ঢাকা, রোববার 1 July 2018, ১৭ আষাঢ় ১৪২৫, ১৬ শাওয়াল ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

মালামাল ওঠানামা বন্ধ, মেরামত না হলে ভাঙন বৃদ্ধির আশংকা ভৈরবের ৫০ ফুট পাড় বিলীন দেড় কিলোমিটার জুড়ে ফাটল

খুলনা : বিআইডব্লিউটিএ আওতাধীন নগরীর ভৈরব সংলগ্ন ৪ ও ৫ নং ঘাটের তীরে এভাবেই নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাচ্ছে..

খুলনা অফিস : নগরীর খুলনা রেলস্টেশন থেকে জোড়াগেট পর্যন্ত ভৈরব তীরে অবস্থিত খাদ্য গুদাম এলাকাসহ ৪, ৫ ও ৬ নং ঘাটের আশপাশের বড় একটি অংশ নদের গর্ভে ধসে পড়ছে। এর মধ্যে ৫নং ঘাটের অন্তত ৫০ ফুট পাড় ইতোমধ্যে নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে।
এছাড়া দেড় কিলোমিটার জুড়ে বড় বড় ফাটল দেখা দিয়েছে। প্রতিদিন ওই সব ঘাটে নোঙ্গরকৃত জাহাজ-কার্গো থেকে বিভিন্ন ধরনের মালামাল লোড-আনলোড এবং তা দীর্ঘদিন ধরে রেখে দেয়ায় এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে বলে জানা গেছে। ফলে ক্ষতিগ্রস্ত অংশ দ্রুত সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে। তবে কর্তৃপক্ষ বলছে, এখনই সংস্কার করার মতো ফান্ড নেই। ফান্ড আসলেই ব্যবস্থা নেয়া হবে।
সরেজমিন জানা গেছে, বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিটিএ) আওতাধীন নগরীর ভৈরব নদ সংলগ্ন রেলস্টেশন থেকে জোড়াগেট পর্যন্ত বেশ বড় অংশ জুড়ে রয়েছে খাদ্য গুদাম, ৪, ৫ ও ৬ নং ঘাট। এসব ঘাটে প্রতিদিন ৩০ থেকে ৩৫টি ছোট জাহাজ ও কার্গো নোঙ্গর করে।
নোঙ্গর করা এসব জাহাজ ও কার্গো থেকে সার, বালু, পাথর কয়লাসহ বিভিন্ন মালামাল লোড-আনলোড করা হয়। মালামাল উঠানো-নামানোর ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হয় ভারী বড় আকারের জেটি। অনেক সময় লোড বা আনলোডকৃত মালামাল ওই সব ঘাটে অর্ধমাস, মাস ও অনেক সময় ৬ মাস ব্যাপী রেখে দেয়া  হয়। ফলে নানামুখী এসব চাপে ঘাট সংলগ্ন এলাকার আশপাশের একটা বড় অংশ নদের গর্ভে ধসে পড়ছে।
ঘাটগুলোতে গিয়ে দেখা গেছে, ঘাটে জেটি দিয়ে মালামাল লোড-আনলোড করা হচ্ছে। অনেক ঘাট রক্ষায় দেয়া শীট ফাইল বেঁকে ও ফুটো হয়ে গেছে এবং প্রটেকটিং ওয়াল নদে ভেঙে পড়েছে। ফলে অনেক জায়গা নদের গর্ভে ধসে পড়ছে। উপরের ইটগুলো উঠে গেছে। কিছু কিছু জায়গায় বড় অংশ জুড়ে নতুন ফাটল দেখা দিয়েছে। ৫ নং ঘাটের অন্তত ৫০ ফুট তীর ইতোমধ্যে নদের গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ২০১৪ সালের শেষের দিকে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীন নৌ পরিবহন কর্তৃপক্ষ মোটা অংকের টাকায় এসব ঘাটের তীর সংরক্ষণ করে। অথচ সংস্কারের সাড়ে তিন বছরের মধ্যেই এ ধরনের পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। আর এ পরিস্থিতির অন্যতম কারণ হলো সংস্কার কাজে অনিয়ম, জেটির অনিয়মতান্ত্রিক ব্যবহার ও লোড-আনলোডকৃত মালামাল ওই সব ঘাটে অর্ধমাস, মাস ও ৬ মাসব্যাপী রেখে দেয়া। তারা ঘাটগুলো দ্রুত সংস্কার ও লোডকৃত মালামাল রাখার ক্ষেত্রে নিয়ম ও সময়সীমা বেঁধে দেয়ার দাবি জানিয়েছেন।
এ ব্যাপারে অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. নজিবুল হক বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত জায়গা তারা পরিদর্শন করেছেন। এখনই সংস্কার করা প্রয়োজন। কিন্তু সংস্কার করার মতো ফান্ড নেই। তবে মন্ত্রণালয়ে রিপোর্ট প্রেরণ করা হয়েছে। বরাদ্দ পেলেই ব্যবস্থা নেয়া হবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ