ঢাকা, রোববার 1 July 2018, ১৭ আষাঢ় ১৪২৫, ১৬ শাওয়াল ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

প্রকৃতির বন্ধু তাল গাছ আর দেখা যায় না

শ্রীনগর (মুন্সীগঞ্জ) : মুন্সীগঞ্জ শ্রীনগর থেকে হারিয়ে যাচ্ছে গ্রাম বাংলার প্রকৃতির বন্ধু তাল গাছ। গ্রাম-বাংলার ঐতিহ্য রক্ষা ও শোভ বর্ধনে তাল গাছের জুড়ি মেলেনা। আদি কাল থেকে তাল গাছ গ্রাম বাংলার শোভা বৃদ্ধিতে অকৃত্রিম ভূমিকা রেখে এসেছে। সেই তাল গাছ আজ প্রকৃতি থেকে হারিয়ে যাচ্ছে। এক সময় বিভিন্ন সড়ক ও মহা সড়কের পাশে সারি-সারি তাল গাছ শোভা পেতে দেখা গেছে। এখনও দু’একটা তাল গাছ গ্রাম-গঞ্জের ঝোপ-ঝারে দেখা গেলেও তা কেউ বুনেনি। অতিতে অপরিচিত মানুষের বাড়ি, জমি, পুকুর, মাঠ, মসজিদ, মাদরাসা, স্কুল, কলেজসহ বিভিন্ন স্থান দেখানোর জন্য বলা হতো উচুঁ ওই তাল গাছ টার পাশে। এমনকি সরকারি বা বে-সরকারি ভাবে নানা দিক নির্দেশনার ক্ষেত্রেও তাল গাছের সহায়তা নেওয়া হতো। তালের পিঠা, তালের গুড়, তালের রস, সব মানুষের খুব মজাদার খাবার। বিশেষ করে অতীত সময় গুলোতে গ্রাম-বাংলায় তালের পিঠা ছাড়া আত্বীয়তা কল্পনাই করা যেত না। এছারা তাল গাছের পাতা দিয়ে তৈরী হয় নানা ডিজাইনের হাত পাখাও। উপজেলা থেকে ক্রমশই তাল গাছ হারিয়ে যাওয়ায় গ্রামীণ পরিবার গুলোতে নেই সেই তালের পিঠার অস্তিত্ব। এছাড়া তাল গাছের গাছের ফালি দিয়ে কাচাও পাকা ঘরের লড়া তৈরী করা হয়ে থাকে। গ্রাম-বাংলার সব পেশার মানুষের বহুমূখী কাজে লাগে তাল গাছ। জানা-গেছে, নোয়াখালী জেলার লক্ষীপুর ওয়াজ উল্লাহ নামে একজন ব্যক্তি শ্রীনগর পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় এন্ড কলেজের শিক্ষক ছিলেন। প্রায় ৬/৭ বছর পূর্বে তিনি মারা যান। তিনিই উপজেলার ছনবাড়ি চৌরাস্তা, বেজগাঁও, ফেরিঘাট,চকবাজসহ বিভিন্ন স্থানে ব্যাপক তাল গাছের চারা রোপন করেছিলেন। আজ সেই তাল গাছের কোন অস্তিত্বই নেই। সরকারি ভাবে সঠিক নজরদারির অভাবে উপজেলার অনেক তাল গাছ সড়ক উন্নয়ন, দোকান ঘর নির্মাণসহ প্রয়োজনে-অপ্রয়োজনে কেটে ফেলা হয়েছে। অথচ বিভিন্ন প্রজাতির গাছ রক্ষায় সরকারি ভাবে নানা পদক্ষেপ নিলেও প্রকৃতির বন্ধু তাল গাছ রক্ষায় তেমন কোন ভূমিকা পালন করতে দেখা যায়নি। অযতœ-অবহেলা ও গুরুতের অভাবে তাল গাছ এখন প্রায় বিলুপ্তির পথে। এখনও অবশিষ্ট থাকা তাল গাছ গুলো এক শ্রেণীর অসাধু কাঠ ব্যবসায়ীরা কেটে উজাড় করে চলেছে। মানুষ আর ভারসাম্য রক্ষায়  প্রকৃতির সেই তালগাছ নিকট ভবিষ্যতে তেমন চোখে পরবেনা বলে মনে করছেন প্রবীন ও অভিজ্ঞ ব্যক্তিরা। যে হারে তাল গাছ কাটা হচ্ছে, সেই হারে অথবা তার কম পরিমান তালগাছও রোপন করা হচ্ছেনা বলে অভিযোগ উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের বাসিন্দাদের।
এব্যাপারে উপজেলা ফরেস্টার বন অফিসার মোঃ মোস্তাফা কামালের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমাদের শ্রীনগর উপজেলায় সরকারি ভাবে তালগাছ কর্তনের কোন রুপ অনুমতি দেওয়া হয় নাই। বিগত মৌসুমে তাল চারা বোপনের পদক্ষেপ নেওয়া হবে। তাল বীজ বপনের মাধ্যমে চারা উত্তোলন করা হবে। পরবর্তীতে রোপন যোগ্য হলে রোপন করার পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ