ঢাকা, মঙ্গলবার 3 July 2018, ১৯ আষাঢ় ১৪২৫, ১৮ শাওয়াল ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

৬ শতাংশ সুদে আমানত পেলেই সিঙ্গেল ডিজিটে ঋণ

স্টাফ রিপোর্টার : ব্যাংক ঋণের সুদহার ১ জুলাই থেকে সিঙ্গেল ডিজিটে নামানোর ঘোষণা থাকলেও সেটি পুরোপুরি বাস্তবায়ন হচ্ছে না। ব্যাংকের প্রধান নির্বাহীরা বলছেন, ৬ শতাংশ সুদে আমানত পেলে এক অঙ্কে তথা ৯ শতাংশ সুদে ঋণ বিতরণ করতে পারবেন তারা। এজন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের হস্তক্ষেপ চেয়েছে ব্যাংকগুলোর প্রধান নির্বাহীদের সংগঠন এসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স বাংলাদেশ (এবিবি)।
সংগঠনের নেতাদের বক্তব্য হলো, ব্যাংকগুলো যদি ৬ শতাংশ সুদে আমানত সংগ্রহ করতে পারে, তাহলে ৯ শতাংশ সুদে ঋণ বিতরণ করা সহজ হবে। এর আগে ২৫ জুন এবিবি নেতারা সরকারি ব্যাংক এবং বিভিন্ন সরকারি, আধা সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের আমানত ৬ শতাংশের কম সুদে পাওয়ার জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের গর্বনর ফজলে কবিরের সঙ্গে বৈঠক করেছেন।
এ প্রসঙ্গে এবিবির চেয়ারম্যান ও ঢাকা ব্যাংকের এমডি সৈয়দ মাহবুবুর রহমান বলেন, যেভাবেই হোক আমরা ঋণের সুদহার ৯ শতাংশে নামিয়ে আনবো। বেসরকারি ব্যাংক মালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ এসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্সের (বিএবি) সিদ্ধান্ত আমরা অবশ্যই বাস্তবায়ন করবো।
তিনি আরও বলেন, রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের পড়ে থাকা অলস টাকা (বিভিন্ন বন্ডে রাখা স্বল্প সুদের বিনিয়োগ) এবং বিভিন্ন সরকারি, আধা সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের আমানত ৬ শতাংশের কম সুদে পাওয়া গেলে ঋণের সুদহার এক অঙ্কে নামিয়ে আনা আমাদের জন্য সহজ হবে। এজন্য আমরা কম সুদে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের টাকা পেতে চেষ্টা করছি। তিনি মনে করেন, বাংলাদেশ ব্যাংক উদ্যোগ নিলে সরকারি ব্যাংকের টাকা কম সুদে পাওয়া যাবে।
ব্যাংক খাতের শীর্ষ কর্মকর্তাদের বক্তব্য হলো, যেসব ব্যাংক ৬ শতাংশ সুদে আমানত পাবে, কেবলমাত্র তারাই ৯ শতাংশ সুদে ঋণ বিতরণ করতে পারবে। দীর্ঘমেয়াদি আমানত ৬ শতাংশ সুদে পাওয়া না গেলে ব্যাংক খাতের শৃংখলা ভেঙে পড়বে বলে তাদের আশঙ্কা।
ব্যাংকগুলো ৬ শতাংশ সুদে ১০০ টাকার আমানত সংগ্রহ করলে সেখান থেকে সর্বোচ্চ ৮৫ টাকা ৯ শতাংশ সুদে ঋণ দিতে পারবে। আর ইসলামী ধারার ব্যাংকগুলো ১০০ টাকার আমানত থেকে ঋণ দিতে পারবে সর্বোচ্চ ৯০ টাকা।
এদিকে, গতকাল  সোমবার বাংলাদেশ ব্যাংকে ব্যাংকার্স সভা অনুষ্ঠিত হয়। এ সভায় সুদহার কমানোর বিষয়ে সুনির্দিষ্ট দিক নির্দেশনা দেয়া হয় ব্যাংকগুলোর এমডিদের।
এ প্রসঙ্গে আল আরাফাহ ইসলামী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. হাবিবুর রহমান বলেন, ২ জুলাই ব্যাংকার্স সভায় যে সিদ্ধান্ত হয়, আমরা সেভাবেই কাজ করবো।
তবে বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্র জানিয়েছে, মুক্তবাজার অর্থনীতিতে কিছু নীতিগত সহায়তা ছাড়া কেন্দ্রীয় ব্যাংকের করার কিছুই নেই। মুক্তবাজার অর্থনীতির নিয়ম ভেঙে সুদ হার কমানোর বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে কোনও নির্দেশনা দেবে না। বিষয়টি বাস্তবায়নের জন্য ব্যাংকগুলোর ওপর ছেড়ে দিয়েছে।
তবে নাম প্রকাশ না করার শর্তে নতুন প্রজন্মের একটি ব্যাংকের এমডি বলেন, সব ব্যাংক যদি একসঙ্গে আমানতের সুদহার ৬ শতাংশে নামিয়ে আনে, তবে ধাপে ধাপে সব ধরনের ঋণের সুদহার ৯ শতাংশে নামিয়ে আনা সম্ভব হবে।
 তিনি জানান, তার ব্যাংক গত মাসেও সাড়ে ১০ থেকে ১১ শতাংশ সুদে আমানত সংগ্রহ করেছে। এর সঙ্গে পরিচালন ব্যয় ২ থেকে ৩ শতাংশ যোগ করলে ওই আমানত থেকে ১৪ শতাংশের কম সুদে ঋণ বিতরণ করার সুযোগ সীমিত। তবে ব্যাংকের মালিকরা চাইলে ভিন্ন কথা।
ওই এমডির মতে, ব্যাংক লোকসান দিয়ে ৯ শতাংশ সুদে বিতরণ করলে পরে এমডিদের চাকরি নিয়ে টানাটানি হবে।
এদিকে, ৯ শতাংশ সুদে ঋণ বিতরণের ঘোষণা দিলেও বাংলাদেশ এসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স (বিএবি) থেকে ব্যাংকগুলোকে আমানতের সুদহারের সুনির্দিষ্ট নীতিমালা দেওয়া হয়নি। ফলে এক ব্যাংক তাকিয়ে আছে আরেক ব্যাংকের দিকে।
বিএবির ঘোষণা অনুযায়ী, ১ জুলাই থেকে তিন মাস মেয়াদি আমানতের সর্বোচ্চ সুদহার হবে ৬ শতাংশ আর ঋণের সুদহার হবে ৯ শতাংশ।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ