ঢাকা, সোমবার 2 July 2018, ১৮ আষাঢ় ১৪২৫, ১৭ শাওয়াল ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

ভেড়ামারা জিকের অধীনে শাখা খাল খনন ও দখলমুক্ত করার উদ্যোগ নেই

এক সময়ে দেশের বৃহত্তম সেচ প্রকল্প গঙ্গা সেচ প্রকল্পের অধীনে কয়েক লক্ষ হেক্টর জমিতে সেচ সুবিধা দেওয়া হতো। সেচের মাধ্যমে কুষ্টিয়াসহ ৫টি জেলার চাষীরা বিভিন্ন ধরনের ফসলের আবাদ করতো। কিন্তু পানি উন্নয়নবোর্ডের উদাসীনতার কারণে জিকের অধীনে বিভিন্ন ছোট বড় ক্যানাল খনন কাজ না করায় ভরাট হয়ে গেছে ক্যানেলগুলো। পানি চলাচল না করায় অবৈধ দখলদারদের কারণে বন্ধ হয়ে গেছে ক্যানেলগুলো। ফলে পানির অভাবে ধমকে গেছে চাষীদের মাঠের বোরো চাষসহ লক্ষাধিক এক ফসলের আবাদ। তথ্যসুত্রে জানা যায়, ১৯৬৯ সালে কুষ্টিয়া, ঝিনাইদহ, মেহেরপুর, চুয়াডাঙ্গা, মাগুড়া ও যশোর জেলার ১ লাখ ১৬ হাজার হেক্টর জমিতে সেচ সুবিধা দেয়ার জন্য সরকার ১৯৫৪ সালে পদ্মা নদীর হার্ডিঞ্জ ব্রীজ ও লালন শাহ সেতুর ১ কিলোমিটার ভাটিতে কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা জিকে সেচ প্রকল্পের কাজ শুরু করে। ১ হাজার ৬’শ ৬৫ কিলোমিটার সেচ খাল দিয়ে বছরে দু’বার সেচ সুবিধা দিয়ে ১ লাখ ২০ হাজার কৃষককে সেচ সুবিধা দেয়া হতো। সে সময় জিকের ক্যানেলে প্রায় সময়ই পানি থাকতো। মানুষ গোসল করা থেকে শুরু করে সকল কাজে ব্যবহার করতো। কিন্তু পানি আগ্রাসনের কারনে একদিকে ভারতের ফারাক্কা পানি চুক্তি বাস্তবায়ন না হওয়া ও পানি উন্নয়নবোর্ডের কর্মকর্তাদের উদাসীনতার কারণে জিকের খালগুলো ভরাট হয়ে গেছে। ঠিকমত পানি না থাকায় জিকের খালগুলো হারিয়েছে তার যৌবন। দেশের বৃহত্তম সেচ প্রকল্প গঙ্গা সেচ প্রকল্প হুমকীর সম্মুখীন হয়েছে। সেচ প্রকল্পের অধীনে ১ লক্ষ ৪২ হাজার হেক্টর জমিতে সেচ সুবিধা দিতে পারছেনা। প্রকল্পের ১৯৩ কিলোমিটার প্রধান সেচ খাল ও ১হাজার ৪ শত ৬২ কিলোমিটার শাখা খাল পানি শূন্য হয়ে পড়েছে। পানির অভাবে ধমকে গেছে চাষীদের মাঠের আউস চাষসহ বিভিন্ন ফসলের আবাদ। গত বোরো মৌসুমে কুষ্টিয়া অঞ্চলের মাত্র ৩০ হাজার হেক্টর জমিতে সেচ সুবিধা দেওয়ার পরিকল্পনা করলেও নানান কারণে তা ব্যাহত হয়। ফলে জিকে সেচ প্রকল্পের অধীনে ৪ লাখ ৮৮ হাজার একর জমি অনাবাদী থেকে যায়। ফলে কুষ্টিয়াসহ ৫ জেলার লাখ লাখ কৃষকের জীবন জীবিকাসহ ৫ কোটি মানুষের ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তার দিকে ধাবিত হচ্ছে। জেলার ত্রিমোহনী, কারখানাসহ বিভিন্ন শাখা খাল ভরাট হয়ে যাওয়ায় ও অবৈধ দখলদাররা সেখানে অবৈধভাবে মার্কেট করায় অনিশ্চয়তার মুখে জিকে সেচ প্রকল্পের কার্যক্রম। তবে এলাকার লোকজন নিজেদের সম্পত্তি অযোক্তিক দাবী করে অনেকেই খাল ভরাট করে বাড়ি-ঘর মার্কেট তৈরি করেছে। এতে পানি সরবরাহের পথ সম্পূর্ণরূপে বন্ধ করে ফেললেও জিকে কর্তৃপক্ষ রয়েছে নীরব। অবৈধ দখলদারদের কারণে বন্ধ হয়ে গেছে ফসলের আবাদ। অনাবাদি থাকছে হাজার হাজার হেক্টর জমি। খালগুলো আর আগের অবস্থায় নেই। ভরাট হয়ে যাওয়ায় কৃষি আবাদসহ পরিবেশের উপর বিরুপ প্রভাব পড়েছে। ক্যানেল ভরাট হয়ে যাওয়ায় গোসল করতে পারছেনা মানুষ। পানি শূন্য হয়ে পড়ায় বিভিন্ন সমস্যায় পড়েছে কুষ্টিয়ার জিকে খাল সংলগ্ন মানুষ। তাই পানির জন্য খাল খননের দাবী কুষ্টিয়াবাসীর। জিকের প্রধান খালসহ শাখাখালগুলো খনন না করায় সঠিকভাবে পানি পাচ্ছেনা জিকের অধীনে আবাদযোগ্য চাষীরা। ফলে অনাবাদী থাকছে হাজার হাজার একর জমি। কুষ্টিয়াসহ ৫ জেলার লাখ লাখ কৃষকের জীবন জীবিকাসহ ৫ কোটি মানুষের ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তার দিকে ধাবিত হচ্ছে। জিকে কর্তৃপক্ষ প্রধান খালসহ শাখাখালগুলো খনন ও অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদ করে কৃষকদের পানির নিশ্চয়তা দান করবেন এটাই প্রত্যাশা কুষ্টিয়াবাসীর।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ