বিপুল সমাহার দেখে হৃদয়-মন জুড়িয়ে যায়। কিন্তু যথাযথভাবে সংরক্ষণ না করায়  ইতোমধ্যে অনেক দুস্প্রাপ্য বই নষ্ট হয়ে গেছে। পাশাপাশি লাইব্রেরির ভবনটি জরাজীর্ণ হয়ে পড়ায় যে কোন মুহূর্তে দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে ।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ১৯৬৪ সালে খালিশপুর থানাধীন বয়রায় খুলনা-যশোর মহাসড়কের পাশে এই পাবলিক লাইব্রেরিটি গড়ে ওঠে। প্রতিষ্ঠার পর প্রায় অর্ধশত বছর অতিবাহিত হয়েছে। অথচ লাইব্রেরিটিকে আধুনিকায়নের জন্য তেমন কোন উদ্যোগ নেয়া হয়নি। বই আদান-প্রদান, সংরক্ষণসহ সকল কার্যক্রম এখনও সনাতন পদ্ধতিতে চলছে। আর এ কারণে অনেক দুস্প্রাপ্য বই নষ্ট হচ্ছে। ক্যাটালগে বই আছে অথচ বাস্তবে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। এসব কারণে গবেষক, শিক্ষক, ছাত্র-ছাত্রীসহ লাইব্রেরি ব্যবহারকারীরা ভোগান্তিতে পড়েছে। তাছাড়া লাইব্রেরির বহু বই পুরাতন হওয়ায় মলাটের নাম মুছে গেছে। ফলে প্রয়োজনীয় বই খুঁজে বের করা অনেকটা  কঠিন হয়ে পড়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গণগ্রন্থাগারটি একটি সেবামূলক প্রতিষ্ঠান। সকল শ্রেণী পেশার মানুষ এ পাবলিক লাইব্রেরি ব্যবহার করতে পারে বলে এটিকে ‘জনগণের বিশ্ববিদ্যালয়’ বলা হয়। এখানে রয়েছে শিশু-কিশোর বিভাগ, রেফারেন্স বিভাগ ও সাধারণ বিভাগ। সাহিত্য, বিজ্ঞান, কল্প কাহিনী, গবেষণা, ইতিহাস, কাব্যগ্রন্থ, সাধারণ জ্ঞান, ধর্মীয় গ্রন্থ ও সাধারণ গ্রন্থসহ বিভিন্ন বিষয়ের লক্ষাধিক বই এ লাইব্রেরিতে রয়েছে। এ ছাড়া এখানে জাতীয় ও আঞ্চলিক, দৈনিক, সাপ্তাহিক, সান্মাষিক, মাসিক ও  ত্রৈমাসিক পত্র-পত্রিকা রাখা হয়। শুধু বইপাঠের ব্যবস্থা নয় এখান থেকে প্রশাসনিক কার্যক্রমও পরিচালনা করা হয়ে থাকে। এ লাইব্রেরির আওতায় খুলনা বিভাগের ১০ জেলায় ১০টি সরকারি লাইব্রেরি রয়েছে। এগুলোর প্রশাসনিক ও আর্থিক কার্যক্রম পরিচালনা করে থাকে খুলনা বিভাগীয় পাবলিক লাইব্রেরি। সে দিক থেকে বিবেচনা করলে  এ লাইব্রেরির গুরুত্ব অপরিসীম। সূত্র জানায়, গ্রন্থাগারের ভবনটি এত বেশি জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছে যে এর দেয়াল থেকে পলেস্তার খসে পড়ছে। বৃষ্টির সময় ছাঁদের ফাটল দিয়ে পানি পড়ে। যে কোন সময় মারাত্মক দুর্ঘটনার আশংকা রয়েছে। ‘সরকারের ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার উদ্যোগকে আরো এক ধাপ এগিয়ে নিতে গ্রন্থাগারটিকে আধুনিকায়ন করা একান্ত প্রয়োজন। ‘ডিজিটাল’ গ্রন্থাগার হিসেবে এটিকে গড়ে তুলতে কম্পিউটার সরবরাহ, ইন্টারনেট সংযোগ এবং ইন্টারনেট কর্ণার স্থাপনসহ সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা প্রদান জরুরি। এছাড়া জনবলের সংখ্যা বাড়ানোও প্রয়োজন। দ্রুত পাঠক সেবা প্রদানের লক্ষ্যে ক্যাটালগ কার্ডের পরিবর্তে সফটওয়ারের মাধ্যমে গ্রন্থাগারে সেবার আধুনিকায়ন করা এখন সময়ের দাবি।
সূত্র আরো জানায়, সভা সেমিনার আয়োজনের জন্য এখানে কোন অডিটোরিয়াম নেই। অথচ খুলনাবাসি দীর্ঘদিন ধরে গণগ্রন্থাগারে একটি অডিটোরিয়াম নির্মাণের দাবি জানিয়ে আসছে। এটি নির্মিত হলে শুধু সেবার মানই বৃদ্ধি পাবে না, সরকারের রাজস্ব আয়ের একটি নতুন খাত হিসেবেও এ অডিটোরিয়ামটি পরিচিতি পাবে।
পাঠকদের সাথে কথা বলে জানা যায়, গ্রন্থাগারটি বর্তমান পাঠকদের অনুকূলে নেই। বৈদ্যুতিক পাখা থাকলেও তা’ পর্যাপ্ত নয়। প্রচন্ড গরমে দুর্ভোগ পোহাতে হয় পাঠকদের। তাই পাঠক সেবার মান বৃদ্ধি ও পাঠকদের গ্রন্থমুখী করার লক্ষ্যে প্রয়োজন বৈদ্যুতিক জেনারেটর স্থাপনসহ শীতাতপ নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা। এ ব্যাপারে বিভাগীয় সরকারি গণগ্রন্থাগারের উপপরিচালক হরেন্দ্রনাথ বসু বলেন, একটি আধুনিক অডিটোরিয়ামসহ অন্যান্য সুযোগ সুবিধা সম্বলিত ৮৪ কোটি টাকার একটি প্রকল্প তৈরি করে মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। প্রকল্পটি পাশ হলে দ্রুত কাজ শুরু করা হবে এবং সকল সমস্যার সমাধান হবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ