ঢাকা, সোমবার 2 July 2018, ১৮ আষাঢ় ১৪২৫, ১৭ শাওয়াল ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

রোহিঙ্গাদের জন্য বাংলাদেশকে দেয়া বিশ্বব্যাংকের সহায়তার পুরোটাই অনুদান

স্টাফ রিপোর্টার : রোহিঙ্গাদের জন্য বিশ্ব ব্যাংক সম্প্রতি ৪৮০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার সহায়তার ঘোষণা দিয়েছে। রোহিঙ্গাদের জন্য বাংলাদেশকে দেয়া বিশ্বব্যাংকের সহায়তার পুরোটাই অনুদান বলে জানিয়েছেন বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট জিম ইয়ং কিম। অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতও বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। ইতোমধ্যে রোহিঙ্গাদের দুর্দশা স্বচোখে দেখার জন্য বাংলাদেশে অবস্থান করছেন জাতিসংঘের মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস ও বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট। বিশ্ব সংস্থার নেতৃবৃন্দ আজ সোমবার রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শনে যাচ্ছেন। 
গতকাল রোববার সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের সঙ্গে বৈঠক করার পর এক যৌথ ব্রিফিংয়ে জিম ইয়ং কিম এ কথা বলেন বলে বিশ্ব ব্যাংকের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
সাংবাদিক সম্মেলনে বৈঠকের ব্যাপারে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেন, রোহিঙ্গা সংকট নিরসনের প্রশ্নে জাতিসংঘের মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস ও বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট জিম ইয়ং কিমের বাংলাদেশ সফরকে খুবই ইতিবাচক। গতকাল প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ সরকারের বেশ কয়েকজন মন্ত্রীর সঙ্গে বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট ও জাতিসংঘ মহাসচিবের একাধিক বৈঠক হয়েছে। এর প্রতিক্রিয়ায় অর্থমন্ত্রী বলেন, আমি বলতে পারি, আজকের দিন বাংলাদেশ সরকারের জন্য গুড ডে। বিশ্বব্যাংকের ৪৮০ মিলিয়ন ডলার শতভাগ অনুদান। যেকোনও সময় ৫০ ছাড় করবে তারা। বাকিটা আগামী দুই বছরেরর মধ্যে দেবে।
রোহিঙ্গা সঙ্কটে ভূমিকার জন্য বাংলাদেশের মানুষকে ধন্যবাদ জানিয়ে বিশ্ব ব্যাংকের প্রেসিডেন্ট জিম ইয়ং কিম বলেন, আমরা জানি রোহিঙ্গা সঙ্কট উত্তরণে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের আরও অনেক কাজ বাকি। তাদের জন্য আরও অনেক কিছু করা দরকার। আর সেই কারণেই আমি ও জাতিসংঘ মহাসচিব বাংলাদেশে এসেছি।
কিম বলেন, তিনি এবং জাতিসংঘ মহাসচিব গুতেরেস রোহিঙ্গাদের পরিস্থিত নিয়ে খুবই উদ্বিগ্ন। সোমবার তারা কক্সবাজারে গিয়ে রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন করবেন। মহাসচিব ও আমি এখানে এসেছি বাংলাদেশের মানুষ ও সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাতে, কারণ তারা এত বিপুল সংখ্যক শরণার্থীকে আশ্রয় দিয়েছেন। আর তারা এটা করেছেন খুবই মানবিক এবং শান্তিপূর্ণ উপায়ে।  বাংলাদেশ যে লক্ষ্য নিয়ে অগ্রসর হচ্ছে, তার প্রতি বিশ্ব ব্যাংকের পূর্ণ আস্থা রয়েছে। 
আমরা মনে করি, যেসব দেশ মানবিক কারণে শরণার্থীদের সহায়তায় এগিয়ে এসেছে, সেজন্য তাদের ভোগান্তির মুখে ফেলা উচিত নয়। এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশ যে দৃঢ়তা দেখিয়েছে। সেজন্য আমরা আমাদের সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছি যাতে বাংলাদেশকে দেয়া বিশ্ব ব্যাংকের ৪৮০ মিলিয়ন ডলারের  ঘোষিত সহায়তার পুরো টাকাটা অনুদান আকারেই আসে।
তিনি বলেন, এ বছর আমরা বাংলাদেশকে রেকর্ড ৩ বিলিয়ন ডলার দিচ্ছি, যা বিশ্বে দ্বিতীয় বৃহত্তম। আর এটা হচ্ছে আমাদের আস্থার স্পষ্ট ইংগিত।
অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেন, জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস ও বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট জিম ইয়ং কিমের এই সফর মূলত রোহিঙ্গা সমস্যা সরেজমিন দেখার জন্য। এ জন্য আমরা এ দুই সংস্থার প্রতি কৃতজ্ঞ। গুতেরেস ও কিমের সফরের মধ্য দিয়ে বিশ্বকে বোঝানো গেছে বাংলাদেশের রোহিঙ্গা সমস্যা কতটা প্রকট। কত বড় দায় আমাদের ঘাড়ে একথা আমরা বিশ্ববাসীকে বোঝাতে সক্ষম হয়েছি তাদের সফরের কারণে। রোহিঙ্গাদের দায় নেয়ার জন্য বাংলাদেশ সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন গুতেরেস ও কিম। এই দুই নেতাকে বাংলাদেশ বলেছে, রাখাইনে একটি ‘সেফ জোন’ করা যেতে পারে। যদি জাতিসংঘ টেককেয়ার করে তা সম্ভব। বাংলাদেশের তরফে এমন কথা বলা হয়েছে।
অর্থমন্ত্রী বলেন, এই দুজনের বাংলাদেশের সফর মিয়ানমারের ওপর বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি করবে। এরই মধ্যে বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে মিয়ানমারে সব প্রকল্প স্থগিত করেছে বিশ্বব্যাংক।
সাংবাদিককের এক প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘রোহিঙ্গাদের ফেরত নেয়ার ব্যাপারে মিয়ানমার সরকারের প্রতিশ্রুতি টোটালি রাবিশ। তাদের কথার ওপর বিশ্বাস রাখা যায় না। ওরা বিশ্বকে দেখাতে সামান্য কিছু লোক নিয়ে যেতেও পারে। তাতে মূল সমস্যার সমাধান হবে না। বিশ্বব্যাংক রোহিঙ্গাদের জন্য ৪৮০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার অনুদান দেবে তা  তাদের স্বাস্থ্য, শিক্ষা, খাদ্য ও স্যানিটেশনের জন্য ব্যয় করা হবে। আর ২০১৮-১৯ অর্থবছরের বাজেটে রোহিঙ্গাদের জন্য ৪০০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। তবে এ পর্যন্ত বাংলাদেশ সরকারের কোনও অর্থ ব্যয় হয়নি। রোহিঙ্গাদের জন্য যা ব্যয় হয়েছে তার সবই পাওয়া গেছে অনুদান হিসেবে, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান, সংস্থা ও ব্যক্তির কাছ থেকে। রোহিঙ্গাদের জন্য আরও অনুদান প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেন তিনি।
বাংলাদেশে অবস্থানরত রোহিঙ্গাদের সংখ্যা সম্পর্কে তিনি বলেন, ১৯৯১ সাল থেকে রোহিঙ্গারা বাংলাদেশে আসছে। পুরনো আছে ৪ লাখ ৭০,০০০ হাজার। গত বছরে এসেছে প্রায় ১১ লাখ। মোট ১৫ লাখ ৭০ হাজার বাংলাদেশে রয়েছে।
 মায়নমারের সেনাবাহিনীর দমন-পীড়নের মুখে পালিয়ে আসা চার লাখের মতো রোহিঙ্গা গত কয়েক দশক ধরে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়ে আছে। গতবছর ২৫ অগাস্ট রাখাইনে নতুন করে দমন অভিযান শুরুর পর রোহিঙ্গা সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশে ঢুকেছে আরও প্রায় সাত লাখ রোহিঙ্গা। জাতিসংঘ ওই অভিযানকে ‘জাতিগত নির্মূল অভিযান’ বলে আসছে। আন্তর্জাতিক পর্যায়ে এ রোহিঙ্গা সঙ্কটকে এশিয়ার এ অঞ্চলে সাম্প্রতিক সময়ের সবচেয়ে বড় শরণার্থী সমস্যা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ