ঢাকা, সোমবার 2 July 2018, ১৮ আষাঢ় ১৪২৫, ১৭ শাওয়াল ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

কেশবপুরে ক্ষেপা কুকুরের কামড়ে আহত ১৮ জন

কেশবপুর (যশোর) সংবাদদাতা : যশোরের কেশবপুরে একই দিনে ক্ষেপা কুকুরের কামড়ে ১৮ জন মারাতœক জখম হয়েছে। এ নিয়ে জুন মাসে ৭৫ জন পথচারী কুকুরের কামড়ে আহত হয়ে কেশবপুর হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। কুকুর নিধনে আইনগত বাঁধা থাকায় পৌরসভাও কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না। ফলে গোটা কেশবপুরে এখন কুকুর আতঙ্ক বিরাজ করছে। প্রশাসন এ ব্যাপারে নীরব ভূমিকা পালন করায় মানুষের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে।
এলাকাবাসি ও হাসপাতাল সূত্রে জানায়, গত শনিবার সকালে কেশবপুরের বায়শা, বালিয়াডাঙ্গা, আলতাপোলসহ বিভিন্ন গ্রামে ক্ষেপা কুকুরের কামড়ে মোট ১৮ জনকে মারাত্মক জখম করেছে। এর মধ্যে বায়সা গ্রামের ইয়াকুব আলীর মেয়ে রওশনারা ইয়াসমিন (৭), সুফল রায়ের ছেলে সন্দীপ রায় (৬), খাদের আলীর ছেলে জালাল আহম্মেদ (৫৮), মিজানুর রহমানের ছেলে বিপ্লব (৬), ভবানীপুর গ্রামের খঞ্জের আলীর ছেলে মোজাম গাজী (৫০), আলতাপোল গ্রামের হাসান আলীর মেয়ে হাবিবা (১৬), হযরত আলীর স্ত্রী আয়েশা খাতুন (৫৫), বালিয়াডাঙ্গা গ্রামের কামরুজ্জামানের মেয়ে তাসফিয়া (১০), সাইদুর রহমানের ছেলে আবু মুসা (৫), আতাউর রহমানের স্ত্রী রাবেয়া (৪৫), মনিরুল ইসলামের মেয়ে রিমি (৯), কুশলদিয়া গ্রামের আজিজুর রহমানের মেয়ে স্বপ্না (২০), ব্যাসডাঙ্গা গ্রামের নিছার আলীর ছেলে আয়ুব আলী (৫০) বারুইহাটি গ্রামের মাদার সরদারের ছেলে এলাই বক্স (৩৫), সুজাপুর গ্রামের আবদুস সাত্তারের স্ত্রী ফিরোজা বেগম (৩৬), বারিক মোল্লার ছেলে মোফাজ্জেল হোসেন (৪০), খায়রুল ইসলামের স্ত্রী নাজমুন্নাহার (৩৮) ও বেগমপুর গ্রামের ইউসুপ আলীর ছেলে আবুল বাসার (৪৫)। বালিয়াডাঙ্গা গ্রামের রাবেয়া বেগম জানান, রাস্তা দিয়ে হেটে যাবার সময় পিছন থেকে কুকুর এসে ঝাপ দিয়ে হাতের বাহুতে কামড়ে ধরে। তাসফিয়ার দাদা আনার সরদার জানান, রাস্তা দিয়ে যাবার সময় ক্ষেপা কুকুর তাসফিয়াকে তাড়া করে কামড়ায়। 
জানা গেছে, গত ২ বছর ধরে কুকুর নিধন না হওয়ায় কেশবপুর শহরে কুকুরের উপদ্রব মাত্রাতিরিক্তভাবে বেড়ে গেছে। ২৫/৩০ টি করে কুকুর দলবদ্ধভাবে পৌর শহরের অলিতে গলিতে ঘুরে ফিরছে। অনেক সময় এরা পথচারীদের একা পেয়ে ঘেউ ঘেউ করে আক্রমণও করে থাকে। শহরের মাংস বাজার, পুরাতন গো হাটা, সাহাপাড়া, চিংড়া মোড়, ত্রিমোহিনী মোড়সহ বিভিন্ন এলাকায় এদের বিচরণ সবচেয়ে বেশি। এরা দলবদ্ধভাবে রাস্তার ওপর শুয়ে থাকে। যার কারণে পথচারীসহ স্কুলগামী শিক্ষার্থীরা রাস্তা দিয়ে পথ চলতে ভয় পায়। রাতে এরা আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে।
কেশবপুর হাসপাতালের ডাক্তার শেখ আবু শাহিন জানান, গত দু’তিন দিন কুকুরে কামড়ানো রোগি বেশি এসেছে। চলতি গত জুন মাসে মোট ৭৫ জন কুকুরে কামড়ানো রোগী ভর্তি হয়েছে। তাদের সরকারিভাবে জলাতঙ্ক রোগের ভ্যাকসিন দেয়া হয়েছে। কুকুর নিধন বা কার্যকরি পদক্ষেপ নেয়ার জন্য কেশবপুর পৌরসভা ও উপজেলা নির্বাহী অফিসে লিখিতভাবে আবেদন করা হয়েছে। তবে এখনো পর্যন্ত কোনো পদক্ষেপ নেয়া হয়নি।
কেশবপুর পৌর মেয়র রফিকুল ইসলাম জানান, কুকুর না মারার জন্য হাইকোর্টের নির্দেশনা থাকার কারণে কুকুর নিধন করা সম্ভব হচ্ছে না। কেশবপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মিজানূর রহমান জানান, পৌরসভা কুকুর নিধন না করতে পারলে কুকুরকে ভ্যাকসিন দিয়ে তো জলাতাঙ্কমুক্ত করতে পারে। আমাদের পক্ষ থেকে কুকুরকে ও মানুষকে আলাদা আলাদা করে ভ্যাকসিন দেয়ার জন্য এক লাখ টাকার দু’ধরনের ভ্যাকসিনের ব্যবস্থা করেছি। আগামী কয়েক দিনের মধ্যে ওই ভ্যাকসিন এসে যাবে। এর একটি প্রাণিসম্পদ অফিসে এবং অন্যটি হাসপাতালে রেখে প্রয়োগ করা হবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ