ঢাকা, রোববার 1 July 2018, ১৭ আষাঢ় ১৪২৫, ১৬ শাওয়াল ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

ধানের বাম্পার ফলন হলেও হাসি নেই কৃষকের মুখে

শ্রীনগর (মুন্সীগঞ্জ): মুন্সীগঞ্জ শ্রীনগরে ইরি ধানের বাম্পার ফলন হলেও কয়েক দিনের টানা বর্ষণের কারণে কৃষকের সে স্বপ্ন অম্লাল হতে বসেছে। বর্ষা মৌসুমের আগে থেকেই প্রায় প্রতিদিনই ঝড়-বৃষ্টির কবলে পড়েছে চাষিরা। কার্তিক মাস থেকেই ধানের বীজ বপন শুরু, বীজ থেকে গজায় চারা। এসব চারা  দুই থেকে আড়াই মাসের মধ্যে জমিতে চারা রোপণ করতে হয়। জমিতে রোপনের পর ধানের চারা গুলো হৃষ্টপুষ্ট হয়ে উঠলে, কৃষকেরা ধান ক্ষেতের আগাছা পরিস্কার করে। চারা গুলোতে প্রয়োজন মত সেচ,সার ও কীট নাশক দিতে হয়। চারা থেকে বেরিয়ে আসে ধান গাছের শীষ। আর এই শীষেই হয় ধান। আনুমানিক প্রায় ১৬০ দিন পর কৃষকেরা ধান কাটা শুরু করে।
উপজেলা কৃষি অফিসার কল্যান কুমার জানায়, এ বছর শ্রীনগরে ১০ হাজার ১৫  হেক্টর জমিতে ধান চাষা-বাদ করেছে চাষিরা। আসা করা যাচ্ছে ৫৫ হজার মেট্রিক টন ধান উৎপাদিত হবে। গত বছরে চাষিরা ধানের ন্যার্য্য মূল্য পাওয়ার কারনে এ বছর চাষিরা গত বছরের তুলনায় জমিতে বেশি ধান চাষ করেছন। গত বছরে ৯ হাজার ৮২৫ হেক্টর জমিতে ধান চাষাবাদ হয়েছিল এবং ৫০ হাজার মেট্রিক টন ধান উৎপাদিত হয়েছিল। উপজেলার ষোলঘর ইউনিয়নের কেয়াটখালী গ্রামের কৃষক আব্দুর মান্নান জানান, গত বছর দেরকানি জমিতে ধান রোপন করে ছিলাম।
তাতে আমি ধান পেয়েছি ১৫০ মণ। এ বছর আধাকানি জমিতে ধান রোপন করেছি, আসা করছি গত বছরের মতো এ বছর ভালো ধান পাব। কিন্তু সময় মত ধান কাটার জন্য শ্রমিক পাচ্ছিনা। বাড়ৈখালী ইউনিয়নের কৃষক আব্দুর গফুর শেখ জানায়, আমি গত বছর বেশ ভাল ধান পেয়ে ছিলাম। এ বছরও ধান ভালো হয়েছে। ঝড়-বৃষ্টির কারনে, আমার ধান মাটিতে শুয়ে পরেছে। এ কারণে ধান কাটতে সমস্যা হচ্ছে। কি কররো কিছুই বুঝতে পারছিনা।  শ্রীনগরের বিভিন্ন এলাকায় ধান কাটতে বরিশাল, ফরিদপুর, রংপুর ও রজশাহি সহ উত্তর-দক্ষিণ অঞ্চল থেকে শত শত শ্রমিক আসে। কিন্তু খেতে পানি জমে থাকার কারণে ধান কাটা কঠিন হয়ে পরেছে। এ কারনে শ্রমিকেরা কাজ না করে ফিরে চলে যাচ্ছে। আর যে কয়েক জন শ্রমিক পাওয়া যাচ্ছে তাদের দিতে হচ্ছে অতিরিক্ত অর্থ।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ