ঢাকা, সোমবার 2 July 2018, ১৮ আষাঢ় ১৪২৫, ১৭ শাওয়াল ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

ট্রাম্পের অভিবাসন নীতির বিরুদ্ধে হাজার হাজার মানুষের প্রতিবাদ

১ জুলাই, এএফপি : মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কঠোর অভিবাসননীতির প্রতিবাদে শনিবার দেশটির বিভিন্ন শহরে হাজার হাজার মানুষ মিছিল ও সমাবেশ করেছেন। প্রতিবাদকারীরা মেক্সিকো সীমান্তে পরিবারের কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন করা শিশুদের অবিলম্বে মিলিত করার দাবি জানিয়েছেন। ফরাসি বার্তা সংস্থা এখবর জানিয়েছে।

 হোয়াইট হাউসের একেবারে অপর পাশে বিক্ষোভকারীরা লাফায়েত স্কয়ার পার্কে জড়ো হন। সেখানে ছিল ক্ষোভ ও বেদনার পরিবেশ। এখান থেকে ক্যাপিটলের দিকে মিছিল এগিয়ে যায়।

বোস্টন, শিকাগো, লস অ্যাঞ্চেলেস, নিউ ইয়র্ক ও পোর্টল্যান্ডে রাস্তায় নেমে আসেন বিক্ষোভকারীরা। ওয়াশিংটনে অ্যালিসিয়া কিজ ও লিন-ম্যানুয়েল মিরান্ডার এবং লস অ্যাঞ্জেলেসে জন লিজেন্ডের মতো সেলিব্রেটিরা হাজির হয়েছিলেন।

মিছিল শুরুর আগে সেবাস্টিয়া মেডিনা-টায়াক নামের এক বিক্ষোভকারী ঘোষণা, আমরা সীমান্তে বিশ্বাস করি না, আমরা দেয়ালে বিশ্বাস করি না। পরিবারগুলোর একত্রে থাকা উচিত।

লাউড স্পিকারে পরিবারের কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়া এক শিশুর কান্না বাজানো হয়। এক ব্রাজিলীয় মা ছেলেকে বিচ্ছিন্ন করার কথা তুলে ধরেন। ওই নারী বলেন, আমি ছেলের কাছ থেকে ৯ মাস বিচ্ছিন্ন। এটা হওয়ার কথা ছিল না। ওয়াশিংটনে মিছিলে অংশ নেওয়া ৫৯ বছরের স্কুল শিক্ষক বলেন, এটা খুব সুক্ষ্ণ বর্ণবাদ। ভালোমানুষেরা কিছু না করলে খারাপের জয় হয়। এই মিছিল অন্তত কিছু একটা করা।

৩৬ বছরের আইনজীবী রিতা মন্টয়ার জন্ম ক্যালিফোর্নিয়ায়। কিন্তু মেক্সিকান বংশোদ্ভূত। মিছিলে দুই ও চার বছরের দুই ছেলেকে নিয়ে প্রতিবাদ জানাতে হাজির হয়েছেন। বলেন, আমরা অভিবাসীদের সন্তান। এই দেশ আমাদের যা করেছে সেটা আমরা অনেক আগেই শোধ করেছি। এখন এই দেশের উচিত আমাদের সামান্য শ্রদ্ধা জানানো। ৩৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায়ও বিক্ষোভকারীরা ‘লজ্জা! লজ্জা!’ বলে স্লোগান দেন। অবশ্য ট্রাম্প বিক্ষোভকারীদের স্লোগান শুনতে পাননি। কারণ তখন তিনি নিউ জার্সিতে অবস্থান করছিলেন। তবে অনেক বিক্ষোভকারী তার মোটর বহরে পাশে প্ল্যাকার্ড হাতে দাঁড়িয়েছিলেন। এসব প্ল্যাকার্ডের অভিবাসননীতির সমালোচনা লেখা ছিল। একটিতে লেখা ছিল, রাজনৈতিক আশ্রয়প্রার্থীরা অপরাধী না।

অভিবাসন ইস্যুতে নিজের অবস্থানের পক্ষে টুইটারে যুক্তি তুলে ধরেছেন। তিনি লিখেছেন, অবৈধভাবে যখন কেউ আমাদের দেশে আসবে তখন আমাদের অবশ্যই তাদের দ্রুত ফেরত পাঠানো উচিত। বছর বছর ধরে আইনি জটিলতায় যাওয়ার কোনও অর্থ হয় না।

  মে মাসের শুরুর দিকে ট্রাম্প মেক্সিকো সীমান্তে অবৈধভাবে প্রবেশকারীদের গ্রেফতারের নির্দেশ দেন। অভিযান শুরু হলে আটক পরিবারগুলোর কাছ থেকে তাদের সন্তানদের বিচ্ছিন্ন করা হয়। এরপরই যুক্তরাষ্ট্র ও বিদেশে শিশুদের বিচ্ছিন্ন করার প্রতিবাদ ও নিন্দা শুরু হয়। পরে ট্রাম্প এক নির্বাহী নির্দেশে শিশুদের বিচ্ছিন্ন করা বন্ধের নির্দেশ দেন।

অবশ্য শুক্রবার প্রশাসনের কর্মকর্তারা আদালতকে জানিয়েছেন, তারা অবৈধভাবে সীমান্ত দিয়ে প্রবেশকারীদের গ্রেফতার করা বন্ধ করবে না। এখন বাবা-মায়ের সঙ্গে তাদের সন্তানদেরও আটক রাখা হবে।

গত সপ্তাহে প্রকাশিত সরকারি তথ্য অনুসারে, এখনও পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন রয়েছে প্রায় ২ হাজার শিশু।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ