ঢাকা, রোববার 1 July 2018, ১৭ আষাঢ় ১৪২৫, ১৬ শাওয়াল ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

হুমকির মুখে নড়িয়া উপজেলা সদর

শরীয়তপুর: এভাবেই পদ্মা ভেঙ্গে নিয়ে যাচ্ছে হাট-বাজার ও বাড়িঘরসহ নড়িয়ার বিস্তীর্ণ এলাকা

শরীয়তপুর সংবাদদাতা : শরীয়তপুরের জাজিরা ও নড়িয়ার বিস্তীর্ন এলাকা জুড়ে বর্ষার শুরুতেই গত বছরের ন্যায় এবারও শুরু হয়েছে পদ্মার ভয়াবহ ভাঙ্গন দেখা দিয়েছে। ইতোমধ্যে জাজিরা কুন্ডেরচর এবং নড়িয়া উপজেলার মোক্তারেরচর ও কেদারপুর ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ এলাকার অর্ধশতাধিক ঘরবাড়ী. ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, ৫শ মিটার পাকা সড়ক ও ফসলী জমি নদী গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। হুমকির মুখে রয়েছে নড়িয়া উপজেলা সদর, মুলফৎগঞ্জ বাজার, নড়িয়া উপজেলা হাসপাতাল, সরকারী খাদ্য গুদাম, পৌরভবনসহ অনেক স্থাপনা। ফলে ভাঙ্গন আতংকে দিন কাটছে পদ্মাপাড়ের হাজার হাজার মানুষের। এ সব এলাকার লোকজন দিন রাত করে তাদের বসত ঘর, আসবাবপত্র, গবাদী পশু ও গাছপালা কেটে সরানোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বলছেন, নদীরপাড়ের লোকজনদের নিরাপদে চলে যেতে বলা হয়েছে। আশ্রায়ন কেন্দ্র খোলা হয়েছে। তালিকা করে কর্তৃপক্ষের কাছে প্রেরণ করা হবে।
পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছেন, পদ্মা নদীর ডান তীর সংরক্ষণ বাধ নির্মান প্রকল্প অনুমোদন হয়েছে। খুব শিঘ্রই কাজ শুরু হবে।
ভাঙ্গন কবলিত এলাকাবাসী জানান, ৭০ দশক থেকে নড়িয়া ও জাজিরা এলাকায় পদ্মার ভাঙ্গন শুরু হয়েছে। ২০১৬ সালের ২৫ জুলাই গভীর রাত থেকে জেলার নড়িয়া ও জাজিরা উপজেলার কুন্ডেরচর ইউনিয়নে শুরু হয় রাক্ষুসী পদ্মার সর্বগ্রাসী ভাঙ্গন। বিরামহীন এ ভাঙ্গন চলতে থাকে ২০১৭ সেপ্টেম্বরের শেষ সপ্তাহ পর্যন্ত। যা শত বছরের ইতিহাসে পদ্মার ভয়াবহ এ রকম রূপ কেউ দেখেনি।
ভয়াবহ ভাঙ্গনে গত ২ বছরে নড়িয়া ও জাজিরা উপজেলার কুন্ডেরচর, মোক্তারের চর, কেদারপুর ইউনিয়ন ও নড়িয়া পৌরসভা পদ্মা নদীর ভাঙ্গনে কবলিত হয়ে বিরাট একটি অংশ বিলীন হয়ে গেছে। একই সাথে একাধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ হাট-বাজার, মসজিদ-মাদ্রাসা নদী গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। পদ্মা নদীর তীর রক্ষাবাঁধ বাস্তবায়ন না হলে এবং নদীর ¯্রােত পরিবর্তন না হলে বর্ষা মৌসুমেই সরকারী-বে-সরকারী প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকারও বেশী ক্ষয়ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে জানায় এলাকাবাসী। এলাকাবাসী আরো জানায় ২০১৮ সালের শুরু থেকে এ বর্ষা মৌসুমের পূর্বে পদ্মা নদীর তীর রক্ষা বাঁধের দ্রুত বাস্তবায়নের দাবীতে ভাঙ্গন কবলীত এলাকার লোকজন মানব বন্ধনসহ বিভিন্ন কর্মসুচি পালন করলেও তা  বর্ষার আগে বাস্তবায়ন হয়নি। এ ভয়াবহ ভাঙ্গন রোধে সরকার পদ্মা নদীর দক্ষিন (ডান) তীর রক্ষা বাঁধ প্রকল্প গ্রহন করে। এরপর গত ২ জানুয়ারী তীর রক্ষা বাঁধ নির্মাণের জন্য ১ হাজার ৯৭ কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়ে তা একনেকের বৈঠকে পাস করে।
বর্তমানে প্রকল্পটি কেবিনেট সভায় অনুমোদন দেয়া হয়েছে। আগামী দের থেকে দুই মাসের মধ্যে ডিএিম পদ্ধতিতে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর পরিচালনায়  খুলনা শিপইয়ার্ড লিমিটেডের মাধ্যমে কাজ শুরু হবে বলে জানিয়েছেন শরীয়তপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ শফিকুল ইসলাম। এ বছরও বর্ষা মৌসুম শুরু হতে না হতেই গত শুক্রবার থেকে নড়িয়া ও জাজিরা উপজেলার বিভিন্ন এলাকায়  ব্যাপক ভাবে পদ্মা নদীর ভাংগন আবারও শুরু হয়েছে। ইতোমধ্যে নড়িয়া বাজার, মুলফৎগঞ্জ বাজার, কেদারপুর, শুভ গ্রাম, ঈশ্বরকাঠি, শেহের আলী মাদবর কান্দি, ওয়াপদা ,সুরেশ্বর, চন্ডিপুর বাজার ও জাজিরা উপজেলার বিলাসপুর,পাচুখার কান্দি,কাইয়ুম খার কান্দি, গফুর বেপারী কান্দি, কুন্ডেরচর ইউনিয়নের দক্ষিণ পাড়ের শেষ অংশসহ বিস্তীর্ন এলাকা জুড়ে ব্যাপক ভাবে পদ্মা নদীর ভাঙ্গনের কবলে পড়েছে।
ইতোমধ্যে এসব এলাকার অর্ধশতাধিক বাড়ি ঘর, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও ফসলী জমি ও প্রায় ৫শ মিটার পাকা রাস্তা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। হুমকির মুখে রয়েছে নড়িয়া উপজেলা সদরের সকল স্থাপনা, মুলফৎগঞ্জ বাজার, উপজেলা হাসপাতাল, সরকারী খাদ্য গুদাম, নড়িয়া পৌরভবন, সাহেবেরচর এলাকা, চরনড়িয়া ও সুরেশ্বর বেড়িবাঁধের একাংশ। পদ্মার তীরবর্তী গ্রাম গুলোতে চলছে শতবছরের ঘরবাড়ী ও গাছপালা কেটে সরিয়ে নেয়ার কর্মযজ্ঞ। গত বছরের ন্যায় এবার বর্ষা মৌসুমে ভাঙ্গনের তীব্রতা বেড়ে গেলে নড়িয়া উপজেলা পরিষদের সরকারী স্থাপনা পুলিশ স্টেশন সহ সরকারী কলেজ ও বহু শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পদ্মার গর্ভে বিলীন হয়ে যাবে। এলাকাবাসি সরকারের সংশ্লিষ্টদের কাছে নড়িয়া উপজেলাকে বাঁচাতে পদ্মার তীর রক্ষাবাঁধ নির্মাণের দ্রুত দাবী জানিয়েছেন।
নড়িয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সানজিদা ইয়াসমীন বলেন,  গত শুক্রবার থেকে নড়িয়া উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ভাংগন শুরু হয়েছে। সরেজমিন দেখে পদ্মা পাড়ের লোকজনদের নিরাপদে সরে যেতে বলা হয়েছে। ভাঙ্গন কবলিতদের জন্য বন্যা আশ্রায়ন কেন্দ্র খোলা রয়েছে। ক্ষতিগ্রস্তদেরকে সকল প্রকার সরকারী সহায়তা দেয়া হবে।
শরীয়তপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ শফিকুল ইসলাম বলেন, পদ্মা নদীর ডান তীর সংরক্ষণ বাঁধ নির্মাণ প্রকল্প অনুমোদন হয়েছে। আগামী দের থেকে দুই মাসের মধ্যে কাজ শুরু হবে বলে আমরা আশাবাদি।
শরীয়তপুরের জেলা প্রশাসক কাজী আবু তাহের বলেন, ভাঙ্গন কবলিত ক্ষতিগ্রস্তদের তথ্য নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ