ঢাকা, মঙ্গলবার 3 July 2018, ১৯ আষাঢ় ১৪২৫, ১৮ শাওয়াল ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

ভারতের সাংবিধানিক বেঞ্চে যাচ্ছে নিকাহ হালালা ও বহুবিবাহ বিরোধী মামলা

২ জুলাই, মুসলিম মিরর : নিকাহ হালালা ও বহুবিবাহ রুখতে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিল ভারতের কেন্দ্র্রীয় সরকার। এ ডাকে সাড়া দিয়ে সাংবিধানিক বেঞ্চে মামলাটি নিয়ে যাচ্ছে দেশটির সর্বোচ্চ আদালত। নিকাহ হালালা নিয়ে বিশেষ পর্যবেক্ষণও করা হবে। তারপরই রায় শুনানি হবে।

তিন তালাকের পর নিকা হালালা ও বহুবিবাহ নিয়ে সরব হয় কেন্দ্র। সরকার মনে করে এই দুটি প্রথা সংবিধানের মৌলিক অধিকারের পরিপন্থী। শুধু তাই নয় এই প্রথা মুসলিম মহিলাদেরও অধিকারের পরিপন্থী। তিন তালাকের মতো নিকাহ হালালা ও বহুবিবাহকে অসাংবিধানিক ঘোষণা করে সুপ্রিম কোটে আর্জি জানিয়েছিল কেন্দ্রীয় সরকার। কিন্তু শীর্ষ আদালত তিন তালাককেই অবৈধ ঘোষণা করে। সেই সঙ্গে জানায় নিকাহ হালালা ও বহুবিবাহ নিয়ে আলাদা করে শুনানি হবে।

নিকা হালালা অর্থাৎ, তালাক পাওয়ার পরও যদি মুসলিম মহিলাদের প্রাক্তন স্বামীর কাছে ফিরতে হয় তবে দ্বারস্থ হতে হবে এই নিকাহ হালালা প্রথার। সেক্ষেত্রে অন্য কোনও পুরুষকে বিয়ে করতে হয় তালাকপ্রাপ্ত মহিলাকে। দ্বিতীয় স্বামীর সঙ্গে সহবাস করতে হবে। তিন মাস পর এবার এই দ্বিতীয় ব্যক্তি তালাক দেবেন তাঁর স্ত্রীকে। তখন ওই মহিলা আবার তাঁর প্রথম স্বামীকে নিকাহ করতে পারেন। এ প্রথা মুসলিম সমাজে বহুল প্রচলিত। এছাড়া, একের বেশি বিবাহ মুসলিম সমাজে রীতিমত চালু রয়েছে।

ইতিমধ্যে নিকাহ হালাল ও বহুবিবাহ বন্ধ করতে চলতি বছর মার্চ মাসে সুপ্রিম কোর্টে পিটিশন জমা করেন এক মুসলিম নারী। নশমিমা বেগম নামে ওই মহিলা মামলা করার জেরে বার বারই হুমকির মুখে পড়ছেন। সেই কথা সুপ্রিম কোর্টকেও তিনি জানান।

প্রধান বিচারপতি দীপক মিশ্রের নেতৃত্বে তিন সদস্যের সাংবিধানিক বেঞ্চ মামলাটি শুনতে রাজি হয়। এরপরেই কেন্দ্রের মতামত জানতে নোটিশ পাঠায় শীর্ষ আদালত। ভারতীয় মুসলিম মহিলা আন্দ্রোলন সংস্থার করা মামলাকে সমর্থন করে নোটিসের জবাব দেয় কেন্দ্র। যেখানে নিকাহ হালালের বিরুদ্ধে ফৌজদারী মামলা দায়ের করার দাবি জানান হয়। আপাতত, শীর্ষ আদালতের পর্যবেক্ষণের আশ্বাসে আশার আলো দেখছে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ