ঢাকা, সোমবার 2 July 2018, ১৮ আষাঢ় ১৪২৫, ১৭ শাওয়াল ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

মিরপুরে আদিবাসীরা সুবিধা বঞ্চিত চরম দুর্দিনে এ সম্প্রদায়

মিরপুর (কুষ্টিয়া) সংবাদাতা : সামাজিক বৈষম্য, শোষণ, বঞ্চনা ও আধুনিকতার ছোয়া থেকে বঞ্চিত কুষ্টিয়ার মিরপুরের আদিবাসীরা। এ সম্প্রদায়টি সকল সুযোগ সুবিধা থেকে বঞ্চিত হওয়ায় বড়ই দূর্দিনে আছে তারা। ফলে মিরপুর উপজেলাসহ জেলার ৮ হাজার আদিবাসীর জীবন দূর্বিসহ হয়ে উঠেছে। চরম দূর্দিনে রয়েছে এ সম্প্রদায়।
জানা যায়, বৃটিশ আমলে জমিদাররা নীল চাষ করার জন্য কুষ্টিয়ায় এনেছিলেন আদিবাসীদের। নীলকর শাসক টমাস আইভান কেনী এ আদিবাসীদের জঙ্গল পরিস্কার করে নীল চাষ করার জন্য এনছিলেন। তাদের দিয়ে কুষ্টিয়ার মিরপুরসহ বিভিন্ন স্থানে নীলের আবাদ করে। সেই সাথে কুষ্টিয়ার চাষীদেরও জোরপূর্বক তারা নীর চাষ করতে বাধ্য করে। পরবর্তীতে এ নীলচাষের বিরুদ্ধে দেশীয় জমিদার প্যারী সুন্দরীসহ এ জেলার সচেতন ব্যক্তিবর্গ নীলকর বিরোধী আন্দোলন শুরু করে। গড়ে তোলেন ইংরেজ নীলকর বিরোধী সংগ্রাম। তীব্র আন্দোলনের মুখে তারা এদেশ থেকে বিদায় নেন। নীলকর জমিদাররা এদেশ থেকে চলে গেলেও আদিবাসীরা এদেশে রয়েই যায়। বর্তমানে এ জেলায় আদিবাসীদের সংখ্যা প্রায় ৮ হাজার। জেলার মিরপুর উপজেলার পোড়াদহসহ ৬টি উপজেলার রাস্তার ধারে, জিকের পরিত্যক্ত জায়গায় এরা অতিকষ্টে বাস করে আসছে। এরা কোথাও বুনো নামে, কোথাও কোল সম্প্রদায় নামে, কোথাও সর্দার নামে, কোখাও বিন্দি, কোথাও বাগাদী নামে পরিচিত। বর্তমানে এরা সকল সুযোগ সুবিধা থেকে বঞ্চিত মিরপুরের আদিবাসী বা বুনো বিন্দি সম্প্রদায়। এ সম্প্রদায়ের মানুষেরা জীবন বাঁচানোর জন্য নারী পুরুষ উভযেই কাজ করে সংসার চালায়। আদিবাসী এ সম্প্রদায়ের পুরুষেরা নদী নালা খাল বিলে বড়শী দিয়ে মাছ ধরে। খাল বিলে পানি না থাকায় এ কর্মটিও তাদের বন্ধ হয়ে গেছে। এদের কেউ ধান ক্ষেতে ইদুরের গর্ত থেকে ধান তোলে।
মহিলার খেজুরের পাতার পাটি, মুড়ি ও ভুট্টার খই তৈরি করে। অনেকে কচ্ছপ, কুচি, কাঁকড়া ধরে বিক্রি করে। অনেকেই শামুক ঝিনুক কুড়িয়ে জিবিকা নির্বাহ করে। বর্তমান পরিস্থিতিতে তাদের বেঁচে থাকা দায় হয়ে দাঁড়িয়েছে। তারা মানুষের মত মানুষ হতে চায়। শিক্ষিত হয়ে নিজেদের প্রতিষ্ঠা করতে চায়।
কুষ্টিয়ার আদিবাসীরা চির বঞ্চিত। নেতা ও ক্ষমতার হাত বদল হলেও এদের ভাগ্য বদলের কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়না। সরকারি বেসরকারি উদ্যোগে এদের পূনবার্সিত করলে এরা প্রতিষ্ঠিত হতে পারবে বলে তাদের বিশ্বাস। শিক্ষা ও চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হলে তারা ফিরে পাবে তাদের অধিকার। নারীরাও হয়ে ঊঠবে কর্মমুখী।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ