ঢাকা, সোমবার 2 July 2018, ১৮ আষাঢ় ১৪২৫, ১৭ শাওয়াল ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

রাজাপুরে ঝুঁকিপূর্ণ ব্রিজ আতঙ্কে হাজারো মানুষ!

রাজাপুর (ঝালকাঠি) সংবাদদাতা: একটি ব্রিজের সংস্কারের অভাবে ভেস্তে যেতে বসেছে রাজাপুরের সদরের সাথে হাজারো মানুষের যোগাযোগ। ঝালকাঠির রাজাপুর উপজেলার সদর ইউনিয়নের পাড়গোপালপুর ও বারবাকপুর গ্রামের কোল ঘেঁসা একটি আয়রন ব্রিজ বিগত কয়েক বছর পূর্বে লোহার ভার এর এঙ্গেল গুলো খুলে নিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা। এঙ্গেলগুলো খুলে নেয়ার কারণে ব্রিজটি এখন খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। ব্রীজটি দিয়ে প্রতিদিন বাড়ী যানবাহন চলাচল করায় ব্রিজটি যদি কোনো একদিক হেলে পরে তাহলে যোগাযোগে বিড়ম্বণায় ওই এলাকা সহ পাশ্ববর্তী কয়েক হাজার মানুষ। সরেজমিনে গিয়ে দেখাযায়, উপজেলার রাজাপুর সদর ইউনিয়নের পাড়গোপালপুর ও বারবাকপুর গ্রামের ৭ ও ৮নং ওয়ার্ডের মনোহরপুর থেকে লেবুবুনিয়া গ্রামের আয়রন ব্রিজটির খুব নিকটেই অবস্থিত ১টি প্রাথমিক ও ১টি মধ্যমিক বিদ্যালয়। প্রতিদিন ওই এলাকার স্কুল কলেজগামী শিক্ষার্থী, শিশু, অসুস্থ্যরোগী, বৃদ্ধ-বৃদ্ধাসহ প্রায় পাঁচ সহ¯্রাধিক মানুষ প্রত্যহ যাতায়াত করে। ব্রিজটি ঐ এলাকার লোকজনদের রাজাপুর উপজেলা শহরে যাতায়াতের একমাত্র ব্রিজ। যদি অন্যদিক থেকে রাজাপুর শহরে আসতে হয় তবে কিলোমিটার পথ ঘুরে আসতে হয়। বিগত ৪-৫ বছর যাবত ব্রিজটি ঝুঁকিপূর্ণ, এমনকি ব্রিজ সংলগ্ন প্রায় ৪ কিলোমিটার রাস্তাটি পাকা হলেও বাড়ী যানবাহন চলাচলের ফলে রাস্তার অনেকাংশে গর্ত হয়েছে। বিশেষ করে বর্ষা মওসুমে পাকা রাস্তাটিতে গর্ত হয়ে থাকে। ফলে ওই এলাকার জনসাধারণের যাতায়াতে দূর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। বর্তমানে ব্রিজটির নিচের লোহার এঙ্গেলগুলো দুর্বৃত্তরা নিয়ে যাওয়ায় ওই গ্রামের স্কুল কলেজগামী শিক্ষার্থী, শিশু, বৃদ্ধ-বৃদ্ধাসহ জনসাধারন আতঙ্কে রয়েছে। কেননা ব্রিজটি যে কোন সময় একদিকে হেলে পড়ে ঘটতে পারে বড় ধরনের কোন দুর্ঘটনা। এলাকাবাসী আতঙ্কের কথা স্বীকার করে বলেন, স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের কাছে একাধিক বার ধর্ণা দিয়েও কোনো কাজে আসেনি। তাই এলাকাবাসীর দাবি অতি দ্রুত ব্রিজটি পুনঃনির্মাণের জন্য স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দৃষ্টি কামনা করেন।
এ বিষয়ে উপজেলার সদর ইউপি চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন মৃধা বলেন, “ইতিমধ্যে রাজাপুর, লেবুবুনিয়া, সাতুরিয়া ও হালদারখালি রাস্তাটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা হওয়ায় রাস্তাটি আরও চওড়া করার জন্য একটি প্রজেক্টে দেওয়া হয়েছে। রাস্তাটির মধ্যে যে আয়রন ব্রিজগুলো আছে সেগুলো পুনঃনির্মাণ বা সরিয়ে নতুন ব্রিজ নির্মানের জন্য প্রকল্পে দেওয়া হয়েছে।”
এ বিষয়ে উপজেলা এলজিইডি কর্মকর্তা লুৎফর রহমান জানান, “রাজাপুর থেকে লেবুবুনিয়া রাস্তাটির মধ্যে যে আয়রন ব্রিজগুলো আছে তা ইতিমধ্যে পুনঃনির্মাণের জন্য প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। আশাকরি কয়েক মাসের মধ্যেই অনুমোদন পাওয়া যাবে।”

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ