ঢাকা, সোমবার 2 July 2018, ১৮ আষাঢ় ১৪২৫, ১৭ শাওয়াল ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

সাগরের ঢেউয়ের থাবায় বিলীন হচ্ছে বেড়িবাঁধ॥ আতংকে দ্বীপবাসী

সরওয়ার কামাল (মহেশখালী) থেকে : কক্সবাজারের মহেশখালীতে একের পর এক মেঘা উন্নয়ন প্রকল্পে পাল্টে যাচ্ছে এ উপজেলার চিত্র। বিশেষ করে মহেশখালী উপজেলার মাতারবাড়ীতে ১৪'শ ও ১২'শ মেগাওয়াট ক্ষমতা সম্পন্ন দু'টি কয়লা বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ কাজ দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে। ইতিমধ্যে মাতারবাড়ীর দক্ষিণে ১৪'শ মেঘাওয়াট ক্ষমতা সম্পন্ন কয়লা বিদ্যুৎ প্রকল্পের কাজ প্রায় ৩০% সমাপ্ত হয়েছে। আর মাতারবাড়ীর পশ্চিমে নৌ-বন্দর নির্মাণের জন্যও চলছে জরিপ কাজ। সব মিলিয়ে মাতারবাড়ী হতে যাচ্ছে মিনি সিঙ্গাপুর। তার পরেও মাতারবাড়ী সাগর পাড়ের মানুষের আর্তনাদে যেন আকাশ বাতাশ ভারী হয়ে উঠছে। মাতারবাড়ীর প্রতিটি ঘরে ঘরে চলছে নিরব কান্নার রোল। মাতারবাড়ীতে এত উন্নয়ন তার পরও সুখে নেই এ ইউনিয়নের মানুষগুলো, এবারের ঈদে কয়েক'শ পরিবারের ঈদ আনন্দ কেটেছে পানির সাথে যুদ্ধ করে। জোয়ারের পানি আর বৃষ্টির পানিতে সৃষ্ট জলোচ্ছাসে তলিয়ে গেছে মাতারবাড়ীর দক্ষিণ রাজঘাট, বিল পাড়া, উত্তর সিকদার পাড়া, দক্ষিণ সাইরার ডেইল সহ অনেক নিম্নাঞ্চল। এদিকে মাতারবাড়ী ইউনিয়টি বঙ্গোপসাগরের মোহনায় হওয়ায় ঘূর্ণিঝড় ও দূর্যোগের তোপের মূখে থাকে প্রতিনিয়ত। বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগে মাতারবাড়ী মানুষগুলো সব চাইতে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে থাকে। স্থায়ীভাবে ব্লক দিয়ে বেড়িবাঁধ সংস্কার না করার কারণে বার বার ক্ষতির সম্মুখীন হয় উপকূলের এই গুরুত্বপূর্ণ ইউনিয়ন। ক্ষতিগ্রস্ত মাতারবাড়ীবাসীর বেড়িবাঁধ সংস্কারের দাবী দীর্ঘদিনের হলেও নানা অজুহাত দেখিয়ে কাজের কোন প্রকার অগ্রগতি হয়নি এখনো। ফলে অতীতেও উপকূলের লাখো মানুষ অকালেই প্রাণ হারায় সর্বনাশা বঙ্গোপসাগারে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড় আর সাগরের বড় জলরাশিতে।
বেঁড়িবাধের পাশে বসবাসকারী লোকজন জানান, গেল ঘূর্ণিঝড় রোয়ানুর প্রভাবে সৃষ্ট জলোচ্ছাসে ব্যাপক ক্ষতি হয়ে ছিল মাতারবাড়ীতে তা এখনো পর্যন্ত ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি অনেক অসহায় পরিবার। ঘুমানোর জন্য ছিলনা কোনো নিরাপদ বাসস্থান। কিন্তু তার পরও এ নিয়ে খুব বেশি আক্ষেপ নেই তাঁদের। সবার আগে স্থায়ী বেড়িবাঁধ চান তারা। অপরদিকে মাতারবাড়ী ইউনিয়নের ষাইটপাড়া এলাকায় বেড়িবাঁধের প্রায় আধাঁ কিলোমিটার এলাকা নতুন করে সাগরের বড় বড় ঢেউয়ের থাবায় বিলীন হতে চলেছে। পাকা বেড়িবাঁধের বড় অংশ ধসে যাওয়ায় আতঙ্কে দিন কাটছে মাতারবাড়ীর প্রায় ৯০ হাজার মানুষের। বেড়িবাঁধের বাকি এক কিলোমিটার অংশও যেকোনো সময় বিলিন হতে পারে বলে আশঙ্কা মাতারবাড়ীবাসীর। তেমনটা হলে পুরো মাতারবাড়ী ইউনিয়ন সাগরের পানিতে তলিয়ে যাবে। চলতি বর্ষা মওসুমে উপজেলার মাতারবাড়ী ইউনিয়নের অনেক নিম্নাঞ্চল পানিতে তলিয়ে গেছে আর সামনের ভারি বর্ষণে পুরো মাতারবাড়ীই পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ার আশংকা করছেন স্থানীয় লোকজন।
কক্সবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ড এর প্রকৌশলী মোঃ শফিকুর রহমান বলেন, আমি এ বছর মাতারবাড়ী বেড়িবাঁধটি পরিদর্শন করে এসেছি, মাতারবাড়ী পশ্চিমের সাইড পাড়া বেড়িবাঁধটি আরসিসি ব্লক দিয়ে একটি টেঁকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণের পরিকল্পনা আমাদের রয়েছে। তবে এটি অনুমোদনের জন্য ৫ থেকে ৬ মাস সময় লাগতে পারে, তাই এ বছর কোন রকম টিকিয়ে রাখতে আমরা সর্বাত্বক চেষ্টা করব ।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ