ঢাকা, সোমবার 2 July 2018, ১৮ আষাঢ় ১৪২৫, ১৭ শাওয়াল ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

ব্রাজিলের সামনে আজ মেক্সিকো বাধা

স্পোর্টস রিপোর্টার : রাশিয়া বিশ্বকাপ এখন ফেভারিটদের জন্য আতঙ্ক। প্রথম পর্বে বিদায় হয়েছে চ্যাম্পিয়ন জার্মানি। নকআউট পর্বের প্রথম ম্যাচে বিদায় নিয়েছে মেসির দল গতআরের রানার্সআপ আর্জেন্টিনা। একই দিনে অপর ম্যাচে বিদায় হয়েছে রোনালদোর পর্তগাল। নকআউট পর্বের তৃতীয় দিনে আজ মাঠে নামছে আরেক ফেভারিট ব্রাজিল। দলটির প্রতিপক্ষ মেক্সিকো। আজ ফেভারিট ব্রাজিলের ভাগ্যে কি অপেক্ষা করছে তা নিয়ে চিন্তিত নেইমার ভক্তরা। বাংলাদেশ সময় ব্রাজিল-মেক্সিকো রাত আটটায় ম্যাচটি শুরু হবে। এই ম্যাচে ব্রাজিল টপ ফেভারিট তা বলাই যায়। কারণ পরিসংখ্যান আর শক্তিকে এগিয়ে নেইমারের ব্রাজিল। এর আগে ব্রাজিল ও মেক্সিকো একে অপরের বিপক্ষে ৪০ বার মুখোমুখি হয়েছে। এর মধ্যে ব্রাজিল জিতেছে ২৩ বার ও মেক্সিকো ১০ বার। এর আগে বিশ্বকাপে ব্রাজিলের বিপক্ষে চারটি ম্যাচের একটিতেও জিততে পারেনি মেক্সিকো। ঐ চার ম্যাচে মেক্সিকানরা একটি গোলও করতে পারেনি। সর্বশেষ ১৯৯০ সালের বিশ্বকাপে কোয়ার্টার ফাইনালে যেতে পারেনি ব্রাজিল। এ পর্যন্ত গত ১৪টি ম্যাচে অপরাজিত রয়েছে সেলেকাওরা। ২০১৭ সালের জুনে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে তারা সর্বশেষ পরাজিত হয়েছিল (১-০)। বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি ম্যাচ (৫৬) খেলার অভিজ্ঞতা থাকা সত্বেও এখনো শিরোপা জিততে পারেনি মেক্সিকো। তবে এই ম্যাচে ব্রাজিল টপ ফেভারিট হলেও ভয় আছে দলটির। কারণ পাঁচবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলের বিপক্ষে নিজেদের প্রমাণ করে টিকে থাকার জন্য মাঠে নামবে দলটি। ব্রাজিলকে পরাজিত করে নক আউট পর্বের খড়া কাটানোর এর থেকে ভাল সুযোগ আর হতে পারেনা বলেই বিশ্বাস করেন মেক্সিকান অধিনায়ক ও মিডফিল্ডার আন্দ্রেস গুয়ারড্রাডো। রাশিয়া বিশ্বকাপে এবার ব্রাজিল ই গ্রুপ থেকে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন আর মেক্সিকো এফ গ্রুপ থেকে রানার্স আপ হয়ে দ্বিতীয় রাইন্ড নিশ্চিত করেছে। ব্রাজিল গ্রুপ পর্বে তিন ম্যাচের মধ্যে ২টি জয় একটি ড্র নিয়ে দ্বিতীয় রাউন্ডে উঠেছে। অপর দিকে মেক্সিকো তিন ম্যাচের মধ্যে দু’টি জয় আর একটি ম্যাচে হেরে গ্রুপ রানার্সআপ হয়েছে। এবার কোয়ার্টার ফাইনালের স্বপ্ন নিয়েই মাঠে নামবে মেক্সিকো। এই ম্যাচে জিততে পারলে অন্তত ২৪ বছর পরে মেক্সিকানরা নিজেদের কিছুটা হলেও এগিয়ে নিয়ে যাবার আত্মবিশ্বাস পাবে। আগের ৬টি বিশ্বকাপেই দ্বিতীয় রাউন্ড থেকে বিদায় নিয়েছিল দলটি। বিশেষ করে চার বছর আগে নেদারল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচ শেষের দুই মিনিট আগ পর্যন্ত এগিয়ে থেকেও ইনজুরি টাইমে ২-১ গোলের পরাজয় নিয়ে মাঠ ছাড়ার স্মৃতি  মেক্সিকো এখনো ভুলতে পারেনা। এর আগে ১৯৭০ ও ১৯৮৬ সালে ঘরের মাঠে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে খেলার সুযোগ পেয়েছিল মেক্সিকো, যা এখন পর্যন্ত বিশ্বকাপের তাদের সেরা পারফরমেন্স। তবে ১৯৭০’র আসরে ইতালির কাছে ৪-১ ও ৮৬’ সালে পশ্চিম জার্মানির সাথে নির্ধারিত সময় গোলশূন্য ড্র করেই পেনাল্টি শ্যুট আউটে ৪-১ গোলের ব্যবধানে পরাজিত হয়ে শেষ আট থেকে বিদায় নিতে হয়েছিল।  বিপরীতে ব্রাজিল শেষ ছয় আসরে অন্তত শেষ আট পর্যন্ত খেলেছে। এর মধ্যে তিনটির ফাইনালে পৌঁছে দুটির শিরোপা জয় করেছে। রাশিয়ায় ষষ্ঠবারের মত শিরোপা জয়ে টুর্ণামেন্ট শুরুর আগে থেকেই তিতের দলকে সুস্পষ্ট ফেবারিট হিসেবে মানা হচ্ছে। কিন্তু সেলেকাওদের বিপক্ষে নিজেদের প্রত্যাশাকে প্রাপ্তিতে রূপ দেবার স্বপ্নে বিভোর মেক্সিকানরা। জয় ভিন্ন অন্য কোন কিছুই ভাবছেনা পুরো দল, এমন আত্মবিশ্বাসের কথা জানিয়ে গুয়ারড্রাডো বলেছেন, ‘এখানে আমরা কোনো ধরনের কারণ দেখাতে চাচ্ছিনা। আমরা যদি জিততে পারি তবে সবকিছুই আমাদের পক্ষে আসবে। আমরা যদি গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়ে শেষ ১৬’তে সুইজারল্যান্ডের মোকাবেলা করতাম, তাদেরকে হারালে মানুষ ততটা উচ্ছসিত হতো না, যতটা ব্রাজিলকে হারালে হবে। সে কারণেই ব্রাজিলের বিপক্ষে একেবারে সঠিক সময়ে আমরা মাঠে নামছি। তারা পাঁচবারের চ্যাম্পিয়ন, ম্যাচটা দারুণ উপভোগ্য হবে। ফুটবল আমাদের সামনে যে সুযোগ এনে দিয়েছে তা নিয়ে আমরা দারুণ উজ্জিবিত। এর থেকে ভাল সুযোগ আর হতে পারেনা।’ গতকাল রোববার ম্যাচ পূবর্বতী সংবাদ সম্মেলনে গুয়ারড্রাডো বিশেষ করে ব্রাজিলিয়ান সুপারস্টার নেইমারকে সামনে নিয়ে এসেছেন। তার মতে নেইমার নিজের থেকেই ফাউলকে কাছে টেনে আনে ও মাঠে পড়ে যান। তবে ব্রাজিলের রিয়াল মাদ্রিদ তারকা কাসেমিরো বলেছেন সব ধরনের চাপ ও সমালোচনাকে উপেক্ষা করেই নেইমার মাঠে নামেন। তারকা এই মিডফিল্ডার বলেন, ‘নেইমারই ম্যাচে পার্থক্য গড়ে দেন। প্রথম ম্যাচে সবাই যেখানে নিয়মমাফিক ম্যাচ খেলেছে সেখানে নেইমার বার বার নিজেদের প্রমাণ করেছেন। সার্বিয়ার বিপক্ষেও সে দারুণ পারফর্ম করেছে। সে জানে কীভাবে চাপের মধ্যেও স্বাভাবিক ভাবে খেলতে হয়। সে কারণেই সে নেইমার, ব্রাজিলের অন্যতম সেরা খেলোয়াড়। দীর্ঘ সময় ধরে সে সুপারস্টার থাকবে।  গ্রুপের শেষ ম্যাচে সুইডেনের কাছে ৩-০ গোলে পরাজিত হয়ে এফ-গ্রুপের দ্বিতীয় দল হিসেবে নক আউট পর্বে ওঠে মেক্সিকো। বহিষ্কারাদেশের কারণে তাদের দলে থাকছে না সেন্টার ব্যাক হেক্টর মোরেনো। অন্যদিকে সার্বিয়ার বিপক্ষে মাত্র ১০ মিনিট পরে কাঁধের পেশীর টানের কারণে মাঠ ত্যাগ করা মার্সেলোকে নিয়ে এখনো দু:শ্চিন্তায় রয়েছে ব্রাজিল। বেশীরভাগ মেক্সিকান নেইমার ও কুতিনহোকে নিয়ে ব্যস্ত থাকলেও তাদের ভুলে গেলে চলবে না ব্রাজিলে আছেন পাওলিনহো। সার্বিয়ার বিপক্ষে তার গোলেই এগিয়ে গিয়েছিল সেলেকাওরা।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ