ঢাকা, সোমবার 2 July 2018, ১৮ আষাঢ় ১৪২৫, ১৭ শাওয়াল ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

লক্ষ্নৌ মসজিদের বাইরে মূর্তি স্থাপনের উদ্যোগে মুসলিমরা ক্ষুব্ধ

১ জুলাই, পার্স টুডে : ভারতের বিজেপিশাসিত উত্তর প্রদেশের রাজধানী লক্ষ্নৌতে বিখ্যাত টিলেওয়ালি মসজিদের বাইরে হিন্দুদের ভগবান রামের ছোটভাই লক্ষণের মূর্তি স্থাপনের উদ্যোগে মুসলিমরা ক্ষুব্ধ হয়েছেন। সম্প্রতি লক্ষ্নৌ পৌর কর্পোরেশনের এক বৈঠকে লক্ষ্নৌয়ের ওই মসজিদ সংলগ্ন এলাকায় লক্ষণের মূর্তি স্থাপনের প্রস্তাব দেয়া হয়। বিজেপি’র পরিষদীয় দলনেতা রামকৃষ্ণ যাদব ও মুখ্যসচেতক রজনীশ গুপ্তা’র এ সংক্রান্ত এক প্রস্তাবে সবুজসঙ্কেত দেয়া হয়েছে। বিজেপির মুখপাত্র মণীশ শুক্লার দাবি, ‘ওই মূর্তিস্থাপনে সমাজে একটা ভালো বার্তা পৌঁছবে। কারণ, লক্ষণই লক্ষ্নৌয়ের পরিচয় বহন করছে।’

মসজিদটির ইমাম মাওলানা ফজলে মান্নান বলেছেন, ‘ঈদ এবং অন্যান্য উৎসবের সময় লাখো মুসলিম এই মসজিদের বাইরে এমনকি সড়কেও নামাজ আদায় করেন। কিন্তু মসজিদের বাইরে মূর্তি স্থাপন হলে মানুষজন সেখানে নামাজ পড়তে পারবে না।’ তিনি বলেন, এটি ‘সংরক্ষিত এলাকা’ হওয়ায় ভারতীয় প্রত্নতাত্ত্বিক জরিপ বিভাগের অনুমতি ছাড়া কোনো নির্মাণ করা যাবে না। মাওলানা ফজলে মান্নান বলেন, এ ধরণের একটি প্রস্তাব ১৯৯৩/১৯৯৪ সালে নেয়া হলেও বিরোধীদের চাপে সেসময় তা বাস্তবায়ন সম্ভব হয়নি। এই বিষয়ে উচ্চকর্মকর্তাদের কাছে পর্যন্ত গিয়ে আবেদন করে বলা হবে ওই সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করা না হলে তা শান্তির জন্য হুমকি হতে পারে।’

আলেমদের মতে,  ইসলাম ধর্মে মূর্তির সামনে নামাজ পড়া নিষিদ্ধ। সেজন্য টিলেওয়ালি মসজিদ সংলগ্ন এলাকায় লক্ষণের গ্র্যান্ড মূর্তি স্থাপিত হলে সেখানে নমাজ পড়ায় সমস্যা সৃষ্টি হবে। গণমাধ্যমের একটি সূত্রে প্রকাশ, মসজিদের বাইরে চৌরাস্তায় লক্ষণের গ্র্যান্ড মূর্তি স্থাপনের চেষ্টা চলছে। বিজেপি’র পরিষদীয় দলনেতা রামকৃষ্ণ যাদবের দাবি, নামাজ পড়া হয় মসজিদের মধ্যে। কিন্তু মূর্তি চৌরাস্তায় স্থাপন করলে এ নিয়ে বিতর্ক ভিত্তিহীন। ‘লক্ষ্নৌ’কে তারা ‘লক্ষণপুরি’ করতে চান বলেও জানিয়েছেন।

লক্ষ্নৌ পৌর কর্পোরেশনের মেয়র সংযুক্তা ভাটিয়া বলেন, ‘শহরে ভগবান লক্ষণের মূর্তি স্থাপিত হোক এনিয়ে আমাদের কার্যকরী কমিটির বৈঠকে একটি প্রস্তাবনা এসেছে। কিন্তু এখনো মূর্তি স্থাপনের স্থান নির্ধারিত হয়নি। আমাদের এখানে গঙ্গা-যমুনা সংস্কৃতি রয়েছে। এ নিয়ে যাতে বিতর্ক না হয় সেজন্য চেষ্টা করা হবে।’ প্রসঙ্গত, বিজেপি নেতা লালজি ট্যান্ডনের ‘লক্ষ্নৌয়ের অজানা কথা’ বইতে দাবি করা হয়েছে, শতাব্দী প্রাচীন টিলেওয়ালি মসজিদ আসলে ‘লক্ষণ কা টিলা’। এরপর থেকেই এ নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ