ঢাকা, রোববার 1 July 2018, ১৭ আষাঢ় ১৪২৫, ১৬ শাওয়াল ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

অনুমোদনে ঘুরপাক খাচ্ছে শেরে বাংলা রোড চার লেনে উন্নীতকরণ প্রকল্প

খুলনা অফিস : বছরের পর বছর পার হলেও অনুমোদনে ঘুরপাক খাচ্ছে খুলনা মহানগরীর শেরে বাংলা রোড চার লেনে উন্নীতকরণ প্রকল্প। প্রকল্পের ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট প্রপোজল এখনও পরিকল্পনা কমিশনে ঝুলে রয়েছে। ফলে নগরীর ব্যস্ততম ওই সড়কে অতিরিক্ত যানবাহনের চাপে প্রতিনিয়ত সৃষ্ট জনভোগান্তি কমাতে নেয়া উদ্যোগ কার্যতঃ কাজে আসছে না। অবশ্য সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর বলছে, প্রকল্পটি অনুমোদনে তাদের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
জানা গেছে, নগরীর মধ্যে বর্তমান সময়ে সবচেয়ে ব্যস্ততম ও গুরুত্বপূর্ণ সড়ক শের-এ বাংলা রোড। খুলনা-সাতক্ষীরা, বাগেরহাট, মংলা, কয়রা, পাইকগাছা, দাকোপ, বটিয়াঘাটা, দেবহাটা রুটের সকল যাত্রী এ সড়ক দিয়ে শহরে প্রবেশ ও বাইরে যায়। ফলে এসব যাত্রীদের যাতায়াতে প্রতিদিন অসংখ্য রিকশা, ইজিবাইক ও ভ্যান চলাচলের ভীড়ে বেহাল অবস্থার সৃষ্টি হয়।
অন্যদিকে গল্লামারী ও জিরোপয়েন্ট এলাকায় বিশ্ববিদ্যালয়সহ সরকারি-বেসরকারি অফিস, ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান ও আবাসিক এলাকা গড়ে উঠায় শহর সম্প্রসারিত হচ্ছে। আর ওই সম্প্রসারিত অঞ্চলে বসবাসকারীদেরও প্রতিনিয়ত এ সড়ক ব্যবহার করতে হয়। ফলে সড়কটির ব্যস্ততা বহুগুণে বেড়ে যাওয়ায় প্রায়শই ঘটছে দুর্ঘটনা। এ অবস্থায় সড়কটি চার লেনে উন্নীতকরণ সময়ের ও খুলনাবাসীর প্রাণের দাবিতে পরিণত  হয়েছে।
অন্যদিকে, ২০১২ সালের ৬ জুলাই তৎকালীন সড়ক ও যোগাযোগ মন্ত্রী আবুল হোসেন খুলনা সফর করেন। সফরকালে তিনি নগরীর শেরে বাংলা রোড সরেজমিনে পরিদর্শন করে গুরুত্ব উপলব্ধি ও গণমানুষের দাবির প্রেক্ষিতে ময়লাপোতা থেকে জিরোপয়েন্ট পর্যন্ত ৪ দশমিক ৫৫ কিলোমিটার সড়ক চার লেনে উন্নীতকরণের প্রতিশ্রুতি দেন। প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর একটি প্রকল্পটি গ্রহণ করে ২০১২ সালের ২০ সেপ্টেম্বর ওই প্রকল্পের ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট প্রপোজল (ডিপিপি) ঢাকাস্থ সড়ক বিভাগের প্রধান প্রকৌশলীর দপ্তরে প্রেরণ করা হয়। প্রকল্পটির ব্যয় ধরা হয় ৩২ কোটি ১৮ লাখ টাকা। কিন্তু সড়ক ও যোগাযোগ মন্ত্রী আবুল হোসেনের প্রতিশ্রুতির দুই থেকে তিন বছর পর প্রকল্পের সকল কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়ে।
সড়ক ও জনপথ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, সর্বশেষ গত বছর নবেম্বর মাসে সওজ অধিদপ্তরের অভ্যন্তরীণ যাচাই-বাছাই কমিটির সিদ্ধান্তের প্রেক্ষিতে ডিসেম্বরে ফের ১৬৭ কোটি ৩৩ লাখ টাকা ব্যয়ে নতুন ডিপিপি গঠন করে ঢাকাস্থ সড়ক বিভাগের প্রধান প্রকৌশলীর দপ্তরে প্রেরণ করা হয়।
যার মধ্যে রয়েছে ৪ কিলোমিটার সড়ক ২৫.২ মিটার প্রশস্তকরণ, ভূমি অধিগ্রহণ, ডিভাইডার, পথচারীদের হাটার জন্য ফুটপাথ ও পয়ঃনিষ্কাশনের জন্য আরসিসি ড্রেন নির্মাণ ইত্যাদি। কিন্তু প্রকল্পের ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট প্রপোজল এবারও পরিকল্পনা কমিশনে ঝুলে রয়েছে। ফলে নগরীর ব্যস্ততম ওই সড়ক যানজটমুক্ত, নিরাপদ, আরামদায়ক এবং সময় ও ব্যয় সাশ্রয়ী সড়ক নেটওয়ার্ক প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে প্রকল্প এলাকায় আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন এবং জনসাধারণের চলাচলে ভোগান্তি কমাতে নেয়া ওই উদ্যোগ কাজে আসছে না।
বৃহত্তর খুলনা উন্নয়ন সংগ্রাম সমন্বয় কমিটির মহাসচিব শেখ আশরাফ উজ জামান জানান, আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় প্রকল্পটি অনুমোদন মিলছে না। তবে পদ্মাসেতু চালু হওয়ার আগে শেরে বাংলা রোড চার লেনে উন্নীতকরণ জরুরী। পদ্মাসেতু হয়ে আসা মানুষ জিরোপয়েন্ট থেকে রূপসা বাইপাস, খুলনা-সাতক্ষীরা সড়ক আর শহরে প্রবেশ করতে গেলে শেরে বাংলা রোড ব্যবহার করবে। তাই এ সড়কটি বর্তমানে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এছাড়া প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে স্বল্প সময়ে মানুষ যাতায়াত করতে পারবে, যানজট ও দুর্ঘটনা কমে আসবে, যাতায়াত ঝুঁকিমুক্ত হবে, খরচ ও রাস্তার ক্ষয়ক্ষতি কমবে এবং নগরীর শ্রীবৃদ্ধি হবে। তাই সড়কটি চার লেনে উন্নীতকরণ সময়ের এবং খুলনাবাসীর প্রাণের দাবিতে পরিণত হয়েছে। কিন্তু প্রকল্পটি দীর্ঘদিনেও অনুমোদন না  মেলায় হতাশা প্রকাশ করেছেন তিনি।
খুলনা সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী তাপসী দাশ জানান, প্রকল্পটি অনুমোদনে চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। তবে এখন কোন পর্যায়ে রয়েছে প্রকল্পটি এবং কবে নাগাদ অনুমোদন হতে পারে তা পরিষ্কার করে বলতে পারেননি তিনি। এছাড়া গল্লামারী ব্রীজও প্রকল্পের মধ্যে নেই বলে জানান তিনি। ফলে সড়কটি চার লেন হলেও আগের ব্রীজ ব্যবহার করতে হবে খুলনাবাসীর।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ