ঢাকা, সোমবার 2 July 2018, ১৮ আষাঢ় ১৪২৫, ১৭ শাওয়াল ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

আন্দোলনে কোনো শিক্ষকের প্রাণ গেলে দায় শিক্ষামন্ত্রীকেই নিতে হবে

প্রধানমন্ত্রীর দেয়া এমপিওভুক্তির প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের দাবিতে গতকাল রোববার জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে ৭ম দিনের মতো চলছে নন-এমপিও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান শিক্ষক কর্মচারী ফেডারেশনের অনশন -সংগ্রাম

# আন্দোলনের হুমকি দিয়ে লাভ নেই -শিক্ষামন্ত্রী
স্টাফ রিপোর্টার : অনশনের মত কঠিন আন্দোলনে কোনো শিক্ষকের প্রাণ গেলে এর দায়ভার শিক্ষামন্ত্রীকে নিতে হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন আন্দোলনরত শিক্ষকরা। তারা বলেছেন, আন্দোলন করেই দাবি আদায় করা হবে। আর তাতে কোনো শিক্ষকের প্রাণহানি হলে শিক্ষামন্ত্রীকে এর দায় নিতে হবে। জানা গেছে, গত ৭ দিনের অনশনে দেড় শতাধিক শিক্ষক অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। এদিকে গতকাল রোববার এক অনুষ্ঠানে শিক্ষামন্ত্রী শিক্ষকদের বলে দিয়েছেন আন্দোলন করে কোনো লাভ হবে না। আন্দোলন করে দাবি আদায় করা সম্ভব নয়।
প্রসঙ্গত, এমপিওভুক্তির দাবিতে নন-এমপিও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীরা রোববার সপ্তম দিনের মতো আমরণ অনশন পালন করছেন। এতে অসুস্থ হয়ে গেলে বেশ কয়েকজনকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আন্দোলনরত শিক্ষকরা বলছেন, অনশন শুরুর পর থেকে প্রেস ক্লাবের সামনে খোলা আকাশের নিচে বসে কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছেন শিক্ষক-কর্মচারীরা। প্রতিদিন বিভিন্ন জেলা থেকে শিক্ষক-কর্মচারীরা ঢাকায় এসে এ আন্দোলনে যোগ দিচ্ছেন। দিন যতই যাচ্ছে শিক্ষকরা অসুস্থ হয়ে পড়ছেন। স্যালাইনের সংখ্যা বাড়ছে।
নন-এমপিও শিক্ষক-কর্মচারী ফেডারেশনের সিনিয়র সহ-সভাপতি মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, এ পর্যন্ত দেড় শতাধিক শিক্ষক অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। তাদের মধ্যে বর্তমানে ৪০ জনকে স্যালাইন দিয়ে শুইয়ে রাখা হয়েছে। ৬ জনকে ঢাকা মেডিকেলে ভর্তি করা হয়েছে। তাদের মধ্যে রয়েছেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক অধ্যক্ষ বিণয় ভূষণ রায়, মো. গোলাম মোস্তাফা, মো. ফেরদ্দৌস আলম, আলী প্রামাণিক, আব্দুল কুদ্দুস। এ ছাড়াও গত কয়েকদিনে ৯ জন শিক্ষক চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে ফিরে আবারো আন্দোলনে যোগ দিয়েছেন। সংগঠনের সভাপতি অধ্যক্ষ গোলাম মাহমুদুন্নবী ডলার বলেন, আমরা হঠাৎ করে রাস্তায় বসে আন্দোলন শুরু করিনি। পর্যায়ক্রমে ২৭ দফায় আন্দোলন করেও আমাদের প্রতিশ্রুতি দেয়া হয়েছে, তারপরও বাস্তবায়ন করা হয়নি। সর্বশেষ প্রধানমন্ত্রী আমাদের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, সেটি বাস্তবায়নে আমরা আন্দোলনে যুক্ত হয়েছে। তিনি বলেন, আমাদের যৌক্তিক ও ন্যায্য দাবি আদায়ে দ্রুত এ বিষয়ে পদক্ষেপ নেয়া হবে। এ কারণে ১০ জুন থেকে আন্দোলন করে যাচ্ছি। গত সাতদিন ধরে আমরণ আনশন পালিত হচ্ছে।
এদিকে এমপিওভুক্তির দাবিতে শিক্ষকদের আমরণ অনশন ও দাবি প্রসঙ্গে শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ বলেছেন, আন্দোলন-হুমকি দিয়ে লাভ নেই। সঠিক পথে নিয়মানুযায়ী এমপিও দেওয়া হবে। ইতোমধ্যে কমিটি কার্যক্রম শুরু করেছে। নীতিমালা অনুযায়ী জুলাই থেকেই যোগ্য নন-এমপিও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে এমপিও দেওয়া হবে। গতকাল জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডে (এনসিটিবি) একাদশ শ্রেণির বই বাজারজাতকরণ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, আমরা এমপিও সংক্রান্ত কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছি। এককভাবে এ কাজ সম্পন্ন করা সম্ভব নয়। এর সঙ্গে পাঁচটি মন্ত্রণালয়ের সম্পৃক্ততা রয়েছে। সবকিছু মিলিয়ে আমরা কাজ করে যাচ্ছি। নীতিমালা অনুযায়ী যোগ্য প্রতিষ্ঠানগুলোর বিষয়ে যাচাই-বাছাই চলছে। যোগ্য প্রতিষ্ঠানগুলোকেই এমপিও দেওয়া হবে। তবে এমপিও সুবিধা পেতে আরও কিছু সময় লাগবে।
উল্লেখ্য, বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে এমপিওভুক্ত করার আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। এ লক্ষ্যে দুটি কমিটি গঠন করেছে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ। এগুলো হলো শর্ত পূরণ করা প্রতিষ্ঠানের তালিকা প্রস্তুতের জন্য অনলাইন অ্যাপলিকেশন গ্রহণ ও ব্যবস্থাপনা কমিটি এবং এমপিওভুক্তির জন্য বাছাই কমিটি। প্রথম পর্যায়ে এক হাজার বা তার কিছু বেশি প্রতিষ্ঠানকে এমপিওভুক্ত করবে সরকার।
এর আগে এমপিওভুক্তির দাবিতে নন-এমপিও শিক্ষক-কর্মচারীরা গত বছরের ২৬ ডিসেম্বর থেকে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে লাগাতার কর্মসূচি শুরু করেন। দাবি পূরণ না হওয়ায় আবারো অনশনের মতো কঠিন কর্মসূচিতে যেতে হলো।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ