ঢাকা, সোমবার 2 July 2018, ১৮ আষাঢ় ১৪২৫, ১৭ শাওয়াল ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

সৈয়দপুরে সুদখোরের চাপে গৃহবধুর আত্মহত্যা ॥ থানায় মামলা

সৈয়দপুর (নীলফামারী) সংবাদদাতা : নীলফামারীর সৈয়দপুর উপজেলার কামারপুকুর ইউনিয়নের নিজবাড়ী গ্রামে সুদখোরের চাপে সুলতানা খাতুন নামে এক গৃহবধু আত্মহত্যা করেছে। তিনি ওই গ্রামের রিক্সা চালক মো: শফিকুল ইসলামের স্ত্রী। এ ঘটনায় এলাকার মো: এলাহী বকস এর ছেলে চিহ্নিত সুদখোর মো: ইসরাফিল হক ওরফে এছরা (৪৮) সহ ৩ জনকে আসামী করে সৈয়দপুর থানায় মামলা করা হয়েছে। জানা যায়, প্রায় ২ বছর পূর্বে শফিকুল ইসলামের টাকার প্রয়োজন হওয়ায় ইসরাফিল হক এছরার নিকট থেকে ২০ হাজার টাকা নেন। এসময় প্রতিদিন ২ শ’ টাকা করে সুদ প্রদানের শর্তে জামানত হিসেবে শফিকুলের স্বাক্ষরযুক্ত ইসলামী ব্যাংক লিমিটেড সৈয়দপুর শাখার একটি ও তার স্ত্রী সুলতানার স্বাক্ষরযুক্ত আল আরাফাহ ইসলামী ব্যাংক সৈয়দপুর শাখার একটি ফাঁকা চেক নেয়। টাকা নেয়ার পর থেকে শফিকুল দম্পতি নিয়মিত প্রতিদিন ২ শ’ টাকা সুদ দিয়ে আসছিল।
এমতাবস্থায় অভাবের কারণে প্রায় ১ মাস সুদ দিতে অপারগ হওয়ায় এছরা অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করায় শফিকুল রিক্সা চালিয়ে টাকা উপার্জনের জন্য ঢাকায় চলে যায়। এতে এছরা প্রায় দেড় মাস সুদের টাকা না পেয়ে শফিকুলের স্ত্রী সুলতানা খাতুনের উপর প্রচন্ড চাপ সৃষ্টি করে। গত ১৪ জুন রাতে মোবাইলে এছরা সুলতানা খাতুনকে তার বাড়িতে ডেকে নিয়ে সুদের টাকা দেয়ার জন্য আবারও চাপ দেয় এবং এসময় সুলতানা স্বামী ফিরে না আসা পর্যন্ত টাকা দিতে পারবেনা বলে জানালে এছরা ও তার স্ত্রী মোরশেদা খাতুন, ছেলে মোরশেদুল ইসলাম অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করা সহ নানাভাবে অপমান করে। সেই অপমান সহ্য করতে না পেরে সুলতানা স্বামীর বাড়ি ফিরে এসে রাত আনুমানিক ১১ টা থেকে ১ টার দিকে গলায় রশি দিয়ে আত্মহত্যা করে। পরের দিন খবর পেয়ে পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য নীলফামারী মর্গে প্রেরণ করে। ময়না তদন্ত শেষে সেদিনই তাকে দাফন করা হয়। পরে নিহত সুলতানার ভাই মো: ওবাইদুল হক বাদি হয়ে গত ২৩ জুন সুদখোর এছরাসহ তার স্ত্রী ও ছেলেকে আসামী করে সৈয়দপুর থানায় এজাহার দাখিল করে। এ ব্যাপারে নিহতের পরিবারের লোকজন জানায়, মামলা না করার জন্য এছরাসহ ওয়ার্ড মেম্বার ও অন্যান্য গ্রাম্য মাতব্বরা নানা রকম ভয়ভীতি প্রদর্শন করছে। তারা বিষয়টি টাকার বিনিময়ে মিমাংসা করে নেয়ার জন্য চাপ দিয়ে যাচ্ছে। সৈয়দপুর থানার অফিসার ইনচার্জ শাহজাহান পাশা জানান, লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি আমরা দেখছি। তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ