ঢাকা, সোমবার 2 July 2018, ১৮ আষাঢ় ১৪২৫, ১৭ শাওয়াল ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

কুষ্টিয়ার বেদেদের জীবন চিত্র

বেদেদের কোনো নির্দিষ্ট এলাকা নেই। মহাসড়কের পাশে অথবা নদীর তীরে অতিথি পাখির মতো এদের আগমন ঘটে আবার একদিন তারা উধাও হয়ে যায়। ওরা ভবঘুরে। তবে এদের আনন্দ উল্লাসের কোনো কমতি নেই। এরা খুব আনন্দ প্রিয়। বেদেরা মূলত ইসলাম ধর্মাবলম্বী। এরা ধর্মকর্মের ব্যাপারে বিমুখ নয়। এরা নামাজ-রোজা, শবে বরাত, মহরতসহ ঈদ উৎসব পালন করে। তবে সাধারণত এরা মসজিদে নামাজ পড়ে না। স্রোতের শ্যাওলার মতো ভেসে বেড়ানো এদের কাজ। এদের জন্ম-মৃত্যু, বিয়ে-শাদি সামাজিক অনুষ্ঠান যখন যেখানে অবস্থান সেখানেই পালন করে। এদের জীবনমাত্রা প্রণালি বড় বিচিত্র। নদীর সঙ্গে তাদের নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে। খাল-বিল ও নদীর পাড়ে অথবা মহাসড়কের পাশে এদের অবস্থান। এদের জীবন যেমন বিচিত্র তেমনি এদের উৎসব আয়োজনও বিচিত্র। বেদেদের যাযাবর জীবনে এখানা সর্দারের অনুমোদন ছাড়া কোনো কিছু হয় না। সর্দারের আদেশ অক্ষরে অক্ষরে পালন করে। তাই এদের ঈদ আয়োজনেও সর্দারই মধ্যমনি।
সিংয়া লাগানো, সাপ ধার, সাপের খেলা দেখানো, সাপে কাটালোকের চিকিৎসা দেয়া, সাপের সন্ধানে সবসময় ব্যস্ত থাকে। তবে এদের এ পেশায় এখন আর আগের মতো লাভ হয় না। তাদের ব্যবসা এখন মন্দা। গত শনিবার মাগুরার ভায়না কেচুয়াডুবি ও শিমুলিয়া বেদে বস্তিতে গিয়ে দেখা যায় তাদের ঈদের আনন্দ, ঈদ আয়োজন। দূর থেকে ছোট ছোট পলিথিন মোড়ানো সারিবদ্ধভাবে সাজানো ঘরগুলো দেখলেই বোঝা যায়, বেদেরা সাময়িকভাবে এখানে অবস্থান নিয়েছে। কাছে গেলেই বহর থেকে ছুটে এলো ছোট-বড় অনেকেই। ঈদের দিন বেদে পরিবারের শিশু থেকে বুড়োদের চোখে-মুখে আনন্দের ঝিলিক আর তৃপ্তির হাসি। বহরগুলোর ভেতরে গিয়ে চোখে পড়ল গোল হয়ে সবাই বসে আছে। মাঝখানে সর্দার তিনি তাদের ঈদ আনন্দের মধ্যমনি, প্রধান অতিথি। শিশুরা নাচ-গান করছে। সব থেকে মজার ব্যাপার এ আনন্দের দিনে নাচ-গানের মধ্যেই বেদে শিশুদের সাপ ধরা সাপ নিয়ে খেলা করার হাতে খড়ি দেয়া হয়। অন্যদিকে চলছে রান্নার আয়োজন। বেদে সর্দার নজির মিয়া জানান, অনেক কষ্টের পরও আমাদের থেকে সুখী কেউ নেই। ঘর বানানোর কোনো চিন্তা নেই, গাছের নিচে থাকি। আমাদের কোনো শত্রু নেই, চোর, ডাকাতের ভয় নেই। কোনো চিন্তাও নেই। তাছাড়া আমরা এখানে প্রায় সবাই নিজের গোষ্ঠীর বা আত্মীয়-স্বজন। আমেনা খাতুন জানান, জামাই আসবে তাই মাংস-পিঠা রান্না করছি। ঈদের দিনে আমরা সবাই মিলে এক সঙ্গে রান্না করি আর খাওয়া-দাওয়া করি। সত্তরোর্ধ আকছেদ আলী জানান, জমি-জমা, ঘর-বাড়ি না থাকায় ৫০ বছরেরও বেশি সময় ধরে নদী নৌকা আর পেটের দায়ে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে যান।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ