ঢাকা, মঙ্গলবার 3 July 2018, ১৯ আষাঢ় ১৪২৫, ১৮ শাওয়াল ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

খেলাপি ঋণই বিনিয়োগের ক্ষেত্রে অন্তরায় -এফবিসিসিআই

স্টাফ রিপোর্টার: নন-পারফর্মিং লোন (এনপিএল) বা খেলাপি ঋণ সমস্যা সমাধানে ব্যাংকিং খাতে উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন টাস্কফোর্স গঠনের প্রস্তাব করেছে ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআই। সংগঠনটির মতে, দীর্ঘদিন এ সুদের হার বিনিয়োগের ক্ষেত্রে অন্তরায় হিসেবে কাজ করছে।
গতকাল সোমবার মতিঝিল চেম্বার ভবনে অনুষ্ঠিত এক সাংবাদিক সম্মেলনে এফবিসিসিআই সভাপতি মো. শফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন এ প্রস্তাব করেন।
শফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন বলেন, ঋণ খেলাপি দুই ধরনের। এর মধ্যে কেউ ব্যবসায় মন্দার কারণে খেলাপি হয়। তাদের সহযোগিতা করতে হবে। অনেকে ইচ্ছাকৃতভাবে খেলাপি হয়। এই দুষ্টচক্রের কারণে ব্যাংকিং খাতে সমস্যা সৃষ্টি হচ্ছে। ব্যাংক ও আর্থিক খাতে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতেই ‘স্বাধীন ব্যাংক কমিশন’গঠনের বিষয়ে সরকারের সিদ্ধান্ত প্রক্রিয়াধীন।
সাংবাদিক সম্মেলনে এফবিসিসিআই সভাপতি বলেন, স্বল্প সুদে ও সহজ শর্তে দর কষাকষির মাধ্যমে বিশ্বব্যাংক থেকে অর্থায়ন গ্রহণের ব্যবস্থা নেওয়া হলে তা দেশের অবকাঠামোগত উন্নয়নে ব্যবহার করা সম্ভব। এই মুহূর্তে বিশ্বব্যাংকে ট্রিলিয়নস মার্কিন ডলার বিনিয়োগের অপেক্ষায় পড়ে আছে। এ অর্থ বিনিয়োগের জন্য বিশ্ব ব্যাংক বিভিন্ন দেশে সুযোগ খুঁজছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের মাধ্যমে বেসরকারি খাতও এ অর্থ ব্যবহার করার সুযোগ পেলে দেশের অর্থনীতিতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।
এফবিসিসিআইয়ের সভাপতি বলেন, ব্যাংকিং খাতে খেলাপি ঋণ একটি সংবেদনশীল ও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এই বছরের মার্চ প্রান্তিক শেষে ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণের পরিমাণ প্রায় ৮৮ হাজার ৫৮৯ কোটি টাকা। ব্যাংকিং ব্যবস্থাকে আরও দক্ষ ও বিনিয়োগবান্ধব করতে এই খেলাপি ঋণ না কমানোর কোনও বিকল্প নেই। এছাড়া এ সমস্যা সমাধানে ব্যাংকিং খাতে উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন একটি টাস্কফোর্স গঠন করার প্রস্তাব জানাচ্ছি। যে টাস্কফোর্স নন-পারফর্মিং লোনজনিত সমস্যার মূল কারণ চিহ্নিত করে তা সমাধানে সুপারিশ সম্বলিত প্রতিবেদন প্রণয়ন করবে। এ প্রতিবেদনের ভিত্তিতে জাতীয় স্বার্থে এ সমস্যার সমাধানে পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।
তিনি বলেন, ব্যাংকগুলোর ঝুঁকি ব্যবস্থাপনাকে আরো জোরদার করা প্রয়োজন। বিশেষ করে বড় অঙ্কের ঋণগুলো কমিয়ে আনার বিষয়ে কাঠামোবদ্ধ ব্যবস্থা নেওয়া একান্ত জরুরি।
তিনি আরো বলেন, ঋণ খেলাপি দুই ধরনের হয়ে থাকে। এর মধ্যে কেউ ব্যবসায় মন্দার কারণে খেলাপি হয়। তাদের সহযোগিতা করতে হবে। আবার অনেকে ইচ্ছাকৃতভাবে খেলাপি হয়। এই দুষ্ট চক্রের কারণে ব্যাংকিং খাতে সমস্যা সৃষ্টি হচ্ছে। এ চক্রকে আমরা  নৈতিকভাবে বয়কট করি। তাদের চিহ্নিত করে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে হবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ