ঢাকা, সোমবার 19 November 2018, ৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৫, ১০ রবিউল আউয়াল ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

ভারতে হোয়াটসঅ্যাপে ছেলেধরা গুজব ছড়িয়ে ১৪ জনকে পিটিয়ে হত্যা

মোহিনি দেবি নাথ: গুজব ছড়িয়ে তার বোনকে আহমেদাবাদে পিটিয়ে মারা হয়েছে

সংগ্রাম অনলাইন ডেস্ক:

ভারতের গুজরাট থেকে পশ্চিমবঙ্গ, আসাম, অন্ধ্র প্রদেশ, মহারাষ্ট্র, ওড়িশাসহ নানা রাজ্যে হোয়াটসঅ্যাপে ছেলেধরা গুজব ছড়িয়ে গণপিটুনি দিয়ে মেরে ফেলা হচ্ছে নিরীহ মানুষকে। গত দেড়মাসে অন্তত ১৪জন মানুষকে ছেলেধরা সন্দেহে গণপিটুনিতে মেরে ফেলা হয়েছে। সর্বশেষ ঘটনাটি হয়েছে ত্রিপুরায়, যেখানে ৪জনের মৃত্যু হয়েছে।

 ত্রিপুরার পুলিশ বলছে, গত মাসের ২৭ আর ২৮ তারিখ সেরাজ্যের বিভিন্ন এলাকায় ছেলেধরা সন্দেহে ৪ জনকে পিটিয়ে মেরে ফেলা হয়েছে। এদের মধ্যে আছেন সুকান্ত চক্রবর্তী বলে এক যুবক, যাকে ছেলেধরার গুজব রোধ করতে গ্রামে গ্রামে প্রচার করতে পাঠিয়েছিল সরকার।

 একজন নারীকেও ছেলেধরা সন্দেহে পিটিয়ে মারা হয়েছে। জনতার রোষে পড়ে মারা গেছেন উত্তরপ্রদেশ থেকে ত্রিপুরায় নানা জিনিষ ফেরি করতে আসা এক ব্যক্তি। যারা আহত হয়েছিলেন, তাঁদের মধ্যে একজন পরে হাসপাতালে মারা যান।

 পুলিশ জানায়, হোয়াটসঅ্যাপে একটি ভিডিও ছড়িয়ে দিয়ে গুজব রটানো হচ্ছে যে বাইরে থেকে ছেলেধরার দল এসেছে। মেসেজগুলির বয়ান মোটামুটি একই রকম, কিন্তু একেকটি এলাকায় সেগুলিকে অনুবাদ করে দেওয়া হচ্ছে। একটি ছোট ভিডিও জুড়ে দেওয়া হচ্ছে মেসেজের সঙ্গে। ওই ভিডিওটির উৎস খুঁজতে গিয়ে দেখা গেছে সেটি পাকিস্তানের এক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের তৈরি শিক্ষামূলক প্রচার ফিল্মের অংশ।

বিশ্লেষকরা বলছেন, ভারতে কোটি কোটি মানুষ মোবাইল ফোনে ইন্টারনেট ব্যবহার করেন, কিন্তু তাঁদের মধ্যে কোনোরকম বিশ্লেষণ করার ক্ষমতাই নেই। ইন্টারনেট ব্যবহারের দিক দিয়ে তারা অশিক্ষিতই থেকে গেছেন। মেসেজগুলি আসল কী না, তা খতিয়ে দেখার তাগিদও কেউ অনুভব করছে না। তারা যা দেখছেন, তাতেই বিশ্বাস করে ফেলছেন। আর এই বিপুল সংখ্যক মানুষের ওপরে নজরদারি কার্যত অসম্ভব বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

হোয়াটসঅ্যাপে ভিডিও শেয়ার করে ছেলেধরার গুজব ছড়ানো হচ্ছে

ছেলেধরার গুজব ছড়িয়ে গণপিটুনির একের পর এক ঘটনা এখন সামনে এলেও অতীতেও এই ঘটনা হয়েছে কলকাতাতেও। ১৯৮২ সালে কলকাতার বালিগঞ্জে ছেলেধরা সন্দেহে ১৭ জন আনন্দমার্গী সন্ন্যাসী-সন্ন্যাসিনীকে জীবন্ত পুড়িয়ে মারা হয়েছিল। ১৯৯০ সালে কলকাতার কাছেই বানতলাতে ছেলেধরা সন্দেহে গণধর্ষণ করা হয় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার এক নারী কর্মকর্তাসহ তিনজন সরকারি স্বাস্থ্য অফিসারকে। ওই ঘটনায় একজন মারা যান।-বিবিসি।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ