ঢাকা, রোববার 1 July 2018, ১৭ আষাঢ় ১৪২৫, ১৬ শাওয়াল ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

আহমদ ছফার দর্শন ও রাষ্ট্রচিন্তার মাধ্যমে ভারতীয় আগ্রাসন মুক্ত সোনার বাংলা গড়া সম্ভব

স্টাফ রিপোর্টার: আহমদ ছফা নিজে সব সময় স্বপ্নের জগতে বাস করতেন, অন্যদের মাঝে তাঁর স্বপ্নের বীজ বুনতেন। সমাজ ও রাষ্ট্রচিন্তায় তিনি ছিলেন অনন্য। বাঙালির সাহিত্য, সংস্কৃতি, সামাজিক ও রাজনৈতিক জীবন নিয়ে আহমদ ছফার মত  চিন্তাশীল  লেখক ও বুদ্ধিজীবী বাংলাদেশের ইতিহাসে বিরল। তার মতো দূরদর্শী  লেখক এদেশে অদ্বিতীয়। রাজনীতিতে সাম্প্রদায়িকতার ব্যবহারসহ তার  লেখায় তিনি জাতীয় ও রাজনৈতিক  যেসব সংকটের কথা তুলে ধরেছেন আমাদের চারপাশে তাকালে তার স্পষ্ট প্রতিফলন আজও দেখতে পাই। আহমদ ছফার দর্শন ও রাষ্ট্রচিন্তার মাধ্যমে ভারতী আগ্রাসন মুক্ত সোনার বাংলা গড়া সম্ভব।
গতকাল শনিবার সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের মিলয়নায়তনে আহমদ ছফা রাষ্ট্রসভা এবং এশীয় শিল্প ও সংস্কৃতি সভার উদ্দ্যেগে আয়োজিত জন্মের ৭৫ বছর পূর্তি আহমদ ছফা সম্মেলন আলোচনা স্মৃতিচারণ আবৃত্তি শীর্ষক আহমদ ছফার স্মৃতিস্মরণ করে বক্তৃতায় বক্তারা এসব কথা বলেন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের খাদ্য ও পুষ্টি বিভাগের অধ্যাপক ড. আকতারুজ্জামানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে মূল বক্তব্য রাখেন গবেষক ও কবি সলিমুল্লাহ খান। আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, আব্দুল হক, কবি মোহন রায়, মুরশেদ শফিউল হাসান প্রমুখ।
গবেষক ও কবি সলিমুল্লাহ খান বলেন, বাঙালির জীবনবোধের সঙ্গে আহমদ ছফা গভীরভাবে মিশতে পেরেছিলেন। তাই তাদের সমস্যাগুলোর স্বরূপ তিনি উৎঘাটন করতে পেরেছিলেন। একদিকে মানুষের ধর্মীয় অনুভূতি নিয়ে যথেচ্ছাচার অপর দিকে ক্ষমতায় টিকে থাকতে স্বৈরাচারের পদলেহন এসব বিষয়গুলো আমাদের জাতীয় রাজনীতিকে আস্তাকুড়ে নিক্ষেপ করেছে। তাই আহমদ ছফার চিন্তা ও দর্শন থেকে আমাদের শিক্ষা নিয়ে সংকট সমাধানে ব্রতী হতে হবে।
শিক্ষাবিদ সলিমুল্লাহ খান আরও বলেন, আহমদ ছফা বাংলাদেশের জাতীয় সমাজ ও রাষ্ট্র বিষয়ে অনেক চিন্তা করেছেন। তাঁর সেই চিন্তার প্রকাশ শুধু তাঁর প্রবন্ধে বা নিবন্ধে নয়, গল্পে-উপন্যাসেও ঘটেছে। বাংলাদেশের রাষ্ট্রনীতি বিষয়ে তাঁর বক্তব্য কখনো অস্পষ্ট ছিল না।
আবদুল হক বলেন, আহমদ ছফা প্রথাবিরোধী ও অকপট মনোভাবের জন্য আলোচিত ছিলেন। রাজনীতি, সমাজনীতি ও সংস্কৃতি সম্পর্কে তাঁর নিজস্ব মূল্যবোধ ও অবস্থান ছিল।
আহমদ ছফা বাংলা সাহিত্যের এক উজ্জ্বল নক্ষত্র। তিনি জন্মগ্রহণ করেন ১৯৪৩ সালের ৩০ জুন এবং মৃত্যুবরণ করেন ২০০১ সালের ২৮ জুলাই। ২০০২ সালে তাঁকে মরণোত্তর একুশে পদক দেওয়া হয়। প্রথাবিরোধী ও নির্মোহ এই লেখক ও ভাবুকের উল্লেখযোগ্য গ্রন্থগুলো হলো, যদ্যাপি আমার গুরু, গাভী বিত্তান্ত, বাঙালি মুসলমানে মন, সূর্য তুমি সাথী’, ‘পুষ্প, বৃক্ষ এবং বিহঙ্গপুরাণ’, ‘অর্ধেক নারী অর্ধেক ঈশ্বরী’, ‘জাগ্রত বাংলাদেশ’ এবং ‘বুদ্ধিবৃত্তির নতুন বিন্যাস’।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ