ঢাকা, সোমবার 2 July 2018, ১৮ আষাঢ় ১৪২৫, ১৭ শাওয়াল ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

জীবননগরে ৭ দিনব্যাপী লাঠি খেলা শুরু

জীবননগর (চুয়াডাঙ্গা) সংবাদদাতা : জীবননগর সীমান্ত ইউনিয়নে ৭দিন ব্যাপী গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী লাঠি খেলার প্রথম দিনের খেলা আনুষ্ঠানিক ভাবে অনুষ্ঠিত হয়েছে। জীবননগর উপজেলার সীমান্ত ইউনিয়নের কয়া গ্রামবাসীর আয়োজনে গতকাল সকালে ৭ দিন ব্যাপী হারিয়ে যাওয়া গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী লাঠি খেলা অনুষ্ঠিত হয়।

বাংলার ঢুলির মন মাতানো ঢোলের আওয়াজ শুনে লাঠি খেলা দেখার জন্য সীমান্ত ইউনিয়নসহ উপজেলার বেশ কয়েকটি গ্রাম থেকে হাজারো লাঠি খেলার দর্শকরা  ছুটে আসেন হারিয়ে যাওয়া গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী লাঠি খেলা দেখতে। এ খেলা দেখতে আসা দর্শকদের মনে ছিল অন্যরকম অনুভুতি। খেলা শেষে খেলোয়াড়দের আনন্দ দেওয়ার জন্য পারিশ্রমিক হিসাবে প্রতিটি বাড়ি থেকে দেওয়া হয় চাউল।

এদিকে, উপজেলার কয়া গ্রামে ৭ দিন ব্যাপী  লাঠি খেলা শুরু হওয়াতে কয়া গ্রামের জামাইদের কদরও যেন অনেকটাই বেড়ে গেছে। লাঠি খেলা দেখতে আসা পার্শ্ববর্তী উপজেলা মহেশপুরের আব্দুল জানান, লাঠি খেলা একটি ভিন্ন রকম জনপ্রিয় খেলা । এ খেলাটি এখন হয়না বললেই চলে ঐতিহ্যবাহী এই লাঠি খেলাটি কয়া গ্রামবাসী আয়োজন করায় মনে হচ্ছে আবারও পুনরায় হারিয়ে যাওয়া লাঠি খেলাটি নতুন রুপ ফিরে পেলো। কয়া গ্রামের সাবেক মেম্বার নজরুল ইসলাম জানান, প্রতি বছর এই সময় আমাদের কয়া গ্রামবাসীর আয়োজনে হারিয়া যাওয়া গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী লাঠি খেলা অনুষ্ঠিত হয়। এই লাঠি খেলাকে কেন্দ্র করে গ্রামে একটি উৎসব মুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয়। নুতন পুরাতন জামাইসহ অন্যান্য আত্বীয় স্বজনরা গ্রামে খেলা দেখতে ছুটে আসেন । 

৪নং সীমান্ত ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মঈন উদ্দিন ময়েন জানান, লাঠি খেলা আমাদের গ্রামবাংলার একটি ঐতিহ্যবাহী খেলা এই খেলাধুলার মাধ্যমেই মাদক মুক্ত সমাজ গঠন করা সম্ভব।  কয়া গ্রামবাসীর আয়োজনে ৭ দিন ব্যাপী  যে খেলাটি আয়োজন করা হয়েছে এ আয়োজক কমিটিকে আমি ধন্যবাদ জানাই এই মহতি উদ্যোগ নেওয়ার জন্য। আসলে আমরা যদি সকলে একত্রিত হয়ে গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যবাহী খেলাধুলা গুলো আবার ফিরিয়ে আনতে পারি তা হলে যুবসমাজ মাদক থেকে বিরত থাকবে।  

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ