ঢাকা, রোববার 1 July 2018, ১৭ আষাঢ় ১৪২৫, ১৬ শাওয়াল ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

খুলনায় প্রতিপক্ষের হামলায় জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক জামালসহ ৬ জনকে কুপিয়ে জখম

খুলনা : দিঘলিয়ায় সন্ত্রাসী হামলায় আহত জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক কামরুজ্জামান জামাল ও সহ-দপ্তর সম্পাদক এডভোকেট শাহ আলম

খুলনা অফিস : খুলনায় প্রতিপক্ষের হামলায় জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক কামরুজ্জামান জামালসহ ৬ জন আহত হয়েছে। এ সময় তাকে লক্ষ্য করে গুলীবর্ষণ ও তার বহনকৃত গাড়ি ভাংচুর করা হয়। শুক্রবার দিবাগত রাত ৮টার দিকে খুলনার দিঘলিয়া উপজেলার নগরঘাট ফেরিঘাট এলাকায় এ হামলার ঘটনা ঘটে। দিঘলিয়ায় রাজনৈতিক গণসংযোগ শেষে খুলনায় ফেরার পথে হামলার শিকার হন জামাল। এ সময় ৩টি মোটরসাইকেল পুড়িয়ে দেয়া হয়। এলাকায় টান টান উত্তেজনা বিরাজ করছে।

হামলায় আহত অন্যরা হচ্ছেন-জেলা আওয়ামী লীগের উপ-দপ্তর সম্পাদক এডভোকেট মো. শাহ আলম, দিঘলিয়া উপজেলা যুবলীগের সভাপতি হাবিবুর রহমান, সরদার জাকির হোসেন ও জামালকে বহনকারী প্রাইভেটকারের চালক জুয়েলসহ ৬ জন। এদের মধ্যে কামরুজ্জামান জামাল ও এডভোকেট শাহ আলমকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

এলাকাবাসী জানান, শুক্রবার রাতে কামরুজ্জামান জামাল ও তার সমর্থকরা নগরঘাটে নদী পারাপারের জন্য অপেক্ষা করছিলেন। এ সময় প্রতিপক্ষের লোকজন রামদা ও লাঠিসোঠা নিয়ে অতর্কিত হামলা চালায়। তারা কয়েকটি গাড়ি ভাংচুর করে ও জামালসহ ৬ জনকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে আহত করে। ঘটনাস্থলে কালো রঙের প্রাইভেটকার (খুলনা মেট্রো গ ১১-০৬২৯) ভাংচুর ও তিনটি মোটরসাইকেলে আগুন দেয়া হয়। ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা এই আগুন নিয়ন্ত্রণে নেয়। পরে পুলিশ প্রহরায় জামালকে নদী পার করে দেয়া হয়। এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। 

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ঘটনার সময় ২০/৩০ জনের মতো একদল লোক তাদের গাড়ি বহরে হামলা চালায়। আশপাশের লোকজন ঘটনা দেখে দিগবিদিক ছুটতে থাকে। কিছুক্ষণ পরই ঘটনাস্থলে বেশ কয়েক রাউন্ড গুলীর শব্দে আশপাশে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। বেশ কয়েকটি মোটরসাইকেল, দু’টি প্রাইভেটকার ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয় বলেও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান। 

জানা যায়, কামরুজ্জামান জামাল আগামী জাতীয় নির্বাচনে খুলনা-৪ আসনের সম্ভাব্য সংসদ সদস্য প্রার্থী হিসেবে প্রস্তুতি নিচ্ছেন। দীর্ঘদিন ধরেই তিনি নির্বাচনী এলাকায় গণসংযোগ করছেন। আহত কামরুজ্জামান জামাল বলেন, দিঘলিয়ায় সংগঠনের ঈদ পুনর্মিলনী অনুষ্ঠান শেষে নগরঘাট ফেরিঘাটে এলে ১০/১২টি মোটরসাইকেলে করে তাদের ওপর হামলা চালানো হয়। এ সময় হামলাকারীরা তাকে লক্ষ্য করে দুই রাউন্ড গুলী করে। পরে তার বহনকৃত গাড়ি ভাংচুর করে ও তার বাম হাত কুপিয়ে জখম করে। হামলায় এডভোকেট শাহ আলমসহ আরো ৪/৫ জন জখম হয়। হামলাকারীরা বহরের কয়েকটি মোটরসাইকেল পুড়িয়ে দেয়।

আহত এডভোকেট শাহ আলম বলেন, তারা যখন খুলনায় ফেরার পথে ঘাটে পৌঁছায়। তখন সেখানে নদী পারাপারের জন্য নৌকা বা ফেরি কিছুই ছিল না। পরিকল্পিতভাবে তা ওপারে আটকে রাখা হয়। এরপর হঠাৎ করেই মোটরসাইকেলে করে এসে হামলাকারীরা প্রথমে তাকে কুপিয়ে জখম করে।

এদিকে খবর পেয়ে আওয়ামী লীগ নেতা জামালের সমর্থকরা খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভিড় করে। তারা এই হামলার বিচার ও সন্ত্রাসীদের গ্রেফতারের দাবি জানান। এ ব্যাপারে দিঘলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাবিবুর রহমান বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয়। তিনি বলেন, তিনটি মোটরসাইকেলে আগুন দেয়া হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িতদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ