ঢাকা, সোমবার 2 July 2018, ১৮ আষাঢ় ১৪২৫, ১৭ শাওয়াল ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

রোহিঙ্গাদের জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে নেয়ার দাবি

স্টাফ রিপোর্টার : রোহিঙ্গাদের জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে নিয়ে মিয়ানমারে ফিরিয়ে নেয়ার দাবি জানিয়েছে ‘নাগরিক পরিষদ’ নামে একটি সংগঠন। গতকাল রোববার জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে সংগঠনটির পক্ষ থেকে আয়োজিত এক মানববন্ধন থেকে এ দাবি জানানো হয়েছে।
সংগঠনের সভাপতি মো. শামছুদ্দিনের সঞ্চালনায় এ সময় বক্তব্য রাখেন সামছুদ্দিন আলম, মিনহাজ উদ্দিন সেলিম, হারুনর রশিদ খান, খাজা মহিবউল্লাহ শান্তিপুরি প্রমুখ।
মানবন্ধনের আগে নাগরিক পরিষদের পক্ষ থেকে জাতিসংঘ মহাসচিব বরাবর একটি স্মারক লিপি দেয়া হয়। এতে রোহিঙ্গাদের জাতিসংঘের আওতায় নিয়ে মিয়ানমারে ফিরিয়ে নেয়ার দাবি জানানো হয়েছে। এছাড়া রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনের পূর্বে আরাকানকে জাতিসংঘের নিয়ন্ত্রণে নেয়ারও দাবি জানানো হয়েছে স্মারক লিপিতে।
এ দাবির পিছনে যুক্তি হিসেবে নাগরিক পরিষদের সভাপতি মো. শামছুদ্দিন বলেন, আরাকান এলাকা জাতিসংঘের নিয়ন্ত্রণে না নিলে, সেখানে রোহিঙ্গারা নিরাপদ থাকবে না। তাদের ওপর আবারও নির্যাতন করা হতে পারে।
তিনি আরও বলেন, রোহিঙ্গারা যাতে মিয়ানমারের নাগরিকত্ব পায় তার নিশ্চয়তা দিতে হবে। এ লক্ষ্যে তাদের জন্য বাড়ি-ঘর তৈরি, স্কুল-কলেজ নির্মাণসহ হাট-বাজার প্রস্তুত করতে হবে। আর মিয়ানমারে যাওয়ার পর রোহিঙ্গাদের জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী বাহিনীর আওতায় রাখতে হবে।
বক্তারা বলেন, গত বছর আগস্টের পর থেকেই সু চি’র সরকার রাখাইনের সহিংসতায় অমুসলিম বাস্তুচ্যুতদের প্রতি সমর্থন জানিয়ে ফেসবুক ও টুইটারে পোস্ট দিয়ে যাচ্ছে। একই সঙ্গে মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে ফেক নিউজ প্রচারের অভিযোগ করে আসছে মিয়ানমার। রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে বিলম্বের জন্য বাংলাদেশকে দায়ী করে আসছে মিয়ানমার। এই বিলম্বের মধ্যেই মিয়ানমার রাখাইনের পুরো অবকাঠামো পাল্টে দিয়েছে উন্নয়নের নামে। মানবাধিকার সংগঠনগুলো অভিযোগ করেছে, রাখাইনে জাতিগত নিধনযজ্ঞ ও গণহত্যার আলামত বিনষ্ট করতেই বুলডোজার দিয়ে রোহিঙ্গা গ্রামগুলো নিশ্চিহ্ন করে দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া এর মধ্য দিয়ে রোহিঙ্গারা যাতে নিজ ভূমি ও ভিটায় ফিরতে না পারে সেটাও নিশ্চিত করছে মিয়ানমার।
এদিকে গত বছরের আগস্টে রাখাইনে সামরিক অভিযান জোরদার করার পর থেকে সেখানে বিদেশি সাংবাদিক ও মানবাধিকারকর্মীদের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল মিয়নামার। এমনকি সেখানে জাতিসংঘের প্রতিনিধি ও মানবাধিকার সংস্থাকে স্বাধীনভাবে পরিদর্শনের অনুমতি দেওয়া হয়নি। কিন্তু যখন বাংলাদেশে রোহিঙ্গাদের পালিয়ে আসা কমেছে এবং রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনে বাংলাদেশ ও জাতিসংঘের সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষরের পর গত কয়েক মাসে বেশ কয়েকবার সরকারি তত্ত্বাবধানে রাখাইনে সাংবাদিকদের নিয়ে গেছে দেশটি। নিয়ন্ত্রিত এসব পরিদর্শনে নির্বাচিত স্থানীয় রাখাইন ও রোহিঙ্গা সম্প্রদায়ের মানুষদের শিখিয়ে-পড়িয়ে সরকারি ভাষ্য সাংবাদিকদের সামনে তুলে ধরা হয়। একই সঙ্গে রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন শুরু করেছে বলেও বিদেশি সাংবাদিকদের কাছে মিথ্যা দাবি করছেন রাখাইনের স্থানীয় কর্মকর্তারা।
উল্লেখ্য, মিয়ানমার রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্ব দেয় না। এছাড়া সেখানকার রোহিঙ্গারা অবাধ যাতায়াত, স্বাস্থ্য ও শিক্ষার মতো মৌলিক অধিকার বঞ্চিত। গত বছরের আগস্টে রাখাইনে নিরাপত্তা বাহিনীর তল্লাশি চৌকিতে হামলার পর মুসলিম জনগোষ্ঠী রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে পূর্বপরিকল্পিত ও কাঠামোবদ্ধ সহিংসতা জোরালো করে বৌদ্ধ সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ মিয়ানমারের সেনাবাহিনী। খুন, ধর্ষণ ও অগ্নিসংযোগের মুখে বাংলাদেশে পালিয়ে আসে প্রায় সাত লাখ রোহিঙ্গা। জাতিসংঘ এ ঘটনাকে জাতিগত নিধনযজ্ঞের পাঠ্যপুস্তকীয় উদাহরণ বলে উল্লেখ করেছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ