ঢাকা, সোমবার 2 July 2018, ১৮ আষাঢ় ১৪২৫, ১৭ শাওয়াল ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

খুলনায় গৃহবধূ সোনিয়া হত্যা রহস্য অনুদ্ঘাটিত

খুলনা অফিস : রূপসা উপজেলার আইচগাতীর সেনের বাজার ঘাট সংলগ্ন ভৈরব নদ থেকে উদ্ধার হওয়া নগরীর খালিশপুরে সোনিয়া আক্তারের (২০) হত্যার রহস্য গত ১০ দিনেও উদ্ঘাটন করতে পারেনি পুলিশ। তিনি খালিশপুর উত্তর কাশিপুর পোড়াবাড়ি মসজিদ সংলগ্ন আক্কাস আলীর বাড়ির ভাড়াটিয়া নির্মাণ শ্রমিক মো. মিন্টু সরদারের স্ত্রী। তিনি একজন দর্জি ও গৃহপরিচারিকা ছিলেন। এরা বাগেরহাট জেলার মোরেলগঞ্জ থানার ভাটখালি গ্রামের বাসিন্দা।
এদিকে সোনিয়া হত্যার ঘটনায় এলাকাবাসী ফুঁসে উঠেছে। তারা হত্যার প্রতিবাদে এবং হত্যাকারীদের গ্রেফতারের দাবিতে গতকাল রোববার মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়েছে। বিকেল ৫টায় লিবার্টি হল চত্বরে এলাকাবাসীর উদ্যোগে এ মানববন্ধন কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। এছাড়া একই দাবিতে দর্জি শ্রমিকদের উদ্যোগে সোমবার সকাল ১১টায় খালিশপুর চিত্রালী বাজার সংলগ্ন ড্রেস কর্নারের সামনে প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হবে বলে জানান সোনিয়ার শেষ কর্মস্থল দর্জি দোকানের মালিক তরিকুল ইসলাম। আরেক দর্জি আব্দুল গফুর জানান, সোনিয়া একজন সহজ সরল মেয়ে ছিল। এলাকার প্রতিটি টেইলার্সের দোকানে ছিল তার জনপ্রিয়তা। তার মৃত্যু এলাকাবাসী সহজে মেনে নিতে পারছে না। সৌখিন টেইলার্সের মালিক আরমান জানান, দর্জি শ্রমিক সোনিয়া হত্যার রহস্য উদ্ঘাটনে এলাকাবাসী সোচ্চার। কিন্তু লাশ উদ্ধারের অনেক দিন পার হয়ে গেলেও রহস্য উদ্ঘাটন না হওয়ায় তারা ক্ষুব্ধ। এদিকে গৃহবধূ সোনিয়া আক্তারের রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনায় আদালতের আশ্রয় নিয়েছেন সোনিয়ার মা জোবেদা বেগম। গত ২৭ জুন খুলনা মহানগর হাকিমের আমলী আদালত ‘গ’ অঞ্চলে জোবেদা বেগম বাদী হয়ে তার মেয়েকে বাড়িওয়ালার পরিবার যোগসাজশে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করার লিখিত অভিযোগ করেন। যার সি/আর নং-৫৩৯/১৮। অভিযোগে বাড়িওয়ালার বড় মেয়ে আকলিমা (২৪), আব্দুস সালামের ছেলে সাদ্দাম হোসেন (৩০), বাড়িওয়ালা আক্কাস আলী শেখ (৫০), আব্দুস সালামের ছোট ছেলে তরিকুল ইসলাম (২৮) ও আক্কাসের ছোট ছেলে মো. ইব্রাহিমকে (১৯) অভিযুক্ত করা হয়। বাদীর পক্ষে মামলাটি পরিচালনা করছেন এডভোকেট মোহাম্মাদ আলী বাবু। তিনি বলেন, আদালত অভিযোগটি তদন্ত সাপেক্ষে খালিশপুর থানার ওসিকে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন। আগামী ৩০ জুলাই এ অভিযোগের পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করা হয়েছে বলে তিনি জানান। খালিশপুর থানার অফিসার্স ইনচার্জ সরদার মোশাররফ হোসেন বলেন, আদালত থেকে একটি অভিযোগনামা পেয়েছি। তা তদন্তের জন্য ওসি (তদন্ত) শেখ আবুল খায়েরকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে।
নিহতের মা জবেদা বেগম জানান, সোনিয়ার রেখে যাওয়া দু’ বছর বয়সের একটি ছেলে সন্তান রয়েছে। তার নাম সুমন হাসান। তার চোখ সোনিয়াকে খুঁজছে। থেকে থেকে শিশুটি তার মাকে ডাকছে। এ সময় চোখের পানি ধরে রাখা যাচ্ছে না।
উল্লেখ্য, ২১ জুন বাড়িওয়ালা আক্কাস ও তার পরিবারের লোকজন দর্জি শ্রমিক সোনিয়াকে বেদম প্রহার করে। এরপর থেকে সোনিয়ার আর কোন খোঁজ পাওয়া যায়নি। গত ২৩ জুন আইচগাতী পুলিশ ফাঁড়িতে একটি মহিলার লাশ নদী থেকে উদ্ধার হওয়ার সংবাদ পেয়ে সোনিয়ার স্বামী মিন্টু সরদার, শ্বশুর মো. নাদিম হোসেনসহ এলাকার লোকজন লাশের পরণে কালো বোরকা, সালোয়ার কামিজ ও হাত, পাসহ অন্যান্য চিহ্ন দেখে লাশটি সোনিয়ার বলে শনাক্ত করেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ