ঢাকা, সোমবার 19 November 2018, ৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৫, ১০ রবিউল আউয়াল ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

কয়েকশো খৃস্টানকে যেভাবে বাঁচালেন ইমাম

সংগ্রাম অনলাইন ডেস্ক:

নাইজেরিয়ার মসজিদের একজন ইমাম ২৬২ খৃস্টানকে আক্রমণকারীদের হাত থেকে বাঁচিয়েছেন। পালিয়ে আসা লোকজন 'খৃস্টান অধ্যুষিত' প্রতিবেশি একটি গ্রামের।

বিবিসির খবরে বলা হয়, নাইজেরিয়ার একটি খৃস্টান অধ্যুষিত গ্রামে হঠাৎ হামলা চালায় দুর্বৃত্তরা। এসময় তারা গুলি চালাতে চালাতে গ্রামের ভেতর ঢুকতে থাকে। প্রাণভয়ে পালাতে শুরু করে খৃস্টান ধর্মাবলম্বিরা। ওইগ্রামের পাশেই ছিলো একটি মুসলিম-অধ্যুষিত গ্রাম। খৃস্টাররা সেদিকেই ছুটতে থাকেন। আর তখন মুসলিম গ্রামের একজন ইমাম তাদেরকে বাঁচাতে এগিয়ে আসেন। পালিয়ে আসা লোকজনকে তিনি একটি গোপন আশ্রয়ে নিয়ে যান। ২৬২ জনকে তিনি আশ্রয় দেন তার নিজের বাড়িতে এবং গ্রামের মসজিদে। তাদের মধ্যে নারী ও শিশুর সংখ্যাই সবচেয়ে বেশি বলে।

বিসিবির সূত্র অনুযায়ী, ঐ মুহূর্তে পালিয়া আসা খৃস্টানদের বাঁচাতে ইমাম যদি এগিয়ে না আসতেন তাহলে আরো বেশি হতাহতের ঘটনা ঘটতো। কারণ হামলাকারীরা তখন প্রতিবেশি এই গ্রামেও পালিয়ে যাওয়া লোকজনের খোঁজে তল্লাশি চালিয়েছিল।

বিবিসিকে ওই ইমাম আরো বলেন, তিনি লোকজনকে এভাবে বাঁচাতে চেয়েছেন কারণ আজ থেকে ৪০ বছরেরও বেশি সময় আগে এই এলাকার খৃস্টানরা মুসলিমদেরকে এখানে মসজিদ নির্মাণের অনুমতি দিয়েছিল।কোন টাকা পয়সা ছাড়াই মুসলমানদেরকে তারা তাদের জমি জমা দিয়েছিলো বলে জানান তিনি।

জানা যায়, নাইজেরিয়ার মধ্যাঞ্চলে প্রায়ই এধরনের হামলার ঘটনা ঘটে যেখানে যাযাবর পশুপালকরা স্থানীয় লোকজনের সাথে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়।

এ ছাড়াও এই অঞ্চলে দুটো গোষ্ঠীর মধ্যেও ধর্মীয় উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। পশুপালকরা জাতিগতভাবে ফুলানি গোষ্ঠীর, তাদের বেশিরভাগই মুসলিম আর অন্যদিকে খৃস্টানরা বেরম জাতিগোষ্ঠীর।

এই অঞ্চলে এবছরেই জাতিগত সহিংসতায় শত শত লোক নিহত হয়েছে। এই সহিংসতার পর ওই এলাকায় কারফিউ জারি করা হয়েছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ