ঢাকা, রোববার 23 September 2018, ৮ আশ্বিন ১৪২৫, ১২ মহররম ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

সন্ধ্যা নদীর ভাঙনে বিলীন হচ্ছে বাড়ি-ঘর জনপদ

সংগ্রাম অনলাইন ডেস্ক:

পিরোজপুর জেলার স্বরূপকাঠি উপজেলার সন্ধ্যানদীর ভাঙন ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। কৌড়িখাড়া লঞ্চঘাট এলাকায় গত শুক্রবার বিকালে হঠাৎ করে ওই ভাঙনে ৩টি বসতঘর ও ২টি দোকানসহ বিস্তীর্ন এলাকা নদীগর্ভে  বিলীন হয়ে গেছে।

উপজেলার কৌরিখাড়া লঞ্চঘাট সংলগ্ন এলাকার মো. নুরুল হক, মো.মোস্তাহার মিয়া ও দুলাল মিয়ার বসতঘর, হুমাউন ও মিলনের দোকানঘরসহ প্রায় ২০ শতাংশ বাগানবাড়ি নদীগর্ভে হারিয়ে গেছে। দক্ষিণ কৌরিখাড়া লঞ্চঘাটের জেটির পিছনের সড়কও নদীগর্ভে তলিয়ে গেছে। দীর্ঘ দিন ধরে ওই এলাকায় ভাঙন অব্যাহত রয়েছে।

লঞ্চঘাটের সুপারভাইজার মো. সিদ্দিকুর রহমান জানান, সন্ধ্যানদীর ভাঙন থেকে রক্ষা পেতে এ যাবত তিনবার দ. কৌরিখাড়া লঞ্চঘাটটি স্থানান্তর করেও যেন শেষ রক্ষা হচ্ছে না। একমাস পূর্বে একই এলকার মো. শহীদুল ইসলাম, মো. সেলিম হোসেন ও মো. আলমগীর হোসেনের বসতঘরসহ বাগানবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়।

এদিকে ভাঙন সংলগ্ন এলাকায় দেখা দিয়েছে ছোট বড় অনেক ফাটল। সন্ধ্যা নদীর পশ্চিম তীরের দক্ষিণ কৌরিখাড়া,পুর্ব সোহাগদল,গনমান গ্রামের নদী ভাঙন ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে। একে একে সন্ধ্যার গহবরে বিলীন হয়ে যাচ্ছে বসত ঘর, বাগানবাড়িসহ ফসলী জমি। নদী ভাঙনে সর্বস্ব হারিয়ে ছিন্নমূলে পরিণত হয়েছে অনেক পরিবার।

এর আগে গনমান গ্রামের মো. মজিবুর রহমান, মো. আবুল কালাম ,মো. আসলাম হোসেন, মো. কবির হোসেন, মো. মিজানুর রহমান, মো.ফজলুল হক, মো. আলমগীর হোসেন ও সোহেলের বসত ঘরসহ প্রায় ১০ একর বাগানবাড়ি সন্ধ্যার গর্ভে তলিয়ে গেছে। সন্ধ্যা নদীর অব্যাহত ভাঙনে ইতিমধ্যে দক্ষিণ কৌরিখাড়া ও গনমান গ্রামটি প্রায় দুই তৃতীয়াংশ বিলীন হয়ে গেছে।  ভিটেমাটি হারিয়ে অনেক পরিবার মানবেতর জীবন যাপন করছে। ভাঙন কবলিত এলাকায় অনেক পরিবার এখনো তাদের শেষ আশ্রয় স্থল বসত ভিটায় জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বসবাস করছে।

এছাড়াও উপজেলার বিভিন্ন পয়েন্টে  সন্ধ্যা নদীর ভাঙন অব্যহত রয়েছে। বিশেষ করে স্বরূপকাঠি-পিরোজপুর সড়কের কামারকাঠির (মোল্লাবাড়ী) নামক স্থানে নদী ভাঙনের ফলে চরম ঝুঁকির মধ্যে যানবাহন চলাচল করছে। প্রায় ৩০ বছর যাবৎ সন্ধ্যা নদীর অব্যাহত ভাঙনের ফলে ইতোমধ্যে উপজেলার, উত্তর কৌরিখাড়া, দক্ষিন কৌরিখাড়া, ছারছীনা, শান্তিহার, কুনিয়ারী, জলাবাড়ী, পুর্ব সোহাগদল, গনমান, মুনিনাগ, কামারকাঠি, ব্যাসকাঠি, সেহাংগল এলাকার অনেকের বসত ভিটে ,হাজার হাজার একর ফসলী  জমিসহ বিস্তীর্ন জনপদ সন্ধ্যা নদী গ্রাস করে নিয়েছে।

এদিকে কৌরিখাড়া বিসিক শিল্প নগরী, কৌরিখাড়া ডাকঘরসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান সন্ধ্যানদীর ভাঙনের হুমকির মুখে। বিগত দিনে উত্তর কৌরিখাড়া ও দক্ষিণ কৌড়িখাড়া ভাঙন কবলিত খেয়াঘাট সংলগ্ন কিছু এলাকায় ব্লক ও জিও টেক্স ব্যাগে বালু ভর্তি করে ফেলে সাময়িক ভাঙনরোধ হলেও দক্ষিণ দিকের দ.কৌরিখাড়া,পুর্ব সোহাগদল ও গনমান গ্রামের ভাঙন তীব্র আকার ধারণ করেছে।

এলাকাবাসী ও ভুক্তভোগীরা ভাঙনরোধে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পানি উন্নয়ন বোর্ডসহ সরকারের উচ্চ পর্যায়ে এখনই পদক্ষেপ নেয়ার দাবি জানান। তা না হলে অনেক বাড়ি-ঘর এমনকি গ্রামের চিহ্ন মুছে যাবে।-ইউএনবি

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ