ঢাকা, সোমবার 2 July 2018, ১৮ আষাঢ় ১৪২৫, ১৭ শাওয়াল ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

টাইব্রেকারে স্পেনকে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে স্বাগতিক রাশিয়া

টাইব্রেকারে জয়ের নায়কে নিয়ে স্বাগতিক রাশিয়ার উল্লাস

রফিকুল ইসলাম মিঞা : রাশিয়া বিশ্বকাপে কোয়ার্টার ফাইনাল নিশ্চিত করেছে স্বাগতিক রাশিয়া। গতকাল টাইব্রেকারে রাশিয়া ৪-৩ গোলে হারিয়েছে স্পেনকে। ফলে নকআউট পর্বের দ্বিতীয় দিনে স্পেনকে বিদায় করে টিকে রইল রাশিয়া। গতকাল খেলার নির্ধারিত ৯০ মিনিটে ১-১ গোলে সমতায় ছিল ম্যাচটি। ফলে অতিরিক্ত সময়ে খেলা গড়ালে কোন দলই গোল করে এগিয়ে যেতে না পারায় টাইব্রেকারে গড়ায় ম্যাচটি। আর টাইব্রেকারে রাশিয়া ৪(১)-৩(১) গোলে স্পেনকে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনাল নিশ্চিত করে। গতকাল স্বাগতিক রাশিয়ার বিপক্ষে খেলার ১২ মিনিটে একটি আত্মঘাতী গোলে এগিয়ে যায় স্পেন। লুঝনিকি স্টেডিয়ামে এই ম্যাচের আক্রমণের প্রথম ফল একটি ফ্রি-কিক। আসেনসিও সেই ফ্রি-কিকটা খুব চমৎকারভাবে নিলেন পোস্টের লক্ষ্যে। ডান দিক থেকে মার্কো আসেনসিওর ফ্রি-কিক বক্সের ভিতর থেকে ক্লিয়ার করতে চেয়েছিলেন ডিফেন্ডার সের্গেই ইগনাশেভিচ। আর সের্হিও রামোস যেন বল খুঁজে না পায় সেই চেষ্টায় রামোসকে নিয়ে মাটিতে পড়ার সময় অভিজ্ঞ এই ডিফেন্ডার পায়ে লেগে জালে জড়ায় বল। অবশ্য কিছুই করার ছিল না রাশিয়ার গোলরক্ষক ইগর আকিনফিভের। ফলে আত্মঘাতী গোলে প্রথমেই পিছিয়ে পড়ে রাশিয়া। এবারের বিশ্বকাপে এটি রেকর্ড দশম আত্মঘাতী  গোল। স্পেন খেলার প্রথমার্ধে গোল পপয়ে এগিয়ে গেলেও বিরতির আগেই গোল পরিশোধ করে খেলা ১-১ গোলে সমতায় নিয়ে বিরতিতে যায় রাশিয়া। খেলাল ৪২ মিনিটে পেনাল্টি থেকে গোল পায় রাশিয়া। দলের পক্ষে গোলটি করেন আরতেম ডিজিয়াবা। প্রথমেই আত্মঘাতী গোলে পিছিয়ে পড়ে গোল পরিশোধের নেশায় মরিয়া হয়ে খেলতে থাকে স্বাগতিকরা। এর মধ্যে রাশিয়ার একটি আক্রমণ স্পেনের ডিফেন্স নড়বড়ে করে কঁভপিয়ে দিয়ে যায়। কিন্তু ৩৮ মিনিটে গলোভিনের বাঁকানো শটটা জালে না জড়িয়ে পাশ দিয়ে চলে যায়। ৪০ মিনিটে আবার আক্রমন রাশিয়ার। কর্নার কিক থেকে স্পেনের বক্সের মধ্যে বল তুলেছিলেন সামেদভ। ডিজিয়াবা গোলের জন্য হেড করলেন। কিন্তু সেটা গিয়ে লাফিয়ে ওঠা পিকের হাতে লাগল। রেফারি পেনাল্টি দিলেন হ্যান্ডবলের জন্য। স্পেনের প্রবিাদ করলেও কোন কাজ হয়নি। আর স্ট্রাইকার আরতেম ডিজিয়াবা পেনাল্টি কিক থেকে গোল করে ১-১ এ সমতা এনে স্টেডিয়ামটাকে উৎসবমুখর করে দিলেন। এই বিশ্বকাপে ডিজিয়াবার এটি তৃতীয় গোল। বিরতির আগে আর কোন দল গোল করে নিজেদের এগিয়ে রাখতে পারেনি। তবে প্রথমার্ধ শেষ হওয়ার আগ মুহূর্তে গোলের দারুণ সুযোগ পেয়েছিলেন দিয়েগো কস্তা। নাচোর কাছ থেকে বল পেয়ে ডান পায়ের দারুণ শট নিয়েছিলেন কস্তা। কিন্তু সেই বলটি ঠেকিয়ে দেন রাশিয়া গোলরক্ষক। মুহূর্ত পরেই ইসকোর ক্রস থেকে ভেসে আসা বলে আবারও হেড করেছিলেন কস্তা। কিন্তু এবারও রাশিয়া গোলরক্ষক সেই বলটি ফিরিয়ে দিয়ে রক্ষা করেন দলণকে। প্রথমার্ধে আধিপত্য বিস্তার করে খেলেও এগিয়ে থাকতে পারেনি স্পেন। বিরতির রপর আক্রমণের পর আক্রমণ করেও স্পেন সফল হতে পারেনি। পারেনি গোল করে নির্ধারিত সময়ে জয়ী হয়ে মাঠ ছাড়তে। অবশ্য নিজেদের রক্ষণভাগ জমাট রেখে পাল্টা আক্রমনের চেষ্টাও করেছে রাশিয়া। তবে দলটিও পারেনি স্পেনের জালে বল জড়াতে। স্কাগতিক হিসেবে সম্পূর্ণ বদলে যাওয়া একটি দল রাশিয়া। তবে বিশ্বকাপ শুরুর আগে নিজেরাই ছিল হতাশ। তাদেরকে নিয়ে আশাবাদী হওয়ার কোনো কারণই ছিল না। কিন্তু বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচেই সব ধারণা পাল্টে দিলেন রাশিয়ার ফুটবলাররা। ৫-০ গোলে সৌদি আরবকে হারিয়ে শুরু করা দলটি সবার আগে নিশ্চিত করেছিল তারা দ্বিতীয় রাউন্ড। তবে দ্বিতীয় রাউন্ডে রাশিয়ানরা সাবেক চ্যাম্পিয়ন স্পেনের মুখোমুখি হওয়ায় অনেকেই ভেবেছিল স্বাগতিকদের দৌড় বুঝি এখানেই শেষ। কিন্তু রাশিয়ানরা সহজে হার মানতে রাজি ছিল না। যে কারণে নির্ধারিত ৯০ মিনিটে সাবেক বিশ্বচ্যাম্পিয়ন স্পেনকে ঠেকিয়ে রেখেছে ১-১ গোলের সমতায় থেকে। ফলে এই বিশ্বকাপে এই প্রথম অতিরিক্ত সময়ে ম্যাচটি গড়াল। অতিরিক্ত সময়েও গোল না হলে ম্যাচটি টাইব্রেকারে নিষ্পত্তি হয়। আর টাইব্রেকারে রাশিয়া স্পেনকে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে উঠে। স্পেন পাঁচটি শর্ট নিয়ে তিনটি গোল করতে সক্ষম হয়। অন্যদিকে রাশিয়া চারটি শর্ট নিয়ে চারটি গোলই করে। ফলে শেষ শর্টটি আর নিতে হয়নি রাশিয়াকে। এই ম্যাচে তিনটি পরিবর্তন এনেছে স্পেন। শুরুর একাদশে নেই আন্দ্রেস ইনিয়েস্তা, দানি কারভাহাল ও তিয়াগো আলকান্তারা। আর রাশিয়া দলে এসেছে চারটি পরিবর্তন। টুর্নামেন্টে তিনটি গোল করা দেনিস চেরিশেভ জায়গা হারিয়েছেন শুরুর একাদশে। লাল কার্ড পাওয়ায় নেই ইগর স্মলনিকভ। একাদশে জায়গা হয়নি ইউরি গাজিনস্কি ও আলেক্সি মিরানচুকের। একাদশে ফিরেছেন মারিও  ফেরনান্দেস, দালের কুজিয়ায়েভ, ইউরি জিরকভ ও আলেকসান্দার গোলোভিন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ